Published : 04 Aug 2026, 10:49 AM
এই টেস্ট সিরিজ শুরুর সময় ক্যারিবিয়াতেই ছিলেন আব্দুল্লাহ শাফিক। তবে টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে তার দূরত্ব ছিল যোজন যোজন। লাহোর কালান্দার্সের হয়ে গ্লোবাল সুপার লিগ টি-টোয়েন্টি খেলছিলেন তিনি গায়ানায়। আব্দুল্লাহ ফাজালের চোটে আচমকাই টেস্ট দলে ডাক পেয়ে গেলেন তিনি। জরুরি বার্তায় গায়না থেকে উড়ে গেলেন ত্রিনিদাদে। এরপর একাদশেও জায়গা পেয়ে গেলেন চোটের কারণে শান মাসুদ ছিটকে পড়ায়। দুজনের দুর্ভাগ্যের সৌজন্যে পাওয়া সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে উপহার দিলেন তিনি সেঞ্চুরি।
১০ মাস পর টেস্ট খেলতে নেমেই সেঞ্চুরি করলেন শাফিক। টেস্টে তিন অঙ্কের স্বাদ পেলেন তিনি প্রায় দুই বছর পর। প্রায় চার বছর ও ৩৪ ইনিংসের টেস্ট সেঞ্চুরির খরা ঘোচানোর অপেক্ষায় বাবর আজম। দুজনের দারুণ জুটিতে ত্রিনিদাদ টেস্টে শক্ত অবস্থানে পাকিস্তান।
ব্যাটসম্যানদের আগে পাকিস্তানের বোলাররাও অবদান রাখেন তাদের মতো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৩৪৪ রানে। দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসের রান ২ উইকেটে ২৬৬।
১০৭ রান নিয়ে দিন শেষ করেছেন শাফিক। ২৫ টেস্টে তার ষষ্ঠ শতরান এটি। দশম শতরান থেকে ১৪ রান দূরে অপরাজিত বাবর।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দিন শুরু করে ৫ উইকেটে ২৩৯ রান নিয়ে। জাস্টিন গ্রেভস ও রস্টন চেইসের জুটি নতুন দিনের শুরুটাও করে ভালো। ৮২ ওভার শেষে নতুন বল নিয়ে বাঁহাতি স্পিনার উসমান আলির হাতে তুলে দেন অধিনায়ক বাবর। সাফল্য মেলে তখনই। নতুন বলের প্রথম ডেলিভারিই বিদায় নেন ৭৩ রান করা গ্রেভস।
চেইস এবার লড়াই চালিয়ে যান কিমার রোচকে নিয়ে। ১২ ওভারে ৩৫ রানের জুটি ভাঙেন উবেইদ শাহ। দিনের প্রথম ডেলিভারিতেই তিনি বোল্ড করেন দেন চেইসকে (৭০)। অভিষিকের দিনে এলোমেলো বোলিং করা পেসার দ্বিতীয় দিনে ছিলেন বেশ গোছানো।
অধিনায়কের বিদায়ের পর আর বেশিক্ষণ টেকেনি ইনিংস। লোয়ার অর্ডারে দ্রুত রান তুলতে সক্ষম শামার জোসেফকে এবার দ্রুত ফেরান সাজিদ খান। শেষ দুটি উইকেটও নিয়ে চার উইকেটে শেষ করেন এই ম্যাচেই একাদশে ফেরা অফ স্পিনার।
প্রথম দিনের মতো উইকেটে টার্ন ও গ্রিপ ছিল না এ দিন। বরং অনেকটাই সহজ হয়ে আসে উইকেট। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা তা কাজে লাগান ভালোভাবেই।
উদ্বোধনী জুটি যদিও খুব লম্বা হয়নি। ১৪ রানে আউট জন ইমাম-উল-হাক। তবে আরেক ওপেনার আজান আওয়াইস দারুণ কিছু শট খেলেন। দ্বিতীয় উইকেটে শাফিকের সঙ্গে তার জুটি হয় ৬৪ রানের।
১০ চারে ৫৫ রান করা ব্যাটসম্যান আউট হন জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে সুইপ খেলার চেষ্টায়। ক্যারিবিয়ান বোলারদের সাফল্য শেষ সেখানেই।
শাফিক ও বাবরের জুটিতে উইকেট যেমন পড়েনি, রানও এসেছে দ্রুত। গোটা শেষ সেশনে কোনো উইকেট হারায়নি পাকিস্তান। ক্যারিবিয়ান পেসাররা ছিলেন ধারহীন। শামার জোসেফের কিছু ডেলিভারি ১৫০ কিলোমিটার গতি ছাড়ালেও তিনি ছিলেন এলোমেলো। স্পিনাররাও রাখতে পারেননি প্রভাব।
দিন শেষে ১০ চার ও ২ ছক্কায় ১৮৫ বলে ১০৭ রানে অপরাজিত শাফিক, বাবরের রান ১০ চার ও ১ ছক্কায় ১২৬ বলে ৮৬। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটির রান ১৬৮।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ১০৫.৪ ওভারে ৩৪৪ (আগের দিন ২৩৯/৫) (গ্রেভস ৭৩, চেইস ৭০, রোচ ১৯, শামার ৮, ওয়ারিক্যান ৫*, সিলস ৮; আলি ২২-৬-৬৭-২, উবেইদ ১৪-১-৬৬-২, উসমান ৩৫-৯-৮০-২, সাজিদ ৩২.৪-৪-৮০-৪, সালমান২-০-১৩-০)।
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৬৬ ওভারে ২৬৬/২ (আজান ৫৫, ইমাম ১৪, শাফিক ১০৭*, বাবর ৮৬*; রোচ ৬-০-৩৪-০, সিলস ৯-০-৩৫-০, ওয়ারিক্যান ২৪-১-৭৫-১, শামার ১০-০-৫৮-১, চেইস ৭-০-২২-০, হজ ১০-০-৪১-০)।