Published : 09 Dec 2023, 07:16 PM
সংস্করণ যা-ই হোক, বাংলাদেশের যে কোনো নেতিবাচক পারফরম্যান্সের পর সবার আগে কাঠগড়ায় ওঠে ম্যাচের উইকেট। বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর ভালো পিচে খেলার আকুতি জানান নাজমুল হোসেন শান্ত। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট হারের পরও তার ভাবনা অভিন্ন। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য ওই চাওয়া, তা পরিষ্কার করলেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক।
টেস্ট ক্রিকেট তো বটেই, কখনও কখনও ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টিতেও মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মন্থর-নিচু উইকেট বানিয়ে স্বাগত জানানো হয় প্রতিপক্ষ দলগুলোকে। এই পরিকল্পনায় সাফল্য যেমন মেলে, তেমনি নিয়মিত সঙ্গী হয় ব্যর্থতার গ্লানিও। যার সবশেষ নজির নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট।
স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে যেন নিজেদের খোঁড়া কবরেই সমাহিত হয়েছে বাংলাদেশ। দুই ইনিংসেই ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় সিরিজ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করেছে তারা। সংস্করণ ভিন্ন হলেও, দল হিসেবে ব্যাটিংয়ের এই ব্যর্থতার ধারা চলছে গত বিশ্বকাপ থেকে।
হতাশাময় ওই বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ হারের পর দেশে ভালো উইকেটে খেলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন শান্ত। কিন্তু দেশে ফিরে প্রথম সিরিজেই মিরপুরে দেখা গেল স্পিনবান্ধব উইকেট। যেখানে ব্যাটসম্যানদের কাজ ছিল কঠিন। তাই ম্যাচ হারের পর স্বাভাবিকভাবেই উঠল এমন উইকেটে খেলে উন্নতি কতটা হবে, সেই প্রসঙ্গ।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত জানালেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের লক্ষ্য একটাই, জয়।
“যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলি, বিশেষ করে এই সংস্করণে... আমার মনে হয়, এখানে তো উন্নতি করতে আসিনি, জিততে এসেছি। জেতার জন্য আমাদের প্রস্তুতিটা কেমন হওয়া উচিত, তা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই ধরনের (ঘরের মাঠের) সুবিধা অবশ্যই নেওয়া উচিত।”
শান্তর মতে, এই লক্ষ্য পূরণে প্রস্তুত হওয়ার জন্য ব্যবহার করতে হবে ঘরোয়া ক্রিকেট।
“আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় যে, আমরা যখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলি, সেখানে আমরা ভালো উইকেটে বা এমন কন্ডিশন বানায়ে প্র্যাকটিস করতে পারি... যখন আমরা দেশে খেলব, এনসিএলে (জাতীয় ক্রিকেট লিগ) এমন উইকেটে খেললাম দুই-তিনটা ম্যাচ। আবার দেশের বাইরের জন্য দুই-তিনটা উইকেট আমরা বানালাম।”
“আমার মনে হয়, এটা (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট) প্রস্তুতির জায়গা না। বা এখানে উন্নতি করারও কিছু নেই যে, এখানে ভালো উইকেটে খেলে আমরা ভালো ম্যাচ খেললাম। এনসিএল বা বিসিএলে (বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ) আমরা ভালো উইকেট, স্পিনিং উইকেট বানিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে তারপর আমরা এখানে আসব। এখানে আমরা জেতার জন্য আসি।”
অথচ সিলেটে সিরিজের প্রথম টেস্টেই দেখা গেছে তুলনামূলক ভালো উইকেট। ম্যাচের পাঁচ দিনই একরকম ভারসাম্য ছিল ব্যাটিং-বোলিংয়ের ক্ষেত্রে। যেখানে রীতিমতো দাপট দেখিয়ে ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে রেকর্ডময় সেঞ্চুরি করেছেন শান্ত নিজেই।
মিরপুরের উইকেটে দলের নেতিবাচক ফল নিয়ে তিনি ব্যাটিং ব্যর্থতার দিকেই জোর দিলেন বেশি।
“সিলেটের উইকেটে বোলারদের জন্য খুব একটা সাহায্য যে ছিল, তা বলব না। বোলাররা কষ্ট করে বোলিং করেছে, ব্যাটাররাও কষ্ট করে... দুই রকমই ছিল, দুই ধরনের সাহায্যই ছিল। এই উইকেট নিয়ে যদি বলি, আমরা ব্যাটসম্যানরা খুব একটা ভালো ব্যাটিং করিনি। প্রথম ইনিংসে ২৩০-২৪০ রানের উইকেট ছিল। ওই জায়গায় আমরা রানটা কম করার কারণে মনে হয়েছে উইকেটটা অনেক খারাপ।”
“অবশ্যই নতুন বলে চ্যালেঞ্জ ছিল, সেটা প্রতিটি পরিস্থিতিতে থাকে। যখন দেশের বাইরে খেলি, তখন নতুন বলের একটা চ্যালেঞ্জ থাকে। তো এখানে আলাদা কিছু ছিল না। আমরা ব্যাটিংটা আরেকটু ভালো করলে হয়তো এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না।”
দল হেরে যাওয়ায় উইকেটকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতেও রাজি নন শান্ত। বরং এমন চ্যালেঞ্জের মুখে ভালো খেলার পথ খোঁজার কথাই বললেন তরুণ অধিনায়ক।
“উইকেটে দুই রকমই ছিল... বাউন্সও হচ্ছিল, টার্নও করছিল। ব্যাটসম্যানের জন্য কঠিন ছিল। তবে ব্যাটসম্যান হিসেবে এই চ্যালেঞ্জগুলো উপভোগ করা উচিত। কারণ এই ধরনের উইকেট আমরা চেয়েছিলাম। তো ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে কীভাবে বড় একটা জুটি গড়ে দলকে ভালো অবস্থায় নিয়ে যেতে পারি, এটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আশা করি, সামনের দিকে ব্যাটসম্যানরা এই ধরনের কন্ডিশন উপভোগ করবে।”