১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রসিংটনের কিপিংয়ে ধোনির ছবি দেখছেন মেহেদি

এক ম্যাচে চারটি স্টাম্পিং করে বিপিএল রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি বিশ্বরেকর্ড ছুঁয়েছেন চট্টগ্রাম র‌য়্যালসের ইংলিশ কিপার অ্যাডাম রসিংটন।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Jan 2026, 06:58 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:29 PM

মাহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে তুলনা মানে যে কোনো কিপারের জন্য সর্বোচ্চ প্রাপ্তির মতো। বিশেষ করে সেটা যদি হয় স্পিন বোলিংয়ে কিপিং করা নিয়ে। অ্যাডাম রসিংটনকে সেই সম্মানই দিলেন শেখ মেহেদি হাসান। চট্টগ্রাম রয়্যালসের কিপারের দারুণ পারফরম্যান্সে তার অধিনায়কের মনে পড়ে যাচ্ছে ভারতীয় কিংবদন্তিকে।

বিপিএলে শুক্রবার ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ম্যাচে দুর্দান্ত এই কিপিং পারফরম্যান্স দেখান রসিংটন। চারটি স্টাম্পিং করে তিনি স্পর্শ করেন টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি স্টাম্পিংয়ের বিশ্বরেকর্ড। বিপিএলে তো তার কীর্তি অনন্য। তার আগে চারটি স্টাম্পিংয়ের স্বাদ পাননি আর কেউ।

শুধু সংখ্যাতেই নয়, রসিংটন নজর কাড়েন দক্ষতায়ও। স্পিন বোলিংয়ে কিপিংয়ে তার টেকনিক ছিল নিখুঁত, রিফ্লেক্স ছিল অসাধারণ। বিশেষ করে প্রথম দুটি স্টাম্পিংয়ে চোখের পলকে বেলস ফেলে দেন তিনি।

কিপিংয়ে রেকর্ড গড়ার পর ব্যাট হাতেও নিজের সামর্থ্য দেখিয়ে দেন রসিংটন। ৩৬ বলে ৬০ রান করে অপরাজিত থাকেন ইংলিশ এই ক্রিকেটার। ১০ উইকেটের জয়ে ম্যাচ সেরা হন তিনিই।

আগের ম্যাচে বিপিএল অভিষেকে তিনি আউট হয়েছিলেন ১ রানে। কোনো ডিসমিসালও ছিল না। সেদিন সকালেই সিলেট পৌঁছে দুপুরে ম্যাচ খেলতে নেমে পড়েছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে না পারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে প্রমাণ করলেন নিজের উপযোগীতা।

সম্প্রতি নেপাল প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ রান স্কোরার ছিলেন তিনি। এখন বিপিএলেও সত্যিকার অর্থে শুরু হলো তার অভিযান।

ম্যাচের পর রসিংটনের কথা বলতে গিয়ে চট্টগ্রাম অধিনায়ক শেখ মেহেদি টেনে আনলেন ধোনিকে।

“সে ছিল অসাধারণ। তার কিপিং এমএসের মতো হয়েছে, এমএস ধোনি… দুর্দান্ত কিপিং করেছে এবং পরে ওপেন করতে নেমে ম্যাচ শেষ করে ফিরেছে। দারুণ।”

ম্যাচের পর টি-স্পোর্টসে আলোচনায়ও ধারাভাষ্যকার রামিজ রাজা বললেন, রসিংটনের কিপিং টেকনিক দেখে তার মনে পড়ছে ধোনিকে।

রসিংটন অবশ্য রেকর্ডের কথা জানতেন না। ম্যাচ-সেরার পুরস্কার নিয়ে রেকর্ডের কথা শুনে তিনি উচ্ছ্বসিত।

“নাহ, জানতাম না। শুনে দারুণ লাগছে। কিপিং আমি সত্যিই উপভোগ করি, অনেক দিন ধরেই করছি এটা। রেকর্ডের কথা জেনে ভালো লাগছে।”

নিজে ম্যাচের সেরা হলেও তিনি কৃতিত্ব দিলেন দলের বোলারদের। তিনটি করে উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম ও তানভির ইসলাম, দুটি নেন মেহেদি। ব্যাটিং উইকেটেও ঢাকাকে ১২২ রানে আটকে রাখে চট্টগ্রাম।

রসিংটনের মতে, ম্যাচের ভাগ্য গড়া হয়ে যায় সেখানেই।

“দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে ভালো লাগছে। তবে আমাদের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছে বোলাররা। উইকেট বেশ ভালো ছিল (ব্যাটিংয়ের জন্য)। সেই উইকেটে ওদেরকে এই রানে আটকে রাখা ছিল অসাধারণ।”