Published : 22 Aug 2026, 05:41 PM
বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের জার্সিতে প্রাধান্য হলুদ রঙের। তবে সেই পোশাকে নয়, নেপালের ব্যাটসম্যানরা চোখে সর্ষে ফুল দেখতে থাকলেন যেন মোহাম্মদ রুবেলের বোলিংয়ে। রহস্য স্পিনারের জাদুকরি বোলিংয়ের কোনো জবাবই পেলেন না তারা। দারুণ বোলিং করলেন তার সতীর্থরাও। এরপর কাজ যেটুকু বাকি ছিল, তা অনায়াসেই শেষ হলো জিসান আলমের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে।
অস্ট্রেলিয়ায় টপএন্ড টি-টোয়েন্টিতে উড়ন্ত জয়ে শুরু করল বাংলাদেশ এইচপি দল। নেপাল ‘এ’ দলকে বিধ্বস্ত করল তারা ৯ উইকেটে।
ডারউইনে যে মাঠে কদিন আগে স্মরণীয় টেস্ট জয়ের অধ্যায় রচনা করেছে জাতীয় দল, সেখানেই শনিবার নেপালের দলটিকে স্রেফ ৯৯ রানে আটকে রাখে এইচপি দল।
প্রথম দুই ওভারে তিনটিসহ ১৮ রানে চার উইকেট শিকার করেন রুবেল।
রান তাড়ায় ১০.২ ওভারেই জিতে যায় ইরফান শুক্কুরের নেতৃত্বাধনী দলটি। চার ছক্কায় ২৯ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন জিসান।
মারারা ওভালে ম্যাচের শুরুটা ছিল নাটকীয়। প্রথম বলেই স্লিপে কুশাল ভুর্তেলের ক্যাচ ছাড়েন জিসান। পরের বলটিতে পয়েন্টের ওপর দিয়ে বাউন্ডারি মারেন ত্রিত রাজ দাস। বোলার রোহানাত দৌলা বর্ষণ ঠিকই সাফল্য পেয়ে যান ওভারের শেষ বলে। বাইরের বলে ড্রাইভের চেষ্টায় কিপার ইরফানের হাতে ধরা পড়েন ত্রিত রাজ।
পরের ওভারে স্লিপে ক্যাচ নিতে ভুল করেননি জিসান। রুবেলের বল কিছুই না বুঝে আউট হন নেপালের অধিনায়ক আনিল শাহ।
তৃতীয় ওভারে আক্রমণে এসে পাওয়ান সারাফকে বিদায় করেন রিপন মন্ডল। আবার স্লিপে ক্যাচ নেন জিসান।
নড়বড়ে নেপালকে পরের ওভারে আরও টালমাটাল করেন দেন রুবেল। এক ওভারেই বিদায় করেন নেপাল জাতীয় দলের দুই নিয়মিত মুখ কুশাল মাল্লা ও লোকেশ বামকে।
চার ওভার শেষে নেপালের রান তখন ৫ উইকেটে ১৩।
ওপেনিংয়ে নেমে তখনও এক প্রান্ত আগলে ছিলেন ভুর্তেল। প্রতিরোধের চেষ্টা করেন তিনি শাহাব আলমকে নিয়ে। তবে রানের গতি যায় প্রায় থমকে। প্রথম ওভারের পর আরেকটি বাউন্ডারি পেতে অপেক্ষা করতে হয় নবম ওভার পর্যন্ত।
৩২ রানের জুটির ভাঙেন বাঁহাতি স্পিনার সামিউন বশির। ২৩ বলে ১১ করে বোল্ড হন শাহাব। ওই ওভারেই রান আউট হন নারায়ান জোসি।
লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে ভুর্তেল চেষ্টা করেন দলকে এগিয়ে নিতে। তাকে ফিরিয়ে চতুর্থ শিকার ধরেন রুবেল।
প্রথম তিন ওভারে স্রেফ ছয় রানে তিন নেওয়া রুবেল ষোড়শ ওভারে ফিরেই ভুর্তেলের ব্যাটে হজম করেন ছক্কা। তবে পরের বলেই শোধ তোলেন তাকে ফিরিয়ে। ৪০ বলে ৪৬ রান করে আউচ হন নেপালের জয়ে ১৫৪ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারকে।
নেপাল ইনিংসের শেষ তিন ওভারে বাউন্ডারি আসেনি একটিও। তিন অঙ্ক তাই ছুঁতে পারেনি তারা। শেষ ওভারে বল করে স্রেফ চার রান দেন শামীম হোসেন।
সহজ রান তাড়ায় বাংলাদেশের সূচনা হয় উড়ন্ত। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ওয়াইড ও বাই থেকে মেলে পাঁচ রান। শেষ তিন বলে এক চারের পর টানা দুটি ছক্কা মারেন জিসান। এর প্রথমটি দেখে ধারাভাষ্যকার বলেন, “এখনও পর্যন্ত আসরের সবচেয়ে বড় ছক্কা।”
প্রথম ওভার থেকে আসে ২১ রান।
বাউন্ডারি দিয়ে শুরু করা হাবিবুর রহমান সোহান একটু পরই আউট হয়ে যান বাঁহাতি স্পিনার সাহাবকে স্লগ করার চেষ্টায়। তবে জিসান ও আরিফুল ইসলাম অনায়াসেই লক্ষ্যে পৌঁছে দেন দলকে।
শাহাবকে স্লগ সুইপে গ্যালারিতে বল আছড়ে ফেলে ফিফটি পূর্ণ করার পাশাপাশি দলকে জিতিয়ে দেন জিসান। আরিফুল অপরাজিত থাকেন ২৭ বলে ৩৪ রানে।
টপএন্ড টি-টোয়েন্টিতে এই নিয়ে তৃতীয়ার অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। ৯ দলের আসরে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ রোববারই হোবার্ট হারিকেন্স একাডেমির বিপক্ষে।
নেপাল ‘এ’: ২০ ওভারে ৯৯/৯ (ভুর্তেল ৪৬, ত্রিত রাজ ৬, আনিল ০, সারাফ ০, মাল্লা ১, লোকেশ ২, সাহাব ১১, নারায়ান ১, রিজান ১০*, বিপিন ১১, আকাশ ৫*; বর্ষণ ৩-০-১৩-১, রুবেল ৪-০-১৮-৪, রিপন ৪-০-১৯-১, সাকলাইন ৪-০-১৮-০, সামিউন ৪-০-২৩-১, শামীম ১-০-৪-০)।
বাংলাদেশ এইচপি: ১০.২ ওভারে ১০১/১ (জিসান ৫২*, সোহান ৭, আরিফুল ৩৪*; রিজান ১-০-২১-১, বিপিন ২-০-২০-০, শাহাব ৩.২--০-২৭-১, ভুর্তেল ১-০-১১-০, সারাফ ২-০-১৫-০, আকাশ ১-০-৫-০)।
ফল: বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স দল ৯ উইকেটে জয়ী।