Published : 28 Jul 2026, 05:45 PM
দুই দফায় পরীক্ষা দিয়ে বোলিং অ্যাকশন বৈধ প্রমাণ করেছেন উসমান তারিক। তবুও তার বোলিং করার ধরন নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। এনিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলা ব্যাটসম্যানদের এবার একহাত নিলেন পাকিস্তানের এই স্পিনার।
তারিকের বোলিং অ্যাকশন কিছুটা অদ্ভুত। রান-আপে এগিয়ে গিয়ে ডেলিভারি স্ট্রাইডে তিনি অস্বাভাবিকভাবে থেমে যান, যা অনেক সময় ২-৩ সেকেন্ডও স্থায়ী হয়। এরপর বল ডেলিভারি করেন অনেকটাই লো-আর্ম বা সাইড-আর্ম কিংবা স্লিঙ্গিং অ্যাকশনে। তার বোলিংয়ের সবচেয়ে আলোচিত দিক মূলত এটিই।
তারিকের অপ্রচলিত বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালের পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ম্যাচ রেফারির কাছে তার সন্দেহজনক অ্যাকশন নিয়ে রিপোর্ট করেন আম্পায়ার আসিফ ইয়াকুব ও রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ। এরপর ২০২৫ সালের পিএসএলেও অন-ফিল্ড আম্পায়াররা পুনরায় তার অ্যাকশন নিয়ে অভিযোগ জানান। কিন্তু দুইবারই পরীক্ষায় তার অ্যাকশন বৈধ প্রমাণিত হয়।
তবুও তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আঙুল তোলা যেন থামার নয়। চলতি বছরের শুরুর দিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের সময় তার অ্যাকশনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ক্যামেরন গ্রিন। দ্বিতীয় ম্যাচে আউট হওয়ার পর, বেসবল খেলোয়াড়দের মতো বল ছোড়ার ভঙ্গি করে তারিকের বোলিং অ্যাকশনের দিকে ইঙ্গিত করেন অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার।
গ্রিনের সেই ভঙ্গি নিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোঁচা মারেন তারিক। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ছোট বাচ্চার কান্নার ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, “আউট হওয়ার পর…”
গত আইএলটি-টোয়েন্টির প্রথম কোয়ালিফায়ারে তারিকের সামনেই এসে তার বোলিং অ্যাকশন নকল করতে দেখা যায় এমআই এমিরেটসের টম ব্যান্টনকে। ডেজার্ট ভাইপার্সের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ৬৩ রান করে তারিকের বলেই আউট হয়েছিলেন ইংলিশ ব্যাটসম্যান।
চলমান ইংল্যান্ডের একশ বলের টুর্নামেন্ট দা হান্ড্রেডেও ওঠে তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন। বার্মিংহাম ফিনিক্সের এই স্পিনারের বলে কট বিহাইন্ড হওয়ার পর, আম্পায়ারকে ‘নো বল’ দেওয়ার জন্য ইশারা করেন ট্রেন্ট রকেটসের অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান টিম ডেভিড। যদিও তার আবেদন আমলে নেননি আম্পায়ার।
বারবার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিরক্ত লাগাই স্বাভাবিক। ‘বিয়ার্ড বিফোর উইকেট’ পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, পেশাদার ক্রিকেটারদের খেলার নিয়ম বোঝার মতো যথেষ্ট বুদ্ধিমান ও পরিণত হওয়া উচিত।
“এটা ওই ক্রিকেটারদের মানসিকতা ফুটিয়ে তোলে। কারণ এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা তার কাজ নয়। আমি সাধারণত এসবের জবাব দেই না। তবে টম ব্যান্টন আমার সামনে এসে এমনটা (বোলিং অ্যাকশনের অনুকরণ) করছিল, তাই আমিও তাকে কিছু কড়া কথা শুনিয়ে দেই।
“আমার কাছে মনে হয়, এটা তোমাদের (ব্যাটসম্যানদের) কাজ নয়, এসব বিষয় চিহ্নিত করার দায়িত্বও তোমাদের নয়। মাঠে ও মাঠের বাইরে দায়িত্বপ্রাপ্ত আম্পায়াররা আছেন, তারাই কেবল আমার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে খেলার নিয়ম বোঝার জন্য আমাদের যথেষ্ট বুদ্ধিমান ও পরিণত হওয়া উচিত। এমন নেতিবাচক কাজ না করে নিজেদের পেশাদার হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরাই শ্রেয়।”
এবারের দা হান্ড্রেডে এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে দুটি উইকেট নিয়েছেন তারিক। এছাড়া ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে ১১ ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়ে দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন তিনি। ওই আসরে তার গড় ছিল ১৬ এবং ওভারপ্রতি রান দেন কেবল ৬.০৯।