Published : 29 Nov 2025, 04:15 PM
নিজ আঙিনায় প্রতিপক্ষের জন্য স্পিনের যে ফাঁদ পাতে ভারত, গত এক বছরে সেই ফাঁদে পড়ে নিজেরাই খেয়েছে নাকানিচুবানি। ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনেই ঘায়েল হয়েছে তারা। চেনা কন্ডিশনে দলটির এই ভরাডুবির পেছনে দুটি কারণ খুঁজে পেয়েছেন দেশটির সাবেক ব্যাটসম্যান ও ধারাভাষ্যকার সাঞ্জায় মাঞ্জরেকার।
গত বছরের নভেম্বরে তিন ম্যাচের সিরিজে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশড হয় ভারত। এক যুগ পর ঘরের মাঠে যা ছিল তাদের প্রথম কোনো টেস্ট সিরিজে হার।
সেই ব্যর্থতা ভুলে নিজ ডেরায় চলতি বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে ভারত। কিন্তু নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলতে নেমে ফের ধরাশায়ী হয় দলটি।
কলকাতায় স্পিন মঞ্চ সাজিয়ে তিন দিনে হেরে যায় তারা ৩০ রানে। গুয়াহাটিতে পরের ম্যাচে প্রোটিয়াদের কাছে পাত্তাই পায়নি স্বাগতিকরা। রানের দিক থেকে নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ৪০৮ রানের ব্যবধান হারে ভারত।
ঘরের মাঠে ১২ মাসের মধ্যে দুটি টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশড হওয়া ভারতকে নিয়ে এখন চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। তাদের পারফরম্যান্স, খেলার ধরন নিয়ে হচ্ছে কাটাছেঁড়া। সেখানে যোগ দিয়েছেন মাঞ্জরেকারও।
ভারতের হয়ে ৩৭ টেস্ট খেলা মাঞ্জরেকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে বলেন, ঘরের মাঠে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের এখন ‘প্রবাসী’ মনে হয় তার। দেশের কন্ডিশন যেন তার উত্তরসূরিদের কাছে বড়ই অচেনা।
“দুটি কারণে ভারত ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের কাছে ৩-০ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে হেরেছে। আর দুই দলই তাদেরকে পেস, সুইং বা বাউন্স দিয়ে হারায়নি, স্পিন দিয়ে হারিয়েছে।”
“একটি কারণ হলো, যখন একজন ভারতীয় ব্যাটসম্যান ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রচুর রান করে এবং ভারত দলে ডাক পায়, তখন সে একজন প্রবাসীর মতো হয়ে যায়। তাকে দেখে মনে মনে হয়, সে ঘরের মাঠে খুব কম খেলে। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মনে হয় যেন তারা বিদেশের মাটিতে খেলছে।”
এরপর মাঞ্জরেকার তুলে ধরেন নিজেদের কন্ডিশনে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের ভালো করতে না পারার আরেকটি বড় কারণ।
“পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে, ইয়াশাসভি জয়সওয়াল, লোকেশ রাহুল, শুবমান গিল, রিশাভ পান্তের মতো ক্রিকেটাররা গত দুই বছরে দেশের বাইরে ৯ থেকে ১২টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে, আর ভারতে এত বেশি ম্যাচ খেলেনি। আর যখন তারা ঘরের মাঠে টেস্ট খেলে, (তার আগে) খুব কমই প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে। তাই তারা খুব বাজে প্রস্তুতি নিয়ে বা এই ধরণের পিচে খেলার সাম্প্রতিক কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই খেলতে নামে।”