১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ইয়ানসেনের তোপে বিধ্বস্ত ভারতের ব্যাটিং

স্বাগতিকদের ২০১ রানে গুটিয়ে ফলো-অন না করিয়ে আবার ব্যাটিং করছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

ইয়ানসেনের তোপে বিধ্বস্ত ভারতের ব্যাটিং
কেশাভ মহারাজের সঙ্গে মার্কো ইয়ানসেন (ডানে)। ছবি: ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা ফেইসবুক।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Nov 2025, 05:12 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:11 PM

অল্পের জন্য সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ যেন বল হাতে ঘুচালেন মার্কো ইয়ানসেন। অসাধারণ বোলিংয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইন আপ বলা যায় একাই গুঁড়িয়ে দিলেন তিনি। আলো ছড়ালেন সাইমন হার্মারও। ভারতকে ফলো-অন করানোর সুযোগ পেলেও, সেই পথে হাঁটল না দক্ষিণ আফ্রিকা।

গুয়াহাটি টেস্টে সোমবার ভারতের প্রথম ইনিংস ২০১ রানে গুটিয়ে ২৮৮ রানের লিড নেয় প্রোটিয়ারা। পরে আবার ব্যাটিংয়ে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৬ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করে তারা। সব মিলিয়ে সফরকারীরা এগিয়ে ৩১৪ রানে।

ভারতের মাটিতে প্রথম ইনিংস শেষে এর চেয়ে বেশি লিড পেয়ে প্রতিপক্ষকে ফলো-অন না করানোর নজির আছে একটি। ২০১৭ সালে ২৯৯ রানে এগিয়ে থেকেও বাংলাদেশকে ফলো-অন করায়নি ভারত।

ব্যাট হাতে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৯৩ রানে আউট হন ইয়ানসেন। পরে যে দুর্দান্ত বোলিং করলেন তিনি, তাতে সেই হতাশা কিছুটা মুছে যাওয়ার কথা।

স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে ধস নামিয়ে ৪৮ রান খরচায় ৬ উইকেট নেন ইয়ানসেন। ভারতে দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের মধ্যে যা তৃতীয় সেরা বোলিং। ৬৪ রান দিয়ে ৩ শিকার ধরে অবদান রাখেন অফ স্পিনার হার্মার।

ভারতের হয়ে পঞ্চাশ স্পর্শ করতে পারেন কেবল ইয়াশাসভি জয়সওয়াল, ১ ছক্কা ও ৭ চারে ৫৮। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৮ রান করতে ১ ছক্কা ও ২ চার মারেন ওয়াশিংটন সুন্দার। আর কেউ ২৫ রানও করতে পারেননি।

সবকটি উইকেট হাতে নিয়ে খেলতে নামা ভারতের নতুন দিনের শুরুটা খারাপ হয়নি। একপ্রান্তে দ্রুত রান বাড়ান জয়সওয়াল, অন্য প্রান্তে সাবধানী ছিলেন রাহুল। ২ চারে ২২ রান করা রাহুলকে বিদায় করে ৬৫ রানের জুটি ভাঙেন কেশাভ মহারাজ।

কয়েক ওভার পর ৮৩ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন জয়সওয়াল। এরপর আর ইনিংস টেনে নিতে পারেননি ভারত ওপেনার। হার্মারের বলে শর্ট থার্ডম্যানে ধরা পড়েন তিনি। পরের ওভারে হার্মার ফেরান সাই সুদার্শানকে।

ক্রিজে গিয়েই মুখোমুখি দ্বিতীয় বলে হার্মাকে ছক্কায় ওড়ান পান্ত। পরের ওভারে ধ্রুভ জুরেলকে শূন্য রানে বিদায় করে শিকার ধরা শুরু করেন ইয়ানসেন। এই পেসারকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে বড় শট খেলার চেষ্টায় কট বিহাইন্ড হন ভারতের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক পান্ত।

কিছুক্ষণ পর নিতিশ কুমার রেড্ডি ও রাভিন্দ্রা জাদেজাকেও ফিরিয়ে দেন ইয়ানসেন। বিনা উইকেটে ৬৫ থেকে ভারতের রান হয়ে যান ৭ উইকেটে ১২২। অর্থাৎ ৫৭ রানে ৭ উইকেট হারায় তারা।

বিপর্যয়ে পড়া দলকে কিছুক্ষণ টানেন ওয়াশিংটন ও কুলদিপ। দুইজনের জুটিতে দুইশর কাছে পৌঁছায় ভারতের রান। হার্মারের বলে ওয়াশিংটন স্লিপে ধরা পড়লে ভাঙে ইনিংসের সর্বোচ্চ ৭২ রানের যুগলবন্দি।

পরের ওভারে কুলদিপের প্রতিরোধ ভেঙে টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থবার ইনিংসে পাঁচ উইকেটের স্বাদ নেন ইয়ানসেন। ৩ চারে ১৯ রান করতে ১৩৪ বল খেলেন কুলদিপ! পরের ওভারে জাসপ্রিত বুমরাহকে কট বিহাইন্ড করে ভারতের ইনিংস গুটিয়ে দেন ইয়ানসেন।

বিশাল রানে এগিয়ে থেকে ফের ব্যাটিংয়ে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষবেলায় ৮ ওভার খেলে নিরাপদেই দিন পার করে দেন দুই ওপেনার রায়ান রিকেলটন ও এইডেন মার্করাম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৪৮৯

ভারত ১ম ইনিংস: ৮৩.৫ ওভারে ২০১ (আগের দিন ৯/০) (জয়সওয়াল ৫৮, রাহুল ২২, সুদার্শান ১৫, জুরেল ০, পান্ত ৭, জাদেজা ৬, নিতিশ ১০, ওয়াশিংটন ৪৮, কুলদিপ ১৯, বুমরাহ ৫, সিরাজ ২*; ইয়ানসেন ১৯.৫-৫-৪৮-৬, মুল্ডার ১০-৫-১৪-০, মহারাজ ১৫-১-৩৯-১, হার্মার ২৭-৬-৬৪-৩, মার্করাম ১০-১-২৬-০, মুথুসামি ২-০-২-০)

দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিংস: ৮ ওভারে ২৬/০ (রিকেলটন ১৩*, মার্করাম ১২*; বুমরাহ ৩-০-১৩-০, সিরাজ ৩-১-৮-০, জাদেজা ১-০-২-০, কুলদিপ ১-০-২-০)