Published : 14 Mar 2026, 07:07 PM
বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের ওয়ানডে দলে বাবর আজমের না থাকার আসল কারণ অবশেষে জানা গেল। পাকিস্তানের নির্বাচক আকিব জাভেদ জানালেন, মূলত চোটের কারণে দলে রাখা হয়নি অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানকে। এমনকি বাবর ও ফাখার জামান চোট নিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছেন বলে বিস্ময়কর তথ্য দিলেন তিনি।
আর বিষয়টি অবাক করেছে সয়ং নির্বাচকদেরও। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাছে তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
কখনও ওয়ানডে না খেলা ছয় ক্রিকেটারকে নিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছে পাকিস্তান। সেই দলে বাবর, ফাখারের পাশাপাশি নেই সাইম আইয়ুবও। বাবরের না থাকা নিয়েই প্রশ্ন ও বিস্ময় ছিল বেশি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চূড়ান্ত ব্যর্থ হলেও, ওয়ানডেতে তার রেকর্ড দুর্দান্ত। সবশেষ সিরিজে সেঞ্চুরি করেছেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
তার চোট আছে, বিশ্রাম বা বিরতি দেওয়া হয়েছে- এরকম কিছু শনিবারের আগ পর্যন্ত বলা হয়নি পাকিস্তানের নির্বাচক বা টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে। তাই ধারণা করা হচ্ছিল, তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও বাংলাদেশে এসে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে কোচ মাইক হেসন বলেছিলেন, বাবরকে বাদ দেওয়া হয়নি। সিরিজ শুরুর আগের দিন বাবরকে নিয়ে প্রশ্নে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি বলেন, কাউকেই দল থেকে বাদ দেওয়া হয়নি।
লাহোরে শনিবার নির্বাচক কমিটির আরও তিন সদস্য মিসবাহ-উল-হাক, সারফারাজ আহমেদ ও আসাদ শাফিককে পাশে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আকিব জানালেন মূল কারণ। তার দাবি, বাবর ও ফাখারের যে চোট আছে, সেটা দলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত নির্বাচকরাও জানতেন না।

“কিছু খেলোয়াড়কে (বাংলাদেশের বিপক্ষে) এই সিরিজের দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বাবর আজমের চোট নিয়ে বললে, যখন সে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ফিরে আসে, তখন আমাদের চিকিৎসকরা তারও পরীক্ষা করেছিল। তার যে চোট আছে, সেটার কারণে এই সিরিজ বা ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপে সে খেলতে পারছে না… সে খেলতে চেয়েছিল, কিন্তু সে চোটাক্রান্ত। ফাখারও চোটাক্রান্ত- এই বিষয়ে আমরা ক্রিকেট বোর্ডকে তদন্তের জন্য অনুরোধ করেছি।”
পুরোপুরি ফিট না হয়েও এই দুজন কীভাবে বিশ্বকাপে খেলছিল, সেই প্রশ্নও তুললেন সাবেক পেসার আকিব।
“বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরেই কেবল এই দুই খেলোয়াড়ের চোটের বিষয় আমরা জেনেছি, এটা কীভাবে হতে পারে? বিশ্বকাপ চলাকালীন, যখন তারা খেলছিল, তখন কি তাদের ফিটনেসের বিষয়টি দেখভাল করা হচ্ছিল না? তারা কি পুরোপুরি ফিট না হয়ে দলে ছিল? আমরা নির্বাচক; আমাদের এই বিষয়গুলো জানা উচিত।”
“যখন বিশ্বকাপে যাবেন, তখন স্বাস্থ্যগত বা চোটের সমস্যা যাই হোক না কেন, প্রধান কোচ, ফিজিওর জানা উচিত এবং আমাদের এই বিষয়গুলো জানা উচিত।”
বিশ্বকাপের সুপার এইট থেকে বিদায় নেয় পাকিস্তান। সালমান আলি আগার দল তাদের সব ম্যাচ খেলেছে শ্রীলঙ্কায়। গ্রুপ পর্বে খেলার সুযোগ না পাওয়া ফাখারকে সুপার এইটে তিন ম্যাচেই একাদশে রাখা হয়েছিল। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪২ বলে ৮৪ রান করেন তিনি। দলের সাত ম্যাচের ছয়টিতে একাদশে থাকা বাবর রান করতে পারেন মোটে ৯১।
এই দুজনের চোট কিংবা ফিটনেস নিয়ে বিশ্বকাপের সময় শ্রীলঙ্কার গণমাধ্যমেও কোনো খবর আসেনি। এই বিষয়েও প্রশ্ন করা হয় আকিবকে।
“কোথায় একজন খেলোয়াড় চোট পায়, অনুশীলনে বা ম্যাচে, এটা কীভাবে হয়, আমরা জানি না।”
“যেকোনো সময় চোট পেতে পারে। আমি জানি না কীভাবে পেয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি হলো বাবর আজম খেলার জন্য ফিট নয়। ফাখার জামান খেলার জন্য ফিট নয়। আরেকজন... সালমান মির্জা, সেও খেলার জন্য ফিট নয়। আমরা যদি (বিশ্বকাপের) সেমি-ফাইনালে উঠতাম, তাহলে কি তারা ‘খেলার জন্য ফিট থাকত?’ এটাই প্রশ্ন।”
আকিব জানালেন, বাংলাদেশ সফরের দলে তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে রেখেছিলেন তারা।
“আমরা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এই সিরিজের জন্য মাজ সাদাকাতসহ তরুণ খেলোয়াড়দের পাঠাব। আমরা বিশ্বকাপের আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এখানে পূর্ণ-শক্তির দল পাঠাব না। আমরা (২০২৪ সালে) জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর থেকে এটা করেছি। নতুন খেলোয়াড়রা খেলুক, যাতে হাতে আরও বিকল্প থাকে।”