Published : 27 Jul 2026, 07:45 PM
টপ অর্ডারে একজন ডানহাতি লাগবেই লাগবে। অনেক দিন ধরেই এই নীতি অনুসরণ করে আসছিলেন জাতীয় নির্বাচকরা। এবার সেই ধারা থেকে সরে এসেছেন তারা। ডানহাতি মাহমুদুল হাসান জয়কে বাদ দিয়ে নেওয়া হয়েছে বাঁহাতি সৌম্য সরকারকে। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানালেন, অস্ট্রেলিয়ার উইকেট ও বোলিং আক্রমণ এবং জয়ের ফর্ম, সবকিছু ভাবনায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
সৌম্যকে দলে নেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম চার পজিশনের জন্য বিবেচনায় থাকবেন পাঁচজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম ও সৌম্যর মধ্যে খেলবেন দুজন। তিন ও চারে মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত। গত কিছুদিনে টপ অর্ডারের একমাত্র ডানহাতি জয় হারিয়েছেন জায়গা।
ডানহাতি বলেই মূলত বারবার সুযোগ পাচ্ছিলেন জয়। গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ১৭১ রানের ইনিংসও খেলেছিলেন, পরের টেস্টে করেছিলেন ফিফটি। তবে গত মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম তিন ইনিংসে আউট হন দু অঙ্ক ছোঁয়ার আগে। পরে শেষ ইনিংসে একটি ফিফটি করতে পারেন। কিন্তু জিম্বাবুয়ে সফরে হারারে টেস্টে তিনি আবারও ব্যর্থ।
তার আউট হওয়ার ধরনগুলোও বেশ দৃষ্টিকটূ্। সব মিলিয়ে অবস্থা এমন যে, ডানহাতি একজনকে মরিয়া হয়ে রাখতে চেয়েও পারেননি নির্বাচকরা। প্রধান নির্বাচক সোমবার সংবাদ সম্মেলনে জানালে, ফর্ম ফেরাতে জয়কে পাঠানো হবে ইমার্জিং দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে।
“কয়েকটা ব্যাপার আমাদের মাথায় ছিল। যখন আমরা সৌম্যকে নিয়েছিলাম, আমাদের মাথায় ছিল, একসঙ্গে অনেক বেশি বাঁহাতি হয়ে যাচ্ছে। টপ অর্ডারে এখন আমাদের পাঁচজন বাঁহাতি আছে এং যদি আমরা তানজিদ তামিম এবং সাদমানকে ওপেন করাই, তাহলে পরপর চারজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হয়ে যাচ্ছে। এটা আসলে আদর্শ নয়। জয় আমাদের ডানহাতি ওপেনারদের একজন, এই কম্বিনেশনের জন্য যাকে কাজে লাগে। তবে আসলে জয়ের পারফরম্যান্স এবং যেভাবে সে ব্যাটিং করছে, আমরা একটু চিন্তিত।
তার পরও সে আমাদের পরিকল্পনায় ভালোমতো আছে, কারণ ডানহাতি ওপেনার আমাদের লাগবে। যেহেতু সে ফর্মে নেই এবং ব্যাটিং নড়বড়ে মনে হচ্ছে, তাকে আমাদের (ফর্মে ফিরিয়ে আনা দরকার)। সেক্ষেত্রে আমাদের ভাবনায় ছিল, ‘এ’ দলের (ইমার্জিং) সফর আছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানে আমরা তাকে নিচ্ছি, যাতে রান করে টেস্ট দলে ফিরে আসতে পারে। কারণ এই সিরিজের পরও সামনে আমাদের অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সফর আছে।”
জয়ের জায়গায় আপাতত উপযুক্ত কোনো ডানহাতি বিকল্প খুঁজে পাননি নির্বাচকরা। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সবশেষ টেস্ট খেলা সৌম্যর কথা মনে পড়েছে তাদের। হাবিবুল বললেন, অস্ট্রেলিয়ান পেস সামলানোর ব্যাপারটি তারা জোর দিয়ে ভেবেছেন এখানে।
“সৌম্য সরকার অনেক দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলছে। যে পেসটা আমরা ধারণা করছি অস্ট্রেলিয়াতে, এটা খেলে সে অভ্যস্ত। আমরা অন্য ওপেনারের দিকেও চিন্তা করেছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই মুহূর্তে আমাদের ডানহাতি ওপেনার খুব বেশি প্রস্তুত অবস্থায় নেই। আমরা যে কজনকে নিয়ে কাজ করছি, তারা একদম নতুন। তাদেরকে আসলে অস্ট্রেলিয়া সফরে নিয়ে যাওয়া তাদের জন্য একটু কঠিন হবে অবশ্যই। আমরা তাদেরকে নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি, এক বছরের মধ্যে ডানহাতি ওপেনার একজনকে তৈরি করতে পারব আমরা, যেটা আমাদের খুব দরকার।”
(সৌম্যকে রাখা) কিছুটা মরিয়া চেষ্টা বলতে পারেন। জাতীয় লিগে যারা রান করেছে, তারা আসলে একদম নবীন ক্রিকেটার। জাকির হাসান আছেন, যিনি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। তবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে, সৌম্য বেশি উপযুক্ত, এই পেস ও আগে খেলেছে। আমাদের পাইপলাইনে ক্রিকেটার আছে যারা, তারা কেউ প্রস্তুত নন। টেস্ট ম্যাচে আসার আগে তাদেরকে ২-১ বছর সময় দিতে হবে।”
জিম্বাবুয়ে সফরে একমাত্র টেস্টে অভিষেক হয়েছিল তাওহিদ হৃদয়ের। ভালো করতে পারেননি তিনি। অস্ট্রেলিয়া সফরে জায়গাও পাননি। তবে ভবিষ্যতের ভাবনায় তাকে প্রবলভাবেই রাখছেন নির্বাচকরা। এজন্য তাকেও পাঠানো হবে ইমার্জিং দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে।
“হৃদয়কে আমরা সবশেষ টেস্ট ম্যাচে খেলিয়েছিলাম। সেখানে মিরাজ ছিল না। এখন যেহেতু মিরাজ চলে এসেছে, হৃদয়ের খেলার সম্ভাবনা খুব কম। তবে ভবিষ্যৎ টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে আমরা ওকে চিন্তা করছি। ওকে আমরা দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের সিরিজে পাঠাব। অস্ট্রেলিয়ায় ওর খেলার সম্ভাবনা কম। যদি জরুরি প্রয়োজন হয়, তখন তো পাঠানোর সুযোগ আছেই সসময়। কিন্তু এখনই অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে বসে থাকলে দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলার সুযোগ হাতছাড়া করবে।
আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, ওকে যদি আমরা দক্ষিণ আফ্রিকায় ম্যাচগুলি খেলাতে পারি, ওই কন্ডিশনে যদি মানিয়ে নিতে পারে, সামনের পথচলায় সেটি বেশি কাজে লাগবে। ১৬তম সদস্য হিসেবে ওকে নেওয়ার ভাবনা আমাদের এসেছিল। তবে মনে হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় বসে থাকার চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের ম্যাচগুলি খেললে ওর বেশি কাজে লাগবে।”