Published : 18 Dec 2025, 05:24 PM
চা-বিরতির কিছুক্ষণ পর টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়লেন কেন উইলিয়ামসন। প্যাড-গ্লাভস-হেলমেট সব পরেই ড্রেসিং রুমে ব্যাটিংয়ের শ্যাডো করছিলেন তিনি। সেই সকাল থেকেই প্রস্তুত হয়ে বসে থেকে হয়তো শরীর জমে গিয়েছিল তার। কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষ হয়নি নিউ জিল্যান্ডের তিন নম্বর ব্যাটসম্যানের, প্রথম দিনে তাকে ব্যাটিংয়েই নামতে হয়নি! ডেভন কনওয়ে ও টম ল্যাথামের উদ্বোধনী জুটিতে রেকর্ডময় দিন কাটিয়েছে দল।
সারাদিন বলের পেছনে ছুটোছুটি করে শেষ বেলায় একটি উইকেটের দেখা পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তখন উইলিয়ামসনকে না পাঠিয়ে নাইটওয়াচম্যান জেকব ডাফিকে পাঠায় নিউ জিল্যান্ড। মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের প্রথম দিন শেষে কিউইদের রান ১ উইকেটে ৩৩৭।
২৪৬ বল খেলে ১৩৭ রানে আউট হন অধিনায়ক টম ল্যাথাম। সিরিজে তার টানা দ্বিতীয় আর ক্যারিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি এটি। ওপেনার হিসেবে ৬ হাজার টেস্ট রানও পেরিয়ে গেছেন এই বাঁহাতি।
ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরিকে দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার আশায় কনওয়ে দিন শেষে অপরাজিত ২৭৯ বলে ১৭৮ রানে।
দুজনের উদ্বোধনী জুটিতে রান আসে ৩২৩।
শুরুর জুটিতে নিউ জিল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান এটি। ১৯৭২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ৩৭২ রানের জুটি গড়েছিলেন টেরি জার্ভিস ও গ্লেন টার্নার। সেই জুটি ছিল গায়ানায়। দেশের মাঠে কিউইদের সেরা উদ্বোধনী জুটি তাই কনওয়ে-ল্যাথামের এই জুটিই।
অথচ সকালে টস হেরেও দারুণ খুশি ছিলেন রস্টন চেইস। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জানান, টস জিতলে বোলিংই নিতেন তিনি। খুশি তার হওয়ারই কথা। এই মাঠে সাধারণত ৭ থেকে ১০ মিলিমিটার ঘাস রাখা হলেও এবার রাখা হয়েছে ১৩ মিলিমিটার ঘাস!
সেই সবুজ উইকেটেই আগে ব্যাটিংয়ের চ্যালেঞ্জ নেন টম ল্যাথাম। দেশের মাঠে ২৫ টেস্ট পর নিউ জিল্যান্ডের কোনো অধিনায়ক টস জিতে আগে ব্যাটিং নিলেন। সময় যত গড়াল, ততই প্রমাণ হলো, তার সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক!
ক্যারিবিয়ান বোলারদের শুরুটা ছিল বেশ আঁটসাঁট। প্রথম আট ওভারে রান ওঠে ১১। এরপর আস্তে আস্তে বাউন্ডারি আসতে থাকে। আলগা হয় চাপ, বাড়তে থাকে রানের গতি। এক পর্যায়ে সাবলিল গতিতে ছুটতে থাকেন দুই ব্যাটার, আটকানোর কোনো পথ পায়নি বোলাররা।
প্রথম সেশনে আসে ৮৩ রান। দুই ব্যাটসম্যান তখন ছিলেন কাছাকাছিই।
লাঞ্চের পর আগে ফিফটিতে পা রাখেন কনওয়ে। ৮৯ বলে আসে তার পঞ্চাশ। পরের সময়টায় ওয়ানডের গতিতে খেলে শতরান পূর্ণ করেন তিনি ১৪৭ বল খেলে।
১০২ বলে ফিফটি করা ল্যাথাম শতরানে পা রাখেন ১৮৩ বলে।
শতরানের পরপর একটি সুযোগ তিনি দিয়েছিলেন। কিন্তু অ্যান্ডারসন ফিলিপের বলে ক্যাচটি নিতে পারেননি কিপার টেভিন ইমলাখ।
শেষ পর্যন্ত এই জুটি থামে দিনের একদম শেষ বেলায়। ৮৪তম ওভারে দ্বিতীয় নতুন বল নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৮৭তম ওভারে কিমার রোচের দারুণ একটি ডেলিভারিতে শেষ হয় ল্যাথামের ইনিংস। স্লিপে বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন চেইস।
একটু পর ডাফিকে নিয়ে কনওয়ে মাঠ ছাড়েন অপরাজিত থেকে।
বোলার একজন কমিয়ে ব্যাটসম্যান বাড়তি নিয়ে একাদশ সাজানো ক্যারিবিয়ানদের ধুঁকতে হয় দিনজুড়েই। দারুণভাবে ফিরতে না পারলে তাদের সামনে ভোগান্তি অপেক্ষায় দ্বিতীয় দিনেও।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৯০ ওভারে ৩৩৭/১ (ল্যাথাম ১৩৭, কনওয়ে ১৭৮*, ডাফি ৯*; রোচ ১৯-৩-৬৩-১, সিলস ২১-১-৬৭-০, ফিলিপ ১৪-২-৭১-০, গ্রেভস ১৭-২-৫৫-০, চেইস ১৯-০-৭৫-০)।