Published : 17 Jan 2026, 05:28 PM
টুর্নামেন্টের শেষ ভাগে এসে যখন বদলাতে হয় অধিনায়ক, তখন বোঝা যায় যে দলের অনেক কিছুই ঠিকঠাক নেই। পয়েন্ট টেবিলের অবস্থানেও সেটিরই ইঙ্গিত। সামান্য হলেও কিছু শঙ্কা উঁকি দিচ্ছিল রংপুরের প্লে-অফ খেলা নিয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত তেমন হতাশাজনক কিছু হলো না। দাভিদ মালান ও তাওহিদ হৃদয়ের দারুণ শতরানের জুটির পর আগুনে বোলিং উপহার দিলেন নাহিদ রানা। খুব দাপুটে পারফরম্যান্স না হলেও নতুন অধিনায়ক লিটন কুমার দাসের নেতৃত্বে স্বস্তির জয় দিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর।
বিপিএলে টানা তিন ম্যাচে হারার পর ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১১ রানে হারিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে প্লে-অফে পৌঁছে গেল রংপুর রাইডার্স।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শনিবার রংপুর ২০ ওভারে তোলে ১৮১ রান।
উদ্বোধনী জুটিতে মালান ও হৃদয় ১৪ ওভারে তোলেন ১২৬ রান।
একাদশে ফেরার ম্যাচে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৯ বলে ৭৮ রান করেন মালান। ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৬ বলে ৬২ করেন হৃদয়।
রান তাড়ায় ঢাকা ২০ ওভারে যেতে পারে ১৭০ পর্যন্ত।
জয়-পরাজয়ের ব্যবধান যদিও খুব বড় নয়, আদতে ম্যাচে উত্তেজনা তেমন কিছু ছিল না। সাতে নেমে ৩০ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলে ব্যবধান কমান মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। তবে রংপুরের জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বেশ আগেই।
আগের ম্যাচগুলোয় কিছুটা অচেনা থাকা নাহিদ রানা এ দিন জ্বলে ওঠেন দারুণভাবে। গতির ঝড় তুলে ক্ষুরধার বোলিংয়ে চার ওভারে মাত্র ১১ রান দেন তিনি, যা তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কম। শুধু মিতব্যয়ী বোলিংই নয়, উইকেটই শিকার করেন তিনটি।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে মালান ও হৃদয় শুরু করেন একটু রয়েসয়ে। প্রথম চার ওভারে আসে ১৯ রান।
মালানের রান এক পর্যায়ে ছিল ১৪ বলে ৭। এরপর জ্বলে ওঠেন আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের সাবেক এক নম্বর ব্যাটসম্যান। টানা তিন বলে দুটি ছক্কা একটি চার মারেন বাঁহাতি পেসার মারুফ মৃধাকে। পরের ওভারে সাইফ উদ্দিনকে ছক্কা ও চার মারেন হৃদয়।
এই দুই ওভারে ৩১ রান নিয়ে পাওয়ার প্লেতে ৫০ তোলে রংপুর।
পাওয়ার প্লে শেষে অফ স্পিনার নাসির হোসেনকে আনা হয় আক্রমণে। তাকে দুই ওভারে তুলাধুনা করে মালান ও হৃদয় নেন ৩০ রান।
মালানের ফিফটি হয় ৩৫ বলে। এই আসরে সাত ম্যাচে তার তৃতীয় ফিফটি এটি।
দুই ব্যাটসম্যানকে একটু দমিয়ে রাখতে পেরেছিলেন ইমাদ ওয়াসিম। প্রথম দুই ওভারে রান দিয়েছিলেন তিনি ১০। কিন্তু তার তৃতীয় ওভারে টানা দুই বলে ছক্কা মারেন মালান।
অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা জুটি থামে চতুর্দশ ওভারের শেষ বলে। আক্রমণে ফেরা তাসকিন আহমেদের বলে স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান মালান।
হৃদয়ের তখনও ফিফটি হয়নি। ২৯ রানে তার ক্যাচ ফেলে দিয়ে ছক্কা বানিয়ে দেন সাইফ উদ্দিন। পরের বলে আবার জীবন পান তিনি সহজ ক্যাচ দিয়েও।
এরপর একটু সাবধানতায় এগিয়ে পঞ্চাশে পা রাখেন তিনি ৪০ বলে।
ফিফটির পর ছক্কা মারেন তিনি সাইফ উদ্দিনকে। ইমাদের এক ওভারে দুটি ছক্কা মারেন তিনে নামা কাইল মেয়ার্স।
হৃদয়ের ইনিংস শেষ হয় ছক্কা মারার চেষ্টায়। প্রথম বিপিএল উইকেটের স্বাদ পান মারুফ মৃধা।
শেষ তিন ওভারে প্রত্যাশিত রান পায়নি রংপুর। ১৬ বলে ২৪ রান করে মেয়ার্স ফেরেন শেষ ওভারে। দুই বল বাকি থাকতে ক্রিজে নেমে প্রথম বলেই আউট হয়ে যান লিটন।
শেষ ওভারে মাত্র চার রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন সাইফ উদ্দিন। তবু ১৮০ পেরিয়ে যায় রংপুর।
এই রান তাড়ার চ্যালেঞ্জ জয়ে উসমান খান নামেন যেন তেড়েফুঁড়ে। ইনিংসের প্রথম বলেই ছক্কা মারেন তিনি মেয়ার্সকে। পরে আরও দুটি চারসহ প্রথম ওভার থেকে আসে ১৭ রান।
আরেক ওপেনার আব্দুল্লাহ আল মামুন আউট হয়ে যান দ্বিতীয় ওভারে। সাইফ হাসান নেমে প্রথম বলেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে ফাহিম আশরাফকে ছক্কায় উড়িয়ে দেন এক্সট্রা কাভার দিয়ে।
উসমান পরের দুই ওভারে বাউন্ডারি মারেন আরও তিনটি। তবে অতি ঝুঁকির ব্যাটিংয়ে লম্বা হয়নি তার ইনিংস। ফাহিমের বলে লিটনের দুর্দান্ত ক্যাচে বিদায় নেন তিনি ১৮ বলে ৩১ রান করে।
নাহিদ রানার প্রায় দেড়শ কিলোমিটার গতির আগুনের এক ডেলিভারিতে উড়ে যায় সাইফ হাসানের (৬ বলে ১২) বেলস।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলের সহ-অধিনায়ক বিপিএলের আট ইনিংস মিলিয়ে রান করলেন মোট ৬০। ব্যাটিং গড় ৭.৫০, স্ট্রাইক রেট ৮৩.৩৩।
নাহিদ পরে ফেরান সাব্বির রহমানকে। চার-পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং না পেয়ে সিলেটে আক্ষেপ করেছিলেন তিনি। এবার চারে নেমে একটি ছক্কা মারলেও আউট হয়ে যান ৯ বলে ৮ রান করে।
শামীম হোসেন (১১ বলে ১০) যখন বিদায় নেন বাজে শটে, ঢাকা সম্ভাবনাও একরকম শেষ হয়ে যায়।
এরপর কেবলই ব্যবধান কমানোর চেষ্টা। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন কিছুক্ষণ লড়াই করে আউট হন ২৯ বলে ২৫ রান করে। সপ্তম উইকেটে ২৯ বলে ৪৮ রানের জুটি গড়েন সাইফ উদ্দিন ও ইমাদ ওয়াসিম।
ইমাদ ১৪ বলে ২০ করে আউট হলেও সাইফ লড়াই চালিয়ে যান। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩১ রান। বাঁহাতি স্পিনার রকিবুলকে তিনটি ছক্কা মেরে সাইফ শেষ করেন ৫৮ রান নিয়ে।টি-টোয়েন্টিতে এটি তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস, ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় ফিফটি।
৯ ম্যাচে রংপুরের পয়েন্ট এখন ১০। ম্যাচ বাকি আছে আরেকটি। ৯ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পাওয়া ঢাকার আনুষ্ঠানিক বিদায় হয়ে গেল এই হার দিয়ে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৮১/৪ (মালান ৭৮, হৃদয় ৬২, মেয়ার্স ২৪, খুশদিল ৬*, লিটন ০, সোহান ১*; তাসকিন ৪-০-২০-১, মারুফ ৪-০-৪১-১, সাইফ উদ্দিন ৪-০-৩৩-২, ইমাদ ৪-০-৩৯-০, নাসির ২-০-৩০-০, আল মামুন ২-০-১৩-০)।
ঢাকা ক্যাপিটালস: ২০ ওভারে ১৭০/৭ (উসমান ৩১, আল মামুন ০, সাইফ ১২, সাব্বির ৮, মিঠুন ২৫, শামীম ১০, সাইফ উদ্দিন ৫৮*, ইমাদ ২০, তাসকিন ২*; মেয়ার্স ১-০-১৭-০, ফাহিম ৪-০-৪৩-২, মুস্তাফিজ ৪-০-৩০-১, নাহিদ ৪-০-১১-৩, রকিবুল ৪-০-৩৬-১, খুশদিল ৩-০-২৫-০)।
ফল: রংপুর রাইডার্স ১১ রানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: দাভিদ মালান।