Published : 05 Aug 2026, 10:19 AM
দিনের খেলার তখন আর দুটি বল বাকি। ব্যাটসম্যানের মনোযোগ যখন হওয়ার কথা গভীর, তখনই যেন হারিয়ে ফেললেন রস্টন চেইস। আলগা ড্রাইভ খেলে ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক ফিরতি ক্যাচ দিলেন আলি উসমানকে। দিনের শেষটা পাকিস্তানের হলো দুর্দান্ত। দিনের প্রথম দুই সেশনে যদিও এগিয়ে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু শেষ সেশনে এমনভাবেই ঘুরে দাঁড়াল পাকিস্তান, জয়ের পথও তৈরি করে নিল তারা।
ত্রিনিদাদ টেস্টে উত্তেজনাপূর্ণ তৃতীয় দিনে খেলার মোড় বদলে গেল বারবার। দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এগিয়ে ৬০ রানে, তবে উইকেট বাকি তাদের মোটে চারটি। চোটের কারণে মাঠ ছেড়ে যাওয়া ব্র্যান্ডন কিংয়ের ব্যাটিং করা নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা।
ম্যাচের এই চিত্র দেখে বলা যেতে পারত, জয়ের সুবাস পাচ্ছে পাকিস্তান। কিন্তু প্রথম টেস্টে শেষ ইনিংসে যেভাবে ভেঙে পড়েছে পাকিস্তানের ব্যাটিং, তাতে এখনই ম্যাচের ফয়সালা দেখে ফেলা ঝুঁকিরই হবে।
২ উইকেটে ২৬৬ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করা পাকিস্তানের ব্যাটিং এ দিন পথ হারায় অনেকটাই। সেঞ্চুরিয়ান আব্দুল্লাহ শাফিক যদিও অটল ছিলেন এক প্রান্তে। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত রয়ে যান তিনি ১৬০ রানে। পাকিস্তানের ইনিংস থামে ৩৮৭ রানে। ছয় উইকেট শিকার করেন জোমেল ওয়ারিক্যান।
৪৩ রানে পিছিয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তৃতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ১০৩। প্রথম ইনিংসের চারটির সঙ্গে আরও চার উইকেট যোগ করেন সাজিদ খান।
দিনের শুরু থেকেই পাকিস্তানের ব্যাটিং ছিল ম্রিয়মান। আগের দিন দারুণ দাপট দেখানো বাবর আজম ছিলেন একদম গুটিয়ে। ২ রান করতে ২১ বল খেলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। ঝুঁকিপূর্ণ রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে যান তিনি ৮৮ রানে। তার প্রায় চার বছরের সেঞ্চুরি খরা ঘুচল না এবারও।
সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট করার সময় মাটিতে পড়ে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন কিং। সারাদিনে আর মাঠে নামতে পারেননি তিনি।
১৮৩ রানের জুটি ভাঙার পর আরও দুই উইকেট ধরা দেয় দ্রুত। ওয়ারিক্যানকে ক্রিজ ছেড়ে তেড়েফুঁড়ে মারতে গিয়ে বোল্ড হন অভিষিক্ত আওয়াইস জাফার। পরের ওভারেই ভেতরে ঢোকা গতিময় ডেলিভারিতে সালমান আলি আগাকে এলবিডব্লিউ করেন শামার জোসেফ।
৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর খানিকটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন মুহাম্মাদ রিজওয়ান। তবে দ্বিতীয় নতুন বলে দারুণ এক আর্ম ডেলিভারিতে এই কিপার-ব্যাটারকে বোল্ড করেন ওয়ারিক্যান।
সেই বিপদ থেকে পাকিস্তানকে উদ্ধার করেন শাফিক ও সাজিদ। এই দুজনের জুটিতে সাড়ে তিনশ পেরিয়ে আরও এগিয়ে যায় দল।
৫৯ রানের জুটি ভাঙেন জেডেন সিলস। ৩০ রানে আউট হন সাজিদ।
এরপর চোখের পলকে পাকিস্তানের লেজ গুটিয়ে দেন ওয়ারিক্যান। শুন্য রানে পতন হয় শেষ তিন উইকেটের। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে খেলে উইকেট হারান আলি উসমান। ওই ওভারেই টানা দুই বলে বোল্ড উবেইদ শাহ ও মোহাম্মাদ আলি। দ্বিতীয় ইনিংসে হ্যাটট্রিকের আশায় প্রথম বলটি করবেন ওয়ারিক্যান।
ক্যারিয়ারে তৃতীয়বার ইনিংসে পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন ওয়ারিক্যান, তিনটিই পাকিস্তানের বিপক্ষে।
৪৩ রানে পিছিয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেই ব্যবধান প্রায় ঘুচিয়ে দেয় শুরুর জুটিতেই। কিং ব্যাট করতে না পারায় তেজনারাইন চান্দারপলের সঙ্গে ইনিংস শুরু করেন কাভেম হজ। পাকিস্তানের দুই পেসারকে অনায়াসেই খেলে ৪০ রান তোলেন দুই ক্যারিবিয়ান ওপেনার। তবে স্পিন আক্রমণে আসতেই বদলে যায় দৃশ্যপট।
চান্দারপলকে (১৭) ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু দেন সাজিদ। তিনে নামা আমির জাঙ্গুকেও তিনি বোল্ড করে দেন। থিতু হয়ে যাওয়া হজকে (৩৪) ফেরান বাঁহাতি স্পিনার আলি উসমান।
দুই অভিজ্ঞ শেই হোপ ও চেইস চেষ্টা করেন জুটি গড়ার। কিন্তু দিনের শেষভাবে তিন উইকেট পড়ে যায় চার রানের মধ্যে। হোপ ও সিলসকে পরপর দুই ওভারে এলবিডব্লিউ করেন সাজিদ। এরপর শেষ সময়ে চেইসের সেই বিদায়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হতাশা আর পাকিস্তানের উচ্ছ্বাসে শেষ হয় দিন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৩৪৪
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ১১৫ ওভারে ৩৮৭ (আগের দিন ২৬৬/২) (শাফিক ১৬০*, বাবর ৮৮, জাফার ১, সালমান ০, রিজওয়ান ১৮, সাজিদ ৩০, উসমান ১০, উবেইদ ০, আলি ০; রোচ ১৩-১-৫০-০, সিলস ১৯-৪-৫৫-১, ওয়ারিক্যান ৪৬-৮-১১২-৬, শামার ১৭-০-৮৪-২, চেইস ৭-০-২২-০, হজ ১৩-০-৫৮-০)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: ৪০.৫ ওভারে ১০৩/৬ (চান্দারপল ১৭, হজ ৩৪, জাঙ্গু ১৩, চেইস ১৭, হোপ ১৫, সিলস ০, গ্রেভস ১*; আলি ৮-১-২৮-০, উবেইদ ৪-০-১৩-০, উসমান ১৬.৫-৩-২৯-২, সাজিদ ১২-২-৩২-৪)।