১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

টাঙ্গাইলে ফ্লাইওভারের পাইলিংয়ের সময় গ্যাসের পাইপলাইনে ফাটল

এ লাইনের সঙ্গে যুক্ত ছয়টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

টাঙ্গাইলে ফ্লাইওভারের পাইলিংয়ের সময় গ্যাসের পাইপলাইনে ফাটল
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তিতাস গ্যাসের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইনে ফাটল।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jul 2026, 08:13 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের পাইলিংয়ের সময় তিতাস গ্যাসের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইনে ফাটল দেখা দিয়েছে।

উচ্চচাপের গ্যাস বিকট শব্দে বের হতে থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে মহাসড়কে ধীরগতিতে যান চলাচল করতে থাকে। এতে উত্তরবঙ্গমুখী পড়কে কিছু সময় যানজটের সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন তিতাস গ্যাস টাঙ্গাইল অফিসের সহকারী প্রকৌশলী রমজান আলী।

তিনি বলেন, “গ্যাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনের মেরামত চলছে। কাজ শেষ করতে সারারাত সময় লাগতে পারে। মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত ছয়টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।”

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পের আওতায় ফ্লাইওভার নির্মাণের জন্য পাইলিংয়ের কাজ চলছিল। ভারী যন্ত্র দিয়ে পাইল বসানোর এক পর্যায়ে মাটির নিচে থাকা গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনে আঘাত লাগে। এতে পাইপে ফাটল সৃষ্টি হয়ে গ্যাস বাইরে বের হতে শুরু করে। 

বিকট শব্দের পাশাপাশি চারদিকে গ্যাসের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ী, যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণের আশঙ্কায় অনেকেই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এ সময় এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার বেশ কয়েকটি দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে আগুন জ্বালানো ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়।

খবর পেয়ে কালিহাতী থানা পুলিশ, এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও তিতাস গ্যাসের জরুরি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করে। মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার বলেন, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত গ্যাস নিষ্কাশন ও লিকেজ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণ এড়াতে সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামতের কাজ শুরু করেন।

সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই; প্রশাসন পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান ইউএনও।