Published : 08 Sep 2025, 01:39 PM
পুঁজি বেশি বড় ছিল না। তারপরও বড় জয়ই পেয়েছে পাকিস্তান। মোহাম্মদ নাওয়াজের অসাধারণ বোলিংয়ে আফগানিস্তানের ব্যাটিং গুঁড়িয়ে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ট্রফি জিতে নিয়েছে সালমান আলি আগার দল। এই ম্যাচ ঝড় তুলেছে রেকর্ড বইয়েও।
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার স্পিন সহায়ক উইকেটে ১৪১ রানের পুঁজি নিয়ে আফগানদের স্রেফ ৬৬ রানে গুটিয়ে দেয় পাকিস্তান। ম্যাচ জিতে নেয় তারা ৭৫ রানে।
সর্বনিম্ন
আফগানিস্তানের ৬৬ রান কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর। এখানে আগের সর্বনিম্ন ছিল ৬৯, ২০২৪ সালে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপ-আঞ্চলিক ইউরোপিয়ান বাছাইয়ের ফাইনালে জার্সির বিপক্ষে করেছিল নরওয়ে।
ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ফাইনালে আফগানিস্তানের চেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার নজির আছে কেবল তিনটি।
আফগানিস্তানের নিজেদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর এটি। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫৬ রান তাদের সর্বনিম্ন।
এছাড়া পাকিস্তানের বিপক্ষে কোনো দলের চতুর্থ সর্বনিম্ন স্কোর আফগানদের এই ৬৬।
নাওয়াজের কীর্তি (১)
চার ওভারে ১৯ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নাওয়াজ। দ্বিতীয় বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে পাঁচ উইকেট পেলেন তিনি। ২০১৯ সালে প্যাসিফিক গেমস প্রতিযোগিতার ফাইনালে ভানুয়াতুর বিপক্ষে ১৭ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন পাপুয়া নিউ গিনির নরমান ভানুয়া।
নাওয়াজের কীর্তি (২)
তৃতীয় বোলার হিসেবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন নাওয়াজ। ২০২২ এশিয়া কাপে ভারতীয় পেসার ভুবনেশ্বর কুমার ও একই বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংলিশ পেস বোলিং অলরাউন্ডার স্যাম কারান পেয়েছিলেন এই স্বাদ।
নাওয়াজের কীর্তি (৩)
দুই ওভার মিলিয়ে হ্যাটট্রিক করেন নাওয়াজ। এই সংস্করণে হ্যাটট্রিক করা পাকিস্তানের তৃতীয় বোলার তিনি। ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাহিম আশরাফ ও একই দলের বিপক্ষে ২০১৯ সালে মোহাম্মদ হাসনাইন টানা তিন বলে তিন উইকেট নিয়েছিলেন।
নাওয়াজের কীর্তি (৪)
‘বল বাই বল’ তথ্যের হিসাব আছে, এমন টি-টোয়েন্টি ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা তৃতীয় বোলার নাওয়াজ। ২০২১ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে উগান্ডার এলিজা ওতিয়েনো ও ২০২২ সালে মাল্টার বিপক্ষে বেলজিয়ামের খালিদ আহমাদি পেয়েছিলেন এই স্বাদ।
স্পিনারদের রাজত্ব
শারজাহর ফাইনালে দুই দলের স্পিনারদের সম্মিলিত উইকেট ১৫টি। কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচে স্পিনারদের যা যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালে বাহামা ও কেম্যান আইসল্যান্ডের ম্যাচে স্পিনাররা নিয়েছিল ১৬ উইকেট, একই বছর মালয়েশিয়া ও হংকংয়ের ম্যাচে স্পিনারদের প্রাপ্তি ছিল ১৭ উইকেট।
১৫ উইকেটের ৯টি নেন পাকিস্তানের স্পিনাররা। এই সংস্করণে কোনো ম্যাচে যা তাদের স্পিনারদের যৌথভাবে সর্বোচ্চ। ২০২৩ এশিয়ান গেমসে হংকংয়ের বিপক্ষেও ৯ উইকেট নিয়েছিলেন তাদের স্পিনাররা।
সাতে সাত
এই ত্রিদেশীয় সিরিজে সাত ম্যাচের সবকটিতে জিতেছে আগে ব্যাটিং করা দল। কোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ বা টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ আগে ব্যাটিং করে জয়ের রেকর্ডের চূড়ায় এখন এটিই। এক্ষেত্রে আগের সর্বোচ্চ ছিল পাঁচটি।