Published : 09 Mar 2026, 07:30 PM
দল ঘোষণার সময়ই প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন বলেছিলেন, মিডল অর্ডারের ভাবনায় লিটন কুমার দাসকে ফেরানো হয়েছে দলে। ইঙ্গিতটা অবশ্য মিলেছিল আগেই। এবারের বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে তাকে দেখা গেছে চার নম্বরে ব্যাট করতে। দুদিন আগে প্রস্তুতি ম্যাচে তাকে দেখা গেল পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে। এবার ফিল সিমন্স নিশ্চিত করলেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে পাঁচেই খেলবেন লিটন। বাংলাদেশ কোচ খোলাসা করলেন এই সিদ্ধান্তের পেছনেও ভাবনা।
পাঁচ নম্বরে লিটন আগেও খেলেছেন। তবে সেটির প্রায় সাত বছর হতে চলেছে। ২০১৯ বিশ্বকাপে তাকে দেওয়া হয়েছিল এই ভূমিকা। প্রথমবার পাঁচে নেমে টন্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬৯ বলে ৯৪ রানের দুর্দান্ত অপরাজিত ইনিংস তিনি খেলেছিলেন। পরের তিন ইনিংসে করেছিলেন ২০, ২২ ও ৩২। সেই বিশ্বকাপের পর আর কখনও তাকে দেখা যায়নি পাঁচে।
পরে তিনি ফিরে গিয়েছিলেন টপ অর্ডারে। সেখানে পারফরম্যান্সের ওঠানামা ছিল। গোটা ওয়ানডে ক্যারিয়ারেই আসলে খুব ধারাবাহিকতা তিনি দেখাতে পারেননি। সবশেষ ওয়ানডেগুলোয় অবশ্য তিনি একটি জায়গায় ধারাবাহিক, ব্যর্থ হয়েছেন টানা।
সবশেষ ১৪ ওয়ানডেতে তার ফিফটি নেই। সবশেষ ৮ ইনিংস মিলিয়ে রান করেছেন ১৩, এর মধ্যে ৪টিতে ফিরেছেন শূন্য রানে।
এই সময়ে তার ব্যাটিং অর্ডারেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৩ বিশ্বকাপের পর নিউ জিল্যান্ড সফরে তিন ম্যাচেই ম্যাচ করেছেন চার নম্বরে। কিন্তু ভালো কিছু করতে পারেননি। এমনকি সবশেষ ওয়ানডেতেও গত জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কায় চারে নেমেই আউট হয়েছেন শূন্য রানে। এরপর বাদ পড়েছেন দল থেকে।
এরপর তেমন কিছু না করেই এবার পাকিস্তান সিরিজের দলে ফেরানো হয়েছে তাকে। পুরোনো ভাবনাও ফিরে এসেছে নতুন করে। আগে যখন তাকে চার বা পাঁচে খেলানো হয়েছে, মূল যুক্তি ছিল স্পিন খেলায় তার দক্ষতা। এবারও সেই যুক্তিই তুলে ধরলেন কোচ সিমন্স। তার আশা, ওয়ানডেতে বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের দুর্বলতা দূর হবে লিটনের ব্যাটে।
“৫০ ওভার কিপিং করে ব্যাটিং ওপেন করা খুবই কঠিন। পাশাপাশি বলতে হবে, স্পিনে আমাদের তুলনামূলক ভালো ব্যাটসম্যানদের একজন সে। এটা দলকে সহায়তা করবে মাঝের সময়ে। মিডল অর্ডার আমাদের দুর্ভাবনার জায়গা। তার যে অভিজ্ঞতা ও স্কিল আছে, আশা করি আমাদের যা প্রয়োজন, তার কাছ থেকে পাব সেখানে।”
লিটন ক্যারিয়ারে অনেকবারই বলেছেন, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তার প্রিয় জায়গা টপ অর্ডার এবং সেখানে ব্যাট করতেই তিনি সবচেয়ে পছন্দ করেন। কোচ অবশ্য বলছেন, পাঁচে খেলতে পারাকেই এখন সুযোগ হিসেবে দেখছেন স্টাইলিশ এই ব্যটসম্যান।
“লিটনকে রাজি করানো কিছু নেই। আমরা বলেছি দল কী চায় এবং সে খুশিমনেই তা করতে চেয়েছে। অধিনায়ক থাকার সময়ও সে যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত ছিল, এখনও সবকিছুর জন্য তৈরি। তাকে বোঝানোর প্রয়োজন পড়েনি আমাদের।”
“কোনো জায়গায় খেলতেই তার সমস্যা নেই। নিজের খেলা নিয়ে সে এখন অনেক রিল্যাক্সড এবং দল তার কাছে যা চায়, সেটি করার একটি সুযোগ হিসেবে সে নিচ্ছে এটিকে (৫ নম্বরে খেলা)।”