রাহুলের সেঞ্চুরি ছাপিয়ে দেড়শ ছোঁয়া ইনিংসে উইন্ডিজের নায়ক হোপ
নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার ওয়ানডেতে সাড়ে তিনশ রান তাড়ায় জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
লোকেশ রাহুলের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসেও জিততে পারল না ভারত। শেই হোপের অধিনায়কোচিত ইনিংসে হোয়াইটওয়াশ এড়াল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে সফরকারীরা পেল দারুণ জয়।
নিউ চান্ডিগাড়ে শনিবার রোমাঞ্চকর রান তাড়ায় ৫ উইকেটে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের ৩৫১ রান তারা ছাড়িয়ে গেছে ১০ বল বাকি থাকতে।
২০২৩ সালের পর ওয়ানডেতে ভারতের বিপক্ষে এটাই তাদের প্রথম জয়।
ওয়ানডেতে এই প্রথম সাড়ে তিনশ রান তাড়া করে জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এতে বড় অবদান প্রথম কিপার-অধিনায়ক হিসেবে দেড়শ ছোঁয়া রানের ইনিংস খেলা হোপের। ১৪১ বলে দুই ছক্কা ও ১৭টি চারে তিনি অপরাজিত থাকেন ১৫৫ রানে।
তৃতীয়বার সাড়ে তিনশ ছাড়ানো পুঁজি নিয়ে হারল ভারত। শুরুতে বড় ধাক্কা খাওয়া দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন রাহুল। ৮৭ বলে ছয় ছক্কা ও ১০টি চারে এই কিপার-ব্যাটসম্যান অপরাজিত থাকেন ১২৯ রানে।
রান তাড়ায় পঞ্চম ওভারেই ফিরে যান জন ক্যাম্পবেল। ততক্ষণে অবশ্য তার সঙ্গে ৪১ রানের জুটি গড়ে ফেলেন হোপ। দ্বিতীয় উইকেটে আমির জাঙ্গুর সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ১০০ বলে গড়েন ১০৯ রানের জুটি।
জাঙ্গুর (৫৬ বলে ৬৭) রান আউটে ভাঙে বিপজ্জনক জুটি। অন্য প্রান্তে এগিয়ে যেতে থাকেন হোপ।
শারফেইন রাদারফোর্ডের সঙ্গে ৫৬ বলে ৫৬ রানের জুটি উপহার দেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক। কিমো পলের সঙ্গে ৬১ বলে যোগ করেন আরও ৬৫ রান।
বড় শটের চেষ্টায় পলের বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। পরে দ্রুত ফেরেন ম্যাথু ফোর্ড। চাপে পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে গুডাকেশ মোটিকে নিয়ে কঠিন হয়ে যাওয়া সমীকরণ মিলিয়ে দলের হোয়াইটওয়াশ এড়ান হোপ।
১৪ বলে এক ছক্কা ও দুই চারে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন মোটি।
৪৬ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন হোপ। ১০৪ বলে ক্যারিয়ারের ২১তম ও টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করেন তিনি। পরে আগ্রাসী ব্যাটিং করেন তিনি। তার শেষ ৪৩ বলে আসে ৬২ রান।
এর আগে নিউ চান্ডিগাড়ে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। তৃতীয় ওভারে পরপর দুই বলে তারা হারায় শুবমান গিল ও ভিরাট কোহলিকে।
জেডেন সিলসের ডেলিভারিতে কট বিহাইন্ড হন প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি ও পরের ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি করা গিল। পরের বলে ফ্লিক করার চেষ্টায় বোল্ড হন কোহলি।
রুতুরাজ গায়কোয়াড়কে নিয়ে সেই ধাক্কা সামাল দেন রোহিত শার্মা। তৃতীয় উইকেটে ১৩২ বলে তারা যোগ করেন ১৩৭ রান। চমৎকার ব্যাটিংয়ে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরির আশা জাগালেও পারেননি রোহিত। কিমো পলের শর্ট বলে পুল করে সীমানায় ধরা পড়েন তিনি। ৮৫ বলে তিন ছক্কা ও ১০টি চারে তিনি করেন ৯২ রান।
রোহিতের বিদায়ের পর ক্রিজে যাওয়া রাহুলের ব্যাটেই মূলত সাড়ে তিনশ রানের পুঁজি পায় ভারত। কিপার-ব্যাটসম্যানকে তেমন একটা সঙ্গ দিতে পারেননি গায়কোয়াড়। ৬৯ বলে তিনি থামেন ৫৭ রানে।
নামান ধিরের সঙ্গে ৪৩ বলে ৬৫ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন রাহুল। ৪১ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন তিনি। আনশুল কাম্বোজের সঙ্গে ২৮ বলে গড়েন ৪০ রানের জুটি।
৬ বলে ৮ রানে অপরাজিত থাকা গুরনুর ব্রার সঙ্গে বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে স্রেফ ২৬ বলে ৬১ রানের জুটি গড়েন রাহুল।
৮০ বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের মোট নবম সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন তিনি। পরে হন আরও আগ্রাসী। খেলেন অপরাজিত ১২৯ রানের চমৎকার ইনিংস। তবুও তার শেষটা হলো হতাশায়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ৫০ ওভারে ৩৫১/৭ (রোহিত ৯২, গিল ১, কোহলি ০, গায়কোয়াড় ৫৭, রাহুল ১২৯*, নামান ৩০, নিতিশ ৯, কাম্বুজ ১৭, গুরনুর ৮*; সিলস ১০-০-৬২-৩, ফোর্ড ৬-০-২৬-০, জোসেফ ১০-১-৭০-০, পল ৯-০-৭১-২, মোটি ১০-০-৬৭-১, লয়েস ৫-০-৫৪-০)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪৮.২ ওভারে ৩৫২/৫ (ক্যাম্পবেল ১০, হোপ ১৬২*, জাঙ্গু ৬৭, রাদারফোর্ড ২৪, পল ৪৪, ফোর্ড ৭, মোটি ১৯*; সিরাজ ৮-০-৫২-১, কাম্বুজ ৯-০-৮২-০, গুরনুর ৯.১-০-৬৪-১, কুলদিপ ১০-০-৬২-১, নিতিশ ৬.৫-০-৫০-০, নামান ৫.২-০-৩৩-১)
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ভারত ২-১ ব্যবধানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: শেই হোপ
ম্যান অব দা সিরিজ: শুবমান গিল
