১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

১৫ বলে ৫ উইকেট, সাত ব্যাটসম্যানের শূন্যসহ আরও যত রেকর্ড

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ২৭ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে রেকর্ড বইয়ের অনেক পাতা ওলট-পালট করেছেন মিচেল স্টার্ক, স্কট বোল্যান্ডরা।

১৫ বলে ৫ উইকেট, সাত ব্যাটসম্যানের শূন্যসহ আরও যত রেকর্ড
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের হাসি। ছবি: ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Jul 2025, 02:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:23 PM

টেস্ট ক্রিকেটের পাগলাটে এক দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ে রীতিমতো তাণ্ডব চালালেন মিচেল স্টার্ক। সঙ্গে যোগ দিলেন স্কট বোল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার দুই পেসারের তোপে মাত্র ২৭ রানে গুটিয়ে গেল ক্যারিবিয়ানরা। নতুন করে লেখা হলো অনেক কীর্তি, বদলে গেল কিছু রেকর্ড।

জ্যামাইকার স্যাবাইনা পার্কে দিবারাত্রির টেস্টে তৃতীয় দিন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিব্রতকর অভিজ্ঞতার স্বাদ দিয়ে বড় ব্যবধানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। শততম টেস্ট খেলতে নেমে মাত্র ৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে নায়ক স্টার্ক। 

একনজরে দেখে নেওয়া যাক এই ম্যাচের যত রেকর্ড ও পরিসংখ্যান

তলানি (১)

টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দলীয় স্কোরের বিব্রতকর রেকর্ড গড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর চেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার নজির আছে শুধু নিউ জিল্যান্ডের। ১৯৫৫ সালের অকল্যান্ড টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৬ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল কিউইরা।

এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ৪৭, একই ভেন্যুতে ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

তলানি (২)

দুই ইনিংস মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ মাত্র ১৭০ রান। দুবার অলআউট হওয়া ম্যাচে এটি তাদের সর্বনিম্ন। ১৯৫৭ সালে দা ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৭৫ রান করেছিল ক্যারিবিয়রা।

সংক্ষিপ্ত ইনিংস

মাত্র ১৪.৩ ওভারে অলআউট হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টেস্ট ইতিহাসে এর চেয়ে দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার রেকর্ড আছে আর মাত্র দুটি।

১৯২৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২.৩ ওভারে ৩০ রানে অলআউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৩.৫ ওভারে ৪২ রানে থামে শ্রীলঙ্কার ইনিংস।

সংক্ষিপ্ত ম্যাচ 

জ্যামাইকা টেস্টের ৪ ইনিংস মিলিয়ে হয়েছে ৫১৬ রান। ১৯১০ সালের পর থেকে খেলা টেস্টে দুই দলই দুবার অল আউট হওয়া ম্যাচে এটিই সর্বনিম্ন সম্মিলিত স্কোর। 

ঢাকায় ১৯৫৯ সালে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে সব মিলিয়ে হয়েছিল ৫৩৭ রান।

সংক্ষিপ্ত ম্যচ (২)

জ্যামাইকায় ৪ ইনিংস মিলিয়ে খেলা হয়েছে ১ হাজার ৪৫ বল। ১৯১০ সালের পর থেকে খেলা টেস্টে এটিই সবচেয়ে কম বলে শেষ হওয়া ম্যাচ।

লর্ডসে ২০১৯ সালে ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের ম্যাচ শেষ হয়েছিল ১ হাজার ৫৩ বলে।

শূন্যের মেলা

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাত ব্যাটসম্যান কোনো রান না করেই ধরেন ড্রেসিং রুমের পথ। এই প্রথম টেস্ট ইতিহাসে এক ইনিংসে দেখা গেল সাত ব্যাটসম্যানের শূন্য রানে আউট হওয়ার ঘটনা।

এক ইনিংসে ছয় ব্যাটসম্যানের শূন্য রানে আউট হওয়ার নজির আছে ৯টি।

টপ-অর্ডারের ভূত 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের চারজন আউট হন শূন্য রানে। বাকি দুজন মিলে করেন মাত্র ৬ রান। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের সর্বনিম্ন সম্মিলিত সংগ্রহ এটি।

সিডনিতে ১৮৮৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের ১২ রান ছিল আগের রেকর্ড। 

দ্রুততম (১)

মাত্র ১৫ বলে ৫ উইকেট নেন স্টার্ক। টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত ৫ উইকেটের রেকর্ড এটি।

এত দিন রেকর্ডটি ছিল তিন জনের। ব্রিজবেনে ১৯৪৭ সালে ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার আর্নি টোশাক, নটিংহ্যামে ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্টুয়ার্ট ব্রড ও মেলবোর্নে ২০২১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্কট বোল্যান্ড- তিন জনই ১৯ বলে নেন ৫ উইকেট।

দ্রুততম (২)

ইনিংসে চতুর্থ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ৪০০ উইকেট পূর্ণ করেন স্টার্ক। মাইলফলক ছুঁতে তার লাগে ১৯ হাজার ৬২ বল।

এর চেয়ে কম বলে ৪০০ উইকেটের রেকর্ড আছে শুধু ডেল স্টেইনের, ১৬ হাজার ৬৩৪ বল।

৪০০ নিয়ে আরও

টেস্টে ৪০০ উইকেট নেওয়া অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ বোলার স্টার্ক। আগের তিন জন- শেন ওয়ার্ন, গ্লেন ম্যাকগ্রা, ন্যাথান লায়ন। 

বিশ্বে বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে ৪০০ উইকেট নেওয়া দ্বিতীয় বোলার স্টার্ক। তার সামনে শুধু ওয়াসিম আকরাম (৪১৪ উইকেট)। বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে এ দুজন ছাড়া ৪০০ উইকেট আছে শুধু রাঙ্গানা হেরাথের (৪৩৩)

সব মিলিয়ে টেস্ট ইতিহাসে ৪০০ উইকেট নেওয়া ১৮তম বোলার স্টার্ক।

শুরুর রাজা

ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ওভারে ৩ উইকেট নেন স্টার্ক। টেস্ট ইতিহাসে ইনিংসের প্রথম ওভারে ৩ উইকেট নেওয়া দ্বিতীয় বোলার তিনি।

করাচিতে ২০০৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম ওভারে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ভারতের ইরফান পাঠান। 

শততম ম্যাচের রাজা

ক্যারিয়ারের ১০০তম ম্যাচ খেলতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে স্টার্কের শিকার ৯ রানে ৬ উইকেট। টেস্ট ইতিহাসে কোনো ক্রিকেটারের শততম ম্যাচে এটিই সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড।

২০০৬ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজের শততম ম্যাচে ৫৪ রানে ৬ উইকেট নিয়ে এত দিন রেকর্ডটি ছিল মুত্তাইয়া মুরালিধারানের।

হ্যাটট্রিক হিরো বোল্যান্ড

বোল্যান্ডের সৌজন্যে প্রায় ১৫ বছর পর টেস্টে হ্যাটট্রিকের দেখা পেল অস্ট্রেলিয়া। এর আগে ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবশেষ হ্যাটট্রিক করেছিলেন পিটার সিডল। 

সব মিলিয়ে হ্যাটট্রিক করা অস্ট্রেলিয়ার দশম বোলার বোল্যান্ড। টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার হ্যাটট্রিক এখন ১২টি। তাদের চেয়ে বেশি হ্যাটট্রিক শুধু ইংল্যান্ডের, ১৫টি।

দিবারাত্রির টেস্টে হ্যাটট্রিক করা প্রথম বোলার বোল্যান্ড।