শান্তর ফর্ম নিয়ে ক্যালিসের উদাহরণ দিলেন ডমিঙ্গো
ছন্দের খোঁজে ভুগতে থাকা শান্তকে নিয়ে আরও ধৈর্য ধরতে বললেন বাংলাদেশের কোচ।
প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ জিতলেও ভালো কাটেনি নাজমুল হোসেন শান্তর। দ্বিতীয় ম্যাচে দল যখন নামবে সিরিজ জয়ের অভিযানে, এই ওপেনার একাদশে জায়গা পেলে তার সামনে শঙ্কা থাকবে ‘হ্যাটট্রিকের।’ তবে এমন এক হ্যাটট্রিক, যা চান না কেউই। টানা তিন ম্যাচে ‘গোল্ডেন ডাক!’ রাসেল ডমিঙ্গো অবশ্য আরও ধৈর্য ধরতে বলছেন শান্তকে নিয়ে। উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে আনলেন কিংবদন্তি জ্যাক ক্যালিসকে।
ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৮৭ রান তাড়ায় নেমে ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দিপক চাহারের বলে স্লিপে ধরা পড়েন শান্ত। এই ম্যাচের আগে বাংলাদেশের সবশেষ ওয়ানডেতেও প্রথম বলে আউট হন তিনি। গত অগাস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচে তিনি নেমেছিলেন তিনে। ব্র্যাড ইভান্সের বলে ক্যা দেন তখন পয়েন্টে।
সব মিলিয়ে ১৪ ওয়ানডে খেলে তার ব্যাটিং গড় এখন ১৪ ছুঁতে পারছে না (১৩.৫০)। ৮ ইনিংসেই তিনি আউট দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগে। সর্বোচ্চ ইনিংসটি স্রেফ ৩৮ রানের। খুব আগ্রাসী খেলতে গিয়ে বা ইতিবাচক মানসিকতার ছাপ রাখতে গিয়ে যে বারবার আউট হননি, সেটির প্রমাণ তার ৬০.৯৬ স্ট্রাইক রেট।
সব মিলিয়ে শান্তকে নিয়ে প্রশ্ন উচ্চকিত হচ্ছে ক্রমেই। প্রথম ম্যাচের একাদশে তার জায়গা পাওয়াটাও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। দ্বিতীয় ওয়ানডের আগের দিন মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন ডমিঙ্গো।
“আমি ডানহাতি-বাঁহাতি উদ্বোধনী জুটির কম্বিনেশন পছন্দ করি। দ্বিতীয় ব্যাপার হলো, মনে হচ্ছে সাদা বলের ক্রিকেটে সে পথ খুঁজে নিতে শুরু করেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুটি ফিফটি করেছে।”
শুধু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্যাটিং থেকেই নয়, শান্তকে নিয়ে এমনিতেও অনেক আশা বাংলাদেশ কোচের। দক্ষিণ আফ্রিকার এই কোচ এই প্রসঙ্গে টেনে আনলেন তার দেশের গ্রেট অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিসকে।
“দেখুন, আমি আপনাকে বলতে পারি, অনেক গ্রেট ক্রিকেটার আছে, প্রথম ২০-২৫ ওয়ানডেতে যাদের গড় ছিল ২০। টেস্ট ক্রিকেটের কথা বললে, জ্যাক ক্যালিসের প্রথম ১২ টেস্ট শেষে গড় ছিল সম্ভবত ১২, কিন্তু পরে সে সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের একজন হয়েছে।”
১২ টেস্ট অবশ্য ক্যালিসের ব্যাটিং গড় ১২ নয়, ছিল ২৫.৪৭। ততদিনে গ্লেন ম্যাকগ্রা, শেন ওর্য়ানদের সামল মেলবোর্নে চতুর্থ ইনিংসে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি তিনি করে ফেলেছেন। পোর্ট এলিজাবেথে ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস, শোয়েব আখতারদের খেলে করেছেন ফিফটি। সম্ভাবনার ঝিলিক ততদিনে অনেকটাই দেখিয়েছিলেন তিনি।
শান্তর টেস্ট রেকর্ড অবশ্য তুলমূলকভাবে একটু ভালো অন্য দুই সংস্করণের চেয়ে। ১৯ টেস্টে ব্যাটিং গড় ২৬.০৮। দুটি সেঞ্চুরি তিনি করেছেন শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, দুটিই দেশের বাইরে। তবে টেস্টেও সবশেষ ১৪ ইনিংসে তার ফিফটি নেই।
শান্তর যে পারফর্ম করার সময় হয়েছে, সেটি অবশ্য স্বীকার করছেন ডমিঙ্গো। পাশাপাশি ২৪ বছর বয়সী ক্রিকেটারকে আরেকটু সময়ও দিতে বলছেন তিনি।
“আমরা অবশ্যই জানি, শান্তর আরও ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করা উচিত। তবে কিছু ‘ট্রিকি’ কন্ডিশনে তাকে খেলতে হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর কঠিন ছিল, সে কয়েকটি ভালো ইনিংস সেখানে খেলেছে।”
“দেখুন, কিছু ক্রিকেটারকে নিয়ে আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। ১২ ওয়ানডে দিয়ে (১৪টি) আসলে কিছু বোঝা কঠিন। ভালো কিছু প্রতিপক্ষের সঙ্গে কঠিন কন্ডিশনে তাকে খেলতে হয়েছে। তাই ধৈর্য ধরতে হবে এবং ওই ক্রিকেটারদের সুযোগ করে দিতে হবে ফর্ম খুঁজে নেওয়ার।”
