Published : 15 Sep 2026, 10:17 PM
ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরের আসরে সফল হতে ভারতের এখনই দল গড়ে সেটির ওপর শেষ পর্যন্ত আস্থা রাখা উচিত বলে মনে করেন ইউভরাজ সিং। শেষ মুহূর্তে দলে বড় কোনো পরিবর্তন না আনতে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন দেশটির বিশ্বকাপজয়ী অলরাউন্ডার।
অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণ টেনে ভারতকে ম্যাচ জেতানো ক্রিকেটারদের দলে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
ওয়ানডে বিশ্বকাপের চতুর্দশ আসর মাঠে গড়াতে এখনও এক বছরের বেশি সময় বাকি। ২০২৭ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টটি। ভারতকে মাঝের এই সময়টাকে কাজে লাগাতে বলেছেন ইউভরাজ।
১৯৮৩ সালের পর ২০১১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে ভারত। পরের দুই আসরে সেমি-ফাইনাল থেকে ছিটকে যায় তারা। আর ২০২৩ সালে ঘরের মাঠের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরে যায় এশিয়ার দলটি।
২০১১ সালে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন ইউভরাজ। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও জেতেন তিনি। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর সঙ্গে আলাপকালে স্পিনিং অলরাউন্ডার বলেছেন, পরের বছরের বিশ্বকাপকে নজরে রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করা উচিত ভারতের।
“এক বছর পর যে দলটি (বিশ্বকাপে) খেলবে, এখন থেকেই সেটা গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেওয়া দরকার। কারণ শেষ মুহূর্তে নিশ্চয় দলে বড় পরিবর্তন আনতে চাইবেন না। তারা যে-ই হোক, খেলোয়াড় সংখ্যা ১৬ হোক কিংবা ২০, সবাইকে পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখন টি-টোয়েন্টি বেশি এবং ৫০ ওভারের ক্রিকেট কম হচ্ছে। যে ম্যাচগুলো আছে, বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য সেগুলোতে খেলোয়াড়দের যথেষ্ট সময় মাঠে থাকা জরুরি।
“ভারত যতবার ব্যর্থ হয়েছে, সেটা মূলত শেষ মুহূর্তে বা টুর্নামেন্ট চলাকালীন বড় পরিবর্তন আনার কারণে। তাই আমার মনে হয়, যে দলটি ২০২৭ বিশ্বকাপ জিততে পারবে বলে বিশ্বাস করি, সেই দলেই স্থির থাকা উচিত। তারা ব্যর্থ হোক বা সফল, সেই সময় পর্যন্ত তাদের ওপর আস্থা রাখা দরকার। স্কোয়াডের ওপর বিশ্বাস রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য ভারতের প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ দিয়ে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু সিরিজটি। ভারতের ওয়ানডে দল নিয়ে কিছু প্রশ্ন অনেকদিন ধরেই ঘুরছে। বিশেষ করে, সাবেক অধিনায়ক রোহিত শার্মা, ভিরাট কোহলিরা থাকবেন কিনা, সেটা নিয়ে চলছে আলোচনা।
আবার বিশ্বকাপ যেহেতু আফ্রিকা অঞ্চলে, তাই পেস বোলিং অলরাউন্ডারদের নিয়েও আগ্রহ বেড়েছে। চোটে ভুগতে থাকা হার্দিক পান্ডিয়ার বিষয়টিও তাই আলোচনায় আছে।
ব্যাটিংয়ে গভীরতা বাড়াতে অলরাউন্ডারদের বেশি রাখার প্রবণতা আগেও দেখা গেছে ভারতের। ইউভরাজও তাদের গুরুত্ব স্বীকার করেন। তবে তার মতে, কোন খেলোয়াড় কোন ভূমিকায় খেলেন, সেটির চেয়ে ম্যাচ জেতাতে পারেন এমন ক্রিকেটারদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
“কোনো দলে বেশি অলরাউন্ডার থাকে, কোনো দলে নির্দিষ্ট ব্যাটার ও বোলার বেশি থাকে। আপনাকে সেরা কম্বিনেশন বেছে নিতে হবে। সেরা কম্বিনেশনে সবসময় ১২, ১৩ বা ১৪ জন খেলোয়াড় থাকবে এবং কন্ডিশন অনুযায়ী ১৫তম খেলোয়াড়কে বেছে নিতে হবে।
“অতিরিক্ত স্পিনার, ফাস্ট বোলার কিংবা অলরাউন্ডার- যাকেই খেলাতে চান, সেরাকেই নিতে হবে। সেরা ১১ জন ম্যাচজয়ী খেলোয়াড় নিয়ে মাঠে নামতে হবে, যাদের মনে করেন ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য আছে।”
সবচেয়ে বেশি ছয়বার ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। ইউভরাজ মনে করেন, খেলোয়াড় নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং তাদের মধ্যে বোঝাপড়াই অস্ট্রেলিয়ার মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
“অস্ট্রেলিয়ার সফল হওয়ার এটাই একটি কারণ। আমি বিশ্বাস করি, তারা যখনই বিশ্বকাপ জিতেছে, তখন তাদের দলে অনেক ম্যাচ জেতানো খেলোয়াড় ছিল, যারা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারত। নির্দিষ্ট দিনে একজন দায়িত্ব পালন করেছে। আবার যখন চাপে পড়েছে, তখন সবাই মিলে ম্যাচ বের করে নিয়েছে।”
২০২৪ ও ২০২৬ টানা দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়েছে ভারত। এখান থেকেও শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইউভরাজ।
“গত দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরাও সেটাই করেছি। (২০২৩ সালে) আমরা ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের ফাইনালেও খেলেছি। সাদা বলের ক্রিকেটে আমাদের অনেক ধারাবাহিকতা ছিল। এবারও সেটাই করতে হবে, একইভাবে প্রথমে সেমি-ফাইনালে ওঠা এবং তারপর শেষের দুটি নকআউট ম্যাচের চিন্তা করতে হবে।
“তবে সেটি এখনো অনেক দূরের পথ। এখন মনোযোগ দেওয়া উচিত এমন একটি স্কোয়াড প্রস্তুত করার দিকে, যারা একসঙ্গে থাকবে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত থাকবে।”