২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

এবার সাদায় শুভ্রতা ছড়ানোর লড়াইয়ে বাংলাদেশ-ভারত

কয়েক মাসের টি-টোয়েন্টির ব্যস্ততা শেষে, ওয়ানডের লড়াইয়ের পর এবার টেস্ট ক্রিকেটের পরীক্ষায় নামছে দুই দল।

এবার সাদায় শুভ্রতা ছড়ানোর লড়াইয়ে বাংলাদেশ-ভারত

চট্টগ্রামে মঙ্গলবার অনুশীলনে কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ও অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। 

ক্রীড়া প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম থেকে

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Dec 2022, 08:45 PM

Updated : 13 Dec 2022, 10:35 PM

‘ইন্টেন্ট’, ‘ইম্প্যাক্ট’, ‘পাওয়ার’ এবং আরও অনেক কিছু; কয়েক মাস ধরে এই শব্দগুলির সঙ্গেই ছিল ক্রিকেটারদের নিত্য বসবাস। বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশের ক্রিকেট ছিল টি-টোয়েন্টির ঘোরে। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে সেই ধারা কিছুটা কেটেছে। এবার পুরোপুরি ভিন্ন ঘরানায় ডুব দেওয়ার পালা। সাদা পোশাক আর লাল বলে স্কিল, ধৈর্য ও মানসিকতা মিলিয়ে প্রথাগত ক্রিকেটের অভিজাত লড়াই। বলা হয় এজন্যই এই সংস্করণের নাম ‘টেস্ট’ ক্রিকেট, সত্যিকারের পরীক্ষা! 

সেই পরীক্ষায় বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ এবার কঠিন এক প্রতিপক্ষের সঙ্গে। আইসিসি টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় সেরা দল, নামের ধারে-ভারে-ঐতিহ্যে অনেক এগিয়ে থাকা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের লড়াই। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে খেলা শুরু বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায়। 

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ এই সিরিজ। 

টেস্ট থেকে দূরে থাকার পালায় দুই দলই প্রায় এক বিন্দুতে। বাংলাদেশ সবশেষ টেস্ট খেলেছে গত জুনের শেষ দিকে। ভারতের শেষটি ছিল জুলাইয়ের শুরুতে। দীর্ঘ সময় পর বড় দৈর্ঘের ক্রিকেটে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ তাই দুই দলের সামনেই। কিন্তু মিলের পালা ওখানেই শেষ। 

শক্তি-সামর্থ্যে কোনো তুলনাই চলে না দুই দলের। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গত আসরের ফাইনাল খেলা দল ভারত। এবারও তারা আছে ফাইনাল খেলার আশায়। বাংলাদেশ সেখানে আছে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ১১ টেস্টের ৯টিই জিতেছে ভারত, এর ৫টিতে জিতেছে ইনিংস ব্যবধানে। ড্র হয়েছে দুটি টেস্ট। সেই দুটিতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের চেয়ে ভূমিকা বেশি প্রকৃতির। বৃষ্টিতে খেলা হয়নি লম্বা সময়। 

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ ধুঁকে ধুঁকে এগোচ্ছে বরাবরই। এই আঙিনায় ২২ বছরের পথচলায়ও পায়ের নিচে শক্ত হয়নি জমিন। বিভিন্ন সময়ে স্মরণীয় কয়েকটি জয় অবশ্য ধরা দিয়েছে। তবে বাস্তবতার ছোবলে সেসব স্মৃতি মলিনও হয়ে গেছে দ্রুতই। এই যেমন, এই বছরের শুরুতেই নিউ জিল্যান্ড সফরে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে বেশ কজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে ছাড়াই ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ। কিন্তু সেই জয়কেই এখন মনে হয় যেন কোনো সুদূর অতীতের ঘটনা। পরের কয়েক মাসেই যে এসেছে একের পর এক বড় পরাজয়! নিউ জিল্যান্ডেই দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হার, দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে দুই টেস্টে বিধ্বস্ত হওয়া, এমনকি দেশের মাঠে শ্রীলঙ্কার কাছে ১০ উইকেটে নাস্তানাবুদ হওয়া এবং সবশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজেও দুটি টেস্টে পরাজয়, ওই এক ম্যাচের চমকের পর বাংলাদেশ আছে ব্যর্থতার বৃত্তে। 

বাংলাদেশের কোচ রাসেল ডমিঙ্গো অবশ্য শেষের ফলাফল দেখে বিচার করতে নারাজ। টেস্ট সিরিজ শুরুর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে তিনি বললেন, আগের ম্যাচগুলোয় লড়াইয়ের প্রেরণা নিয়ে তারা ভারতের বিপক্ষেও করতে চান ভালো কিছু। 

“আমরা টেস্ট হেরেছি বটে, তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিক থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে আমাদের। আমরা জানি যে খুব ভালো একটি ভারতীয় দলের সঙ্গে আমাদের লড়তে হবে এমন কন্ডিশনে, যা তাদের খুব অপরিচিত নয়। আমাদের চেষ্টা থাকে প্রতিটি সিরিজ জয়ের। এই সিরিজ ঘরের মাঠে, তাই আমার প্রত্যাশা একটু বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা।” 

“খেলাটাকে পঞ্চম দিনে নিতে চাই আমরা। সেখানে গিয়ে দেখব, জয়ের অবস্থা আছে কি না। বাস্তবিকভাবে, তাদেরকে হারানোর সম্ভাবনা আমাদের আছে, যদি আমরা খুব ভালো খেলি। গত বছর থেকে আমরা এটা কিছুটা সময় ধরে করতে পেরেছি, তবে যথেষ্ট লম্বা সময় ধরে রাখতে পারিনি। জানি, এই সিরিজটা কঠিন হবে। তবে আমার আশা, ভারতকেও আমরা কঠিন লড়াইয়ে ফেলতে পারব।” 

বোংলাদেশ সিরিজ শুরু করছেই খর্বশক্তির দল হয়ে। অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল খেলতে পারছেন না চোটের কারণে। কদিন আগে চোট কাটিয়ে ফেরা ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদকে এখনই টেস্টে নামিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না দল। কোচ ডমিঙ্গো জানিয়ে দিয়েছেন, এই টেস্টে অভিষেক হচ্ছে ওপেনার জাকির হাসানের। উইকেটের পেছনে থাকবেন নুরুল হাসান সোহান। 

ওয়ানডে সিরিজে পাওয়া চোট ভোগাচ্ছে সাকিব আল হাসানকেও। তবে বাংলাদেশ অধিনায়কের খেলা নিয়ে শঙ্কা খুব একটা নেই। গত জুনে নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়া মুমিনুল হক অবশ্য একাদশে জায়গা পাবেন না বলেই ধারণা করা যায়। 

মাহমুদুল হাসান জয় ও জাকির হাসানকে ওপেনিংয়ে রাখলে, বাংলাদেশের একাদশের পরের সম্ভাব্য নামগুলি হতে পারে নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, লিটন কুমার দাস, নুরুল হাসান সোহান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তাসকিনের বিশ্রামে দুই পেসার হিসেবে ইবাদত হোসেন ও সৈয়দ খালেদ আহমেদের খেলা অনেকটাই নিশ্চিত। বাকি একটি জায়গার জন্য লড়াই হতে পারে পেসার শরিফুল ইসলাম ও বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের। কন্ডিশন-উইকেট বিবেচনায় তাইজুলই এগিয়ে থাকার কথা সম্ভাবনায়। 

খর্বশক্তির দল নিয়ে সিরিজ শুরু করবে ভারতও। নিয়মিত অধিনায়ক রোহিত শর্মা, সহ-অধিনায়ক জাসপ্রিত বুমরাহকে পাচ্ছে না তারা চোটের কারণে। নেতৃত্ব দেবেন লোকেশ রাহুল। চোটের কারণে নেই অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা, পেসার মোহাম্মদ শামির মতো অভিজ্ঞ নামও। তবে ভারতীয় দলের শক্তির গভীরতা এমন, এই ক্রিকেটারদের ছাড়াই তারা সিরিজ শুরু করবে পরিষ্কার ফেবারিট হিসেবে। 

চট্টগ্রামের উইকেটই বরাবরই কথা বলে ব্যাটসম্যানদের হয়ে। এবারও ব্যতিক্রম হওয়ার কথা নয়। ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপের সামনে তাই কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে বাংলাদেশের বোলারদের। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বড় প্রতিপক্ষ তো বরাবরই নিজেরা! তাদের চ্যালেঞ্জ ভারতের বোলারদের কাজ কঠিন করে তোলা। 

কোচের চাওয়ামতো যদি ম্যাচ শেষ দিনে নিতে পারে বাংলাদেশ, রোমাঞ্চকর কিছু তখন অপেক্ষায় থাকতেও পারে। তবে সবার আগে তো শুরুর চ্যালেঞ্জ! শেষের সাফল্যের বীজ বপন করতে হয় শুরুর দিনেই। সাকিব আর রাহুলরা তাকিয়ে তেমন শুরুর আশায়।