‘অভিজ্ঞতার কারণে’ টেস্ট দলে মুমিনুলকে আরেকটি সুযোগ

ভুলগুলো শুধরে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান নিজেকে ফিরে পাবেন বলেই বিশ্বাস প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনের।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 Dec 2022, 03:02 PM
Updated : 8 Dec 2022, 03:02 PM

একসময় মুমিনুল হক সাদা পোশাকে ব্যাট হাতে নামলেই বয়ে যেত রানের স্রোত। বিশেষ করে দেশের মাঠে। এখন সেই মুমিনুল যেন রান করতেই ভুলে গেছে। দেশ হোক বা বিদেশ, টেস্ট ক্রিকেট কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেট, বা যে কোনো ধরনের ক্রিকেট, তিনি স্রেফ নিজের ছায়া হয়ে আছেন। তবু সেই ছায়ায় তাকিয়ে অভিজ্ঞতার আলোটুকু চোখে পড়ছে জাতীয় নির্বাচকদের। ৩১ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানকে তাই দেওয়া হয়েছে আরেকটি সুযোগ। 

ফর্ম ও ছন্দ হারিয়ে ধুঁকতে থাকা মুমিনুল হক টিকে গেছেন ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের বাংলাদেশ দলে। 

যে মাঠে টেস্ট, সেই জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে ১২ টেস্টে তার সেঞ্চুরি ৭টি। এই মাঠে ৬৩.৪২ গড়ে রান করেছেন ১ হাজার ২০৫। এই পরিসংখ্যান মাথায় রাখলে তাকে টেস্ট দলে সবার আগে রাখার কথা। কিন্তু সাম্প্রতিক বাস্তবতা যে ভিন্ন! 

সবশেষ ১৭ টেস্ট ইনিংসে তার ফিফটি একটি, এর মধ্যে গত ৯টিতে ছুঁতে পারেননি দুই অঙ্ক। নিজের ওপর থেকে চাপ সরাতে গত জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগে ছেড়ে দেন নেতৃত্বের ভার। কিন্তু তাতেও খুঁজে পাননি নিজেকে। ওই সফরে প্রথম টেস্টে ব্যর্থতার পর একাদশে জায়গা পাননি দ্বিতীয় টেস্টে। 

গত কিছুদিনে তিনি সেভাবে রান পাননি কোথায়ও। জাতীয় লিগে দুই ম্যাচ খেলে ফিফটি করতে পারেন একটি। বিসিবি একাদশের হয়ে চেন্নাই সফরে গিয়েও প্রাপ্তি ছিল একটি ফিফটিই। সম্প্রতি বিসিএলের ওয়ানডে সংস্করণে তিন ম্যাচে তার রান ০, ২৯ ও ০। 

এরপর বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে প্রথম আনঅফিসিয়াল টেস্টে করেন ৪ ও ১৭। দ্বিতীয় ম্যাচটি চলছে, যেখানে তিনি প্রথম ইনিংসে বিদায় নেন ১৫ রানে। এমনকি তার জন্য রান প্রসবা চট্টগ্রামের এই মাঠেও তার সবশেষ তিন টেস্ট ইনিংস ৬, ০ ও ২। 

তার পরও কেন তাকে রাখা হলো টেস্ট দলে, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ব্যাখ্যা দিলেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন। 

“অভিজ্ঞতার কারণে আরেকটি সুযোগ আমরা ওকে দিচ্ছি। যেহেতু টেস্ট ক্রিকেটে ওর রেকর্ড এখনও যথেষ্ট ভালো এবং অভিজ্ঞতা তো সবসময়ই একটা বড় ব্যাপার। এজন্য ওকে রেখে দেওয়া হয়েছে।” 

“সবার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, অনেক কথা হয়েছে এবং সবাই একমত। আপাতত অনুশীলন করতে থাকুক। টিম ম্যানেজমেন্ট দেখুক। তারা অবস্থা বুঝতে পারবে।” 

মুমিনুলের যে শুধু ফর্ম নেই, তা-ই নয়। তার ব্যাটিং দেখলে মনে হয়, আত্মবিশ্বাসের ছিটেফোঁটাও যেন অবশিষ্ট নেই। অনেক সময় এসব ক্ষেত্রে অনেককে কঠিন পরীক্ষায় ঠেলে না দিয়ে কিছুদিন দূরে রেখে নির্ভার করে তোলার পথ বেছে নেওয়া হয়। তবে মুমিনুলকে নিয়ে এখনই তেমন ভাবনা নেই নির্বাচকদের। বরং তাদের চাওয়া, জাতীয় দলের কোচিং স্টাফদের সঙ্গে কাজ করে এই ব্যাটসম্যান নিজের দুর্বলতা নিয়ে কাজ করুক। 

“আমরা চাচ্ছি, আমাদের টিম ম্যানেজমেন্ট, কোচদের সঙ্গে কাজ করুক। আশা করি, ওর সমস্যা যা আছে, সেটা শুধরে ভালোভাবে ফিরে আসবে।” 

মুমিনুলের টিকে যাওয়ার মতো প্রশ্ন উঠছে মুস্তাফিজুর রহমানের টিকতে না পারাও। গত জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগে তাকে লাল বলের ক্রিকেটে ফেরানো হয় অনেক হইচই তুলে। কিন্তু ক্যারিবিয়ায় একটি টেস্ট খেলার পর দ্বিতীয় টেস্টে আর তিনি ছিলেন না একাদশে। এবার তো স্কোয়াডেই নেই। 

তাকে নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের পরীক্ষা আপাতত বন্ধ কিনা, এই প্রশ্নে প্রধান নির্বাচক জানালেন অন্য ভাবনার কথা। 

“পরীক্ষা বন্ধ হওয়ার কোনো ব্যাপার নয়। সে তো অনেক ম্যাচের মধ্যে আছে। ক্রিকেটারদের তো রুটিন বিশ্রামও দরকার।” 

সবশেষ ওই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে কোনো ম্যাচ না খেলেই এবার ভারত সিরিজ থেকে বাদ পড়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন। ১৭ সদস্যের দলে এই অললাউন্ডারের ঠাঁই না হওয়ার কারণও শোনালেন মিনহাজুল। 

“তখন অনেক ইনজুরি সমস্যা ছিল। রাব্বি (ইয়াসির আলি) ইনজুরড ছিল, মুশফিক ছিল না হজের কারণে। আরও সবকিছু মিলিয়ে সৈকতকে (মোসাদ্দেক) রাখা হয়েছিল। এখন আপাতত আর দরকার পড়ছে না।” 

প্রশ্ন উঠছে স্রেফ এক টেস্টের জন্য ১৭ জনের বিশাল বহর নিয়েও। প্রধান নির্বাচক এখানে বললেন টিম ম্যানেজমেন্টের চাওয়ার কথা। 

“অনেক দিন পর যেহেতু আমরা টেস্ট খেলব, অনেকের অবস্থা দেখতে হবে। অনুশীলনে কার কেমন অবস্থা, এসব দেখা হবে। তার পর একাদশ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।”

আগামী বুধবার শুরু হবে ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্ট। 

বাংলাদেশ টেস্ট দল: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, ইয়াসির আলি চৌধুরি, লিটন কুমার দাস, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলাম, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেন চৌধুরি, শরিফুল ইসলাম, জাকির হাসান, রেজাউর রহমান রাজা, এনামুল হক।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক