১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পাওয়ার প্লেতে দুর্দান্ত তাসকিন শেষে খরুচে

প্রথম তিন ওভারে আঁটসাঁট বোলিংয়ে ২ উইকেট নেওয়া তাসকিন চতুর্থ ওভারে হজম করেন চারটি ছক্কা।

পাওয়ার প্লেতে দুর্দান্ত তাসকিন শেষে খরুচে
বোলিংয়ের শুরুটা ভালো করলেও, শেষটা সুখকর হলো না তাসকিন আহমেদের জন্য। ছবি: শারজাহ ওয়ারিয়র্জ ফেইসবুক

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Dec 2025, 12:09 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:22 PM

একই ম্যাচে দেখা গেল তাসকিন আহমেদের ভিন্ন দুই রূপ। পাওয়ার প্লেতে তিন ওভারে দারুণ বোলিংয়ে তিনি নিলেন দুটি উইকেট। কিন্তু চতুর্থ ওভারে হজম করলেন চারটি ছক্কা। এতে শেষ পর্যন্ত তার বোলিং ফিগারও হয়ে গেল বিবর্ণ।

আইএল টি-টোয়েন্টিতে সোমবার শারজাহ ওয়ারিয়র্জের হয়ে আবু ধাবি নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৪১ রানে ২ উইকেট নেন বাংলাদেশের তারকা পেসার।

পাওয়ার প্লেতে তাসকিন প্রথম দুই ওভারে স্রেফ ৮ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন, তৃতীয় ওভারে দেন ৮ রান। স্লগ ওভারে, নিজের কোটার শেষ ওভারে তিনি খরচ করেন ২৫ রান।

আবু ধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকে ধুঁকতে ধুঁকতে ৯ উইকেটে ১৩৪ রান করতে পারে নাইট রাইডার্স।

সহজ ম্যাচ কঠিন করে ওয়ারিয়র্জ শেষ বলে জিতে যায় ৪ উইকেটে।

ম্যাচের প্রথম ওভারেই তাসকিনকে বোলিংয়ে আনেন ওয়ারিয়র্জ অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। প্রথম তিন বলে কোনো রান নিতে পারেননি ফিল সল্ট। চতুর্থ বল ব্যাটের কানায় লেগে চার পেয়ে যান এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান। পঞ্চম বলে আসেনি রান।

শেষ বলে উইকেট শিকার করেন তাসকিন। অফ স্টাম্পের বাইরের বল উড়িয়ে মারার চেষ্টায় আকাশে তুলে দেন সল্ট। কাভার থেকে বাঁ দিয়ে অনেকটা দৌড়ে গিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন আদিল রাশিদ। 

দ্বিতীয় ওভারে দারুণ ইনসুইঙ্গারে ব্র্যান্ডন ম্যাকমুলানকে এলবিডব্লিউ করে দেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাঁহাতি পেসার ওয়াসিম আকরাম।

তৃতীয় ওভারে তাসকিনের প্রথম বলে অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারি চার মারেন অ্যালেক্স হেলস। পরের বলেই তাকে ফিরিয়ে দেন তাসকিন। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করে কাভারে ইথান ডি’সুজার নিচু ক্যাচে ফেরেন হেলস।   

তাসকিনের আঁটসাঁট বোলিংয়ে বাকি চার বলে কোনো রান নিতে পারেননি আলিশান শারাফু। 

চতুর্থ ওভারে আরেকটি উইকেট নেন ওয়াসিম, কোনো রান না দিয়ে লিয়াম লিভিংস্টোনকে ফেরান তিনি। তার বোলিং ফিগার তখন ২-১-২-২!

পঞ্চম ওভারে দুটি বাউন্ডারি হজম করেন তাসকিন, দ্বিতীয় ও শেষ বলে চার মারেন শারাফু। বাকি চার বলে তাকে ক্রিজে বেঁধে রাখেন তাসকিন। এই ওভারে আসে ৮ রান।

পাওয়ার প্লেতে ৪ উইকেট হারিয়ে নাইট রাইডার্স করতে পারে কেবল ২৮ রান।

তাসকিন তার শেষ ওভারটি করতে আসেন ইনিংসের ১৯তম ওভারে। নাইট রাইডার্সের স্কোর তখন ৭ উইকেটে ১০৪।

এবার প্রথম বলে অফ স্টাম্পের বাইরে লেংথ ডেলিভারি লং-অফ দিয়ে ছক্কা মারেন আন্দ্রে রাসেল। দ্বিতীয় বলে ইয়র্কারে রান আসেনি। তৃতীয় বলে স্লোয়ারে ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার ছক্কা মারেন এবার লং-অন দিয়ে। চতুর্থ বলে তিনি নেন সিঙ্গল। শেষ দুটি লেংথ ডেলিভারি ছক্কায় ওড়ান আরেক ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার।

শেষ ওভারে কেবল ৫ রান দিয়ে এই দুই ব্যাটসম্যানকেই আউট করেন আদিল রাশিদ। ৪ ওভারে ১৮ রানে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন এই ইংলিশ লেগ স্পিনার।

এবারই প্রথম সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেন তাসকিন। অভিষেক ম্যাচে ৪ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি। পরের ম্যাচে ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে নিতে পারেন একটি উইকেট। তৃতীয় ম্যাচে ৩ উইকেট নিতে পারলেও, ৪ ওভারে দিয়ে ফেলেন ৪০ রান। 

তবে চতুর্থ ম্যাচে ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও শুরুটা ভালো করলেও, শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারলেন না ৩০ বছর বয়সী পেসার।