মজিদের সেঞ্চুরি, অভিষেকে মহব্বতের ৭ ছক্কার ঝড়

নাঈম আহমেদ, মুকিদুল ইসলামের বোলিংয়ে ৮৪ রানে গুটিয়ে টানা সাত ম্যাচ হারল সিটি ক্লাব, একই হাল রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবের।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 March 2024, 01:54 PM
Updated : 31 March 2024, 01:54 PM

আগের রাউন্ডে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেললেও অল্পের জন্য সেঞ্চুরি করতে পারেননি আব্দুল মজিদ। পরের ম্যাচেই সেই আক্ষেপ দূর করলেন ঘরোয়া ক্রিকেটের এই পরিচিত মুখ। তার শতক ছোঁয়া ইনিংসে টানা তৃতীয় জয় পেল ব্রাদার্স ইউনিয়ন। 

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সপ্তম রাউন্ডে মজিদের সেঞ্চুরির দিনে নাঈম আহমেদ ও মুকিদুল ইসলামের নৈপুণ্যে সিটি ক্লাবকে উড়িয়ে দিয়েছে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। স্বীকৃত ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচে ৭ ছক্কার ঝড়ো ইনিংসে গাজী টায়ার্সকে জিতিয়েছেন মহব্বত হোসেন।

মজিদের সেঞ্চুরিতে ব্রাদার্সের টানা তিন 

বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের আট নম্বরে অবস্থান করছে তারা।  

সকালের বৃষ্টিতে মাঠ ভেজা থাকায় ৪৩ ওভারে নেমে আসে ম্যাচ। আগে ব্যাট করে ২২৪ রানের পুঁজি দাঁড় করায় পারটেক্স। জবাবে ৮ বল বাকি থাকতেই জিতে যায় ব্রাদার্স। এ নিয়ে সাত ম্যাচে ছয়টি হারল পারটেক্স। 

আগের রাউন্ডে ৯৫ রানের ইনিংস খেলা মজিদ এদিন অপরাজিত থাকেন ১০২ বলে ১০৫ রান করে। ১১ চারের সঙ্গে ২ ছক্কায় সাজান ম্যাচ জেতানো ইনিংস। 

রান তাড়ায় ঝড়ো শুরু করে স্রেফ ৩৩ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করেন ৩৩ বছর বয়সী ওপেনার। পরে রয়েসয়ে খেলে লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ৯৬ বলে।  

উদ্বোধনী জুটিতে রহমতউল্লাহ আলির সঙ্গে তিনি যোগ করেন ৭৬ রান। পরের ব্যাটসম্যানরা বেশিক্ষণ টিকতে না পারলে দেড়শর আগে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে ব্রাদার্স। 

ষষ্ঠ উইকেটে অধিনায়ক মনির হোসেনকে গড়া ৬৮ রানের জুটিতে দলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেন মজিদ। মনির ৩৬ রানে ফিরলেও ম্যাচ শেষ করেই থামেন মজিদ। 

এর আগে পারটেক্সের শুরুটা তেমন ভালো হয়নি। চল্লিশের আগে ড্রেসিং রুমের ফেরেন দুই ওপেনার। তৃতীয় উইকেটে ৭৯ রানের জুটি গড়েন মিজানুর রহমান ও জাহিদুজ্জামান। ৪৩ রান করে আউট হন জাহিদুজ্জামান। মিজানুর খেলেন ৫২ রানের ইনিংস।  

পরে অবিচ্ছিন্ন সপ্তম উইকেট জুটিতে ৬৮ বলে ৮২ রান যোগ করেন তোফায়েল আহমেদ ও মুক্তার আলি। ১ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৪ বলে ৩৮ রান করেন তোফায়েল। ৪ চার ও ২ ছক্কায় ২১ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন মুক্তার। 

ব্রাদার্সের পক্ষে ৪ উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার রাহাতুল ফেরদৌস।  

সংক্ষিপ্ত স্কোর:  

পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাব: ৪৩ ওভারে ২২৪/৬ (আজমির ১৫, অভিষেক ১, মিজানুর ৫২, জাহিদুজ্জামান ৪৩, তানবীর ২১, মাইশুকুর ২, তোফায়েল ৩৮*, মুক্তার ৩৯*; আবু জায়েদ ৬-১-৫১-১, সালাউদ্দিন ৬-০-৫১-০, নাঈম ৭-০-২৯-০, রাহাতুল ৯-০-৩২-৪, রহমতউল্লাহ ৬-০-২৬-১, মনির ৯-০-৩৫-০) 

ব্রাদার্স ইউনিয়ন: ৪১.৪ ওভারে ২২৫/৬ (রহমতউল্লাহ ২৬, মজিদ ১০৫*, শাকিল ০, মাহমুদুল ২১, আসিফ ১৩, রাহাতুল ০, মনির ৩৬, মারাজ ১৪*; মোহর ৪.৪-০-৪৫-০, মুক্তার ৯-০-৫৩-৩, রাজিবুল ৮-০-৪৫-০, রাকিবুল ৯-০-৩০-১, তোফায়েল ৯-০-৩৮-১, তানবির ২-০-৯-১) 

ফল: ব্রাদার্স ইউনিয়ন ৪ উইকেটে জয়ী 

ম্যান অব দা ম্যাচ: আব্দুল মজিদ 

সিটি ক্লাবকে উড়িয়ে দিল শাইনপুকুর 

ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে সিটি ক্লাবকে ৯২ রানে হারায় শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব।  

ভেজা মাঠের কারণে ৪০ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ১৭৬ রানে গুটিয়ে যায় শাইনপুকুর। পরে ব্যাটিং ধসে স্রেফ ৮৪ রানে গুটিয়ে যায় সিটি ক্লাব। 

অথচ রান তাড়ায় উড়ন্ত শুরু করেন সিটি ক্লাবের দুই ওপেনার সাদিকুর রহমান ও হাসানুজ্জামান। ৪ ওভারে ৪৬ রান করে ফেলেন দুজন। তৃতীয় ওভারে নাঈম আহমেদের বলে ১ চারের পর ২টি ছক্কা মারেন হাসানুজ্জামান। 

নিজের পরের ওভারে হাসানুজ্জামানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নাঈম। নবম ওভারে সাদিকুরকেও ফেরান দীর্ঘদেহী অফস্পিনার। একই ওভারে তার শিকার সিটি ক্লাবের অধিনায়ক শাহরিয়ার কোমল।  

প্রথম ওভারে ১৬ রান খরচ করা নাঈম পরের ৪ ওভারে দুই মেইডেনসহ দেন স্রেফ ৩ রান। শুরুর ধাক্কা দেওয়া বোলিংয়ে তার হাতেই ওঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।    

নাঈমের পর সিটি ক্লাবের ইনিংসে ধস নামান মুকিদুল ইসলাম। ৪ ওভারে ২২ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন তিনি। লেগ স্পিনে ৩ ওভারে স্রেফ ২ রানে ২ উইকেট নেন রিশাদ হোসেন।  

ম্যাচের প্রথমভাগে আরও একবার অল্প রানেই ফেরেন তানজিদ হাসান। একাদশে ফেরা তরুণ ব্যাটসম্যান জিসান আলমও পারেননি কিছু করতে। ওপেনিং থেকে সরে তিন নম্বরে নামা খালিদ হাসান খেলেন ম্যাচের সর্বোচ্চ ৪৭ রানের ইনিংস। 

পরে আকবর আলি, ইরফান শুক্কুর হতাশ করেন।  ছয় নম্বরে নামা এসএম মেহেরব হাসান ৪ ছক্কায় ৪৮ বলে ৩৮ রান করলে দেড়শ ছাড়ায় শাইনপুকুর। সেই রানই যথেষ্ট জয় বড় জয়ের জন্য। 

এ নিয়ে সাত ম্যাচের সবকটি হারল সিটি ক্লাব। সমান ম্যাচে ৪ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের ছয় নম্বরে শাইনপুকুর। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব: ৩৮.৩ ওভারে ১৭৬ (তানজিদ ৬, জিসান ৮, খালিদ ৪৭, আকবর ১২, ইরফান ২৪, মেহেরব ৩৮, আরাফাত ১০, রিশাদ ০, রবিউল ২২, মুকিদুল ২*, নাঈম ০; ইফরান ৭.৩-০-২৬-৪, গালিব ৫-০-৪১-০, সঞ্জিত ৮-১-৩১-০, মইনুল ৫-১-৩৫-৩, রাফসান ৮-০-১৯-০, আশিকুল ৫-০-২১-২) 

সিটি ক্লাব: ২০ ওভারে ৮৪ (সাদিকুর ৩০, হাসানুজ্জামান ১৭, শাহরিয়ার ১১, আশিকুল ৭, মইনুল সোহেল ০, রাফসান ৪, মইনুল ইসলাম ৩, ইফরান ১, সঞ্জিত ২*, গালিব ১; রবিউল ৫-০-১৮-১, মুকিদুল ৪-০-২২-৪, নাঈম ৫-২-১৯-৩, আরাফাত ৩-০-২১-০, রিশাদ ৩-১-২-২) 

ফল: শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব ৯২ রানে জয়ী 

ম্যান অব দা ম্যাচ: নাঈম আহমেদ

অভিষেকেই মহব্বতের ঝড় 

স্বীকৃত ক্রিকেটে প্রথমবার খেলতে নেমেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখান মহব্বত হোসেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বেশ ভালো পুঁজি পায় গাজী টায়ার্স ক্রিকেট একাডেমি। পরে মারুফ মৃধা, শামিম মিয়ার বোলিংয়ে রূপগঞ্জ টাইগার্সকে বেশি দূর যেতে দেয়নি তারা। 

বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে ৪৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ৭১ রানে জয় পায় গাজী টায়ার্স। ২৩৮ রানের লক্ষ্যে ২৬ বল বাকি থাকতে ১৬৬ রানে গুটিয়ে যায় রূপগঞ্জ টাইগার্স।    

টানা পাঁচ পরাজয়ের পর দুই ম্যাচ জিতল গাজী টায়ার্স। পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকা রূপগঞ্জ টাইগার্স এখনও খুঁজছে প্রথম জয়ের পথ। 

৩ চার ও ৭ ছক্কায় ৪৭ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলে গাজী টায়ার্সের জয়ের নায়ক মহব্বত। ৫৪ রান শুধু বাউন্ডারি থেকেই করেন ২৯ বছর বয়সী অভিষিক্ত ওপেনার। 

তৃতীয় ওভারে রোহানাত দৌল্লাহ বর্ষণের বলে প্রথম ছক্কা মারেন মহব্বত। পরে ষষ্ঠ ওভারে সোহাগ গাজীর বলে ৩ ছক্কার পর মারেন একটি চার। ৩৫ বলে ২ চার ও ৬ ছক্কায় পূর্ণ করেন পঞ্চাশ রান। এরপর আরও ১টি করে চার-ছক্কা মেরে আবু হাশিমের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি।  

মহব্বতের উড়ন্ত শুরুর পর ইফতেখার হোসেনের ব্যাট থেকে আসে ৪১ রানের ইনিংস। এর সঙ্গে আশরাফুল আলম, হাফিজুর রহমানরা ছোট ছোট ইনিংস খেললে আড়াইশর কাছাকাছি পৌঁছায় গাজী টায়ার্স। 

রান তাড়ায় আইচ মোল্লার ব্যাটে ইতিবাচক শুরু করে রূপগঞ্জ টাইগার্স। ২৩তম ওভারে একশ রান করে ফেলে তারা। এরপর ৬ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। আইচ করেন ৬১ বলে ৪২ রান। 

একপ্রান্ত ধরে রেখে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন চার নম্বরে নামা শামসুর রহমান। ৬২ বলের ইনিংসে ৪ চারের সঙ্গে ২টি ছক্কা মারেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। আর কেউ তেমন কিছু করতে না পারায় পুরো ওভারও খেলতে পারেনি রূপগঞ্জ টাইগার্স। 

৩টি করে উইকেট নেন মারুফ ও শামিম। লিগের সাত রাউন্ড শেষে ১৯ উইকেট নিয়ে সবার ওপরে তরুণ বাঁহাতি পেসার মারুফ।  

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

গাজী টায়ার্স ক্রিকেট একাডেমি: ৪৩ ওভারে ২৩৭/৯ (আশিকুর ২, মহব্বত ৬৩, ইফতেখার ৪১, আশরাফুল ২৮, তাহজিবুল ১৩, হাফিজুর ২৫, শামিম ৬, আরিদুল ১১, ইকবাল ১৯*, মারুফ ৪*; বর্ষণ ৭-০-৪৪-১, নাবিল ৯-০-৪৯-২, সোহাগ ৪-০-৪১-০, মামুন ৭-০-৩৪-১, হাশিম ৮-০-২৭-২, গালিব ৮-০-২৭-২) 

রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব: ৩৮.২ ওভারে ১৬৬ (আইচ ৪২, মামুন ২২, ফরহাদ ৬, শামসুর ৫৮, গালিব ১, মাহফিজুল ২, সোহাগ ৮, সালমান ৭, হাশিম ৮, বর্ষণ ১, নাবিল ৩*; লিওন ৯-১-২৬-১, আরিদুল ৮-০-৪৪-২, মারুফ ৬.২-০-২৬-৩, ইকবাল ৬-০-৩৫-০, শামিম ৯-০-৩৩-৩) 

ফল: গাজী টায়ার্স ক্রিকেট একাডেমি ৭১ রানে জয়ী 

ম্যান অব দা ম্যাচ: মহব্বত হোসেন