১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

৩ বছরের খরা কাটানো জয়ে সিরিজ ড্র করল পাকিস্তান

দেশের বাইরে টানা আট টেস্ট হারের পর জয়ের দেখা পেল পাকিস্তান।

৩ বছরের খরা কাটানো জয়ে সিরিজ ড্র করল পাকিস্তান
পাকিস্তানের জয়ের ভিত গড়ে দেন বোলাররা। ছবি: পাকিস্তান ক্রিকেট টিম ফেইসবুক

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Aug 2026, 08:53 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

ম্যাচের ফল একরকম নিশ্চিত হয়ে যায় অনেক আগেই। অপেক্ষা ছিল স্রেফ সময়ের। স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যানকে পরপর দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে সবকিছুর ইতি টেনে দিলেন বাবর আজম। দেশের বাইরে টানা টেস্ট হারের বৃত্ত ভেঙে সমতায় সিরিজ শেষ করল পাকিস্তান। 

ত্রিনিদাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে বাবরের দলের জয় ৮ উইকেটে। ৭৫ রানের ছোট লক্ষ্য চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ঘন্টায় ছুঁয়ে ফেলে সফরকারীরা।

দুই ম্যাচের সিরিজ শেষ হলো ১-১ সমতায়।

দেশের বাইরে টানা আট টেস্ট হারের পর জয়ের স্বাদ পেল পাকিস্তান। এর আগে সবশেষ জিতেছিল ২০২৩ সালের জুলাইয়ে, কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

৬ উইকেটে ১০৩ রান নিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ যোগ করতে পারে আর কেবল ১৪ রান। প্রথম ইনিংসে ৪৩ রানে পিছিয়ে থাকা দলটির দ্বিতীয় ইনিংস থামে ১১৭ রানে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তৃতীয় সর্বনিম্ন স্কোর এটি। ১৯৫৯ সালে ঢাকায় তারা করেছিল ৭৬, ১৯৮৬ সালে ফয়সালাবাদে ৫৩।

বাঁহাতি স্পিনার আলি উসমানের বলে সজোরে মারতে গিয়ে শূন্য রানে বোল্ড হন কিমার রোচ। পেসার মোহাম্মাদ আলিকে আড়াআড়িভাবে খেলার চেষ্টায় নিচু হওয়া ডেলিভারি স্টাম্পে টেনে আনেন জাস্টিন গ্রেভস। দুটি চার মারা শামার জোসেফ আউট হন আরেকটি বড় শট খেলতে গিয়ে।

আগের দিন ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়া ব্র্যান্ডন কিং ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি।

৩৯ রানে ৪ উইকেট নেন উসমান। আগের দিন ৪ উইকেট নেওয়া অফ স্পিনার সাজিদ খান এ দিন আর বোলিং পাননি।

রান তাড়ায় আরেকবার অল্প রানে আউট হন ইমাম-উল-হাক। চতুর্থ ওভারে গ্রেভসের বলে স্লিপে ধরা পড়েন তিনি ৯ রানে।

আরেক ওপেনার আজান আওয়াইস টাইমিং করতে বরাবরই হিমশিম খাচ্ছিলেন। ১৮ রান করে শামার জোসেফের বল স্টাম্পে টেনে আনেন তিনি। 

৪২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। প্রথম টেস্টে শেষ ইনিংসে তাদের ব্যাটিং হুড়মুড় করে ভেঙে পড়লেও এবার তারা পথ হারায়নি। তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৩৫ রানের জুটিতে কাজ শেষ করে ফেরেন বাবর ও আবদুল্লাহ শাফিক, দুজনই অপরাজিত থাকেন ২৪ রানে।

প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ১৬০ রানের সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন শাফিক।   

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৩৪৪

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৮৭

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: ৪৬.১ ওভারে ১১৭ (আগের দিন ১০৩/৬) (গ্রেভস ৩, রোচ ০, শামার ৯, ওয়ারিক্যান ২*; আলি ১১-২-৩১-১, উবেইদ ৪-০-১৩-০, উসমান ১৯.১-৪-৪৯-৪, সাজিদ ১২-২-৩২-৪)

পাকিস্তান ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৭৫) ২৩.৩ ওভারে ৭৭/২ (আজান ১৮, ইমাম ৯, শাফিক ২৪*, বাবর ২৪ *; রোচ ২-০-১১-০, ওয়ারিক্যান ১১.৩-৪-৩৮-০, সিলস ৫-১-৯-১, শামার ৪-১-১৭-১, হজ ১-০-২-০)

ফল: পাকিস্তান ৮ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: ২ ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ

ম্যান অব দা ম্যাচ: আবদুল্লাহ শাফিক

ম্যান অব দা সিরিজ: বাবর আজম ও জাস্টিন গ্রেভস