সাহিবজাদা ও সাদাকাতের ঝড়ে পাকিস্তানের জয়
শ্রীলঙ্কাকে অনায়াসে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে গেল পাকিস্তান।
নুয়ান থুশারার নিচু ফুল টস বল লেগ সাইডে ফ্লিক শট খেললেন সাহিবজাদা ফারহান। ডিপ মিডউইকেটে অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় দুর্দান্ত ক্যাচ নিলেন সাহান আরাচ্চিগে। তার আগেই অবশ্য নিজের কাজটা করে দেন সাহিবজাদা। অধিনায়কের সঙ্গে বিস্ফোরক জুটিতে অবদান রাখলেন মাজ সাদাকাত। শ্রীলঙ্কাকে অনায়াসে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল পাকিস্তান।
তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের জয় ৪ উইকেটে।
রাওয়ালপিন্ডিতে শুক্রবার ২০ ওভারে শ্রীলঙ্কা করে ১৮২ রান। দলের অর্ধেক রান একাই করেন লাহিরু উদারা। ১১ চার ও এক ছক্কায় ৫৫ বলে ৯১ রানের ইনিংস খেলেন এই ওপেনার।
পাকিস্তান লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সাত বল হাতে রেখে।
১০ চার ও চারটি ছক্কায় ৫৩ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা পাকিস্তান অধিনায়ক সাহিবজাদা।
সদ্য সমাপ্ত এশিয়ান গেমসে রূপাজয়ী পাকিস্তান দলকে নেতৃত্ব দেওয়া সাহিবজাদা এই সিরিজ দিয়ে পূর্ণ মেয়াদে পান অধিনায়কত্ব। প্রথম ম্যাচেই অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলে দলের জয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখলেন এই আগ্রাসী ওপেনার।
তিন নম্বরে সাদাকাত চারটি চার ও তিনটি ছক্কায় ২৯ বলে করেন ৫০ রান। সাহিবজাদার সঙ্গে তার দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৯২ রান আসে কেবল ৫২ বলে।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের পেসারদের বিপক্ষে ধুঁকেছে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা। অধিনায়ক কুসাল মেন্ডিস আউট হয়ে যান প্রথম ওভারে। এরপর ক্রিজে আসা কামিল মিশারার প্রথম রানের দেখা পেতে লাগে ৯ বল। তবে তিনিও বিদায় নেন দ্রুতই।
প্রথম চার ওভারের মধ্যে দুই উইকেট হারানোর পর ৬০ রানের জুটিতে দলকে টানেন উদারা ও কামিন্দু মেন্ডিস। ১৮ বলে ২৩ রান করে বিদায় নেন কামিন্দু। সাহান আরাচ্চিগে টিকতে পারেন দুই বল।
দলকে বলতে গেলে একাই টানেন উদারা। তিনি আরেকটি পঞ্চাশোর্ধ (৫৭) জুটি গড়েন পঞ্চম উইকেটে দাসুন শানাকার সঙ্গে। ৩২ বছর বয়সি ব্যাটসম্যান ফিফটি করেন ৩২ বলে। সাবেক অধিনায়ক শানাকা ফেরেন ১৫ বলে ১৮ রান করে।
দলকে ১৭২ পর্যন্ত টেনে নিয়ে ১৯তম ওভারে শেষ হয় উদারার নব্বই ছোঁয়া ইনিংস।
১৮টি ওয়াইডসহ অতিরিক্ত থেকে মোট ২৯ রান দেয় পাকিস্তান।
চার ওভারে ৩৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের সফলতম বোলার পেসার নাসিম শাহ। অভিষিক্ত পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মাদ ইমরান ২১ রানে নেন দুটি উইকেট।
লক্ষ্য তাড়ায় ৩১ বলে ৫৪ রানের উদ্বোধনী জুটিতে দলকে উড়ন্ত শুরু এনে দেন ফাখার জামান ও সাহিবজাদা। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর প্রথমবার জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নামা ফাখার ফেরেন ১৩ বলে ২১ রান করে।
ফাখারের বিদায়ের পর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন সাহিবজাদা ও সাদাকাত। সাহিবজাদা ফিফটি করেন ৩৩ বলে, সাদাকাতের পঞ্চাশ ছুঁতে লাগে ২৮ বল।
দুর্দান্ত জুটি থামে সাদাকাতের বিদায়ে। হাসান নাওয়াজ ও সাইম আইয়ুব বিদায় নেন দ্রুত।
থুশারার চার বলের মধ্যে দুটি চার ও একটি ছক্কা মেরে সাহিবজাদা ফেরেন যখন, জয় থেকে তখন কেবল ৪ রান দূরে পাকিস্তান। শাদাব খান বাজে শটে উইকেট বিলিয়ে এলেও, ছক্কা মেরে ম্যাচের ইতি টানেন খাওয়াজা নাফে।
একই মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচ হবে আগামী রোববার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৮২/৮ (উদারা ৯১, কুসাল মেন্ডিস ১, মিশারা ৬, কামিন্দু মেন্ডিস ২৩, আরাচ্চিগে ১, শানাকা ১৮, ওয়েলালাগে ৫, থিকশানা ১, চামিরা ৬*, মালিঙ্গা ১*; নাসিম ৪-০-৩৬-৩, ইমরান ৪-০-২১-২, রাজাউল্লাহ ৩-০-২৯-১, আবরার ৪-০-৩৬-০, শাদাব ৩-০-৩৩-১, সাইম ২-০-১৭-১)
পাকিস্তান: ১৮.৫ ওভারে ১৮৭/৫ (সাহিবজাদা ৮৯, ফাখার ২১, সাদাকাত ৫০, নাওয়াজ ১, সাইম ৮, নাফে ১২*, শাদাব ০, ইমরান ০*; থুশারা ৩-০-৩২-১, চামিরা ৩-০-৪০-১, মালিঙ্গা ৩.৫-০-৩৩-২, থিকশানা ৪-০-৩৬-২, শানাকা ২-০-১৬-০, ওয়েলালাগে ৩-০-২৬-০)
ফল: পাকিস্তান ৪ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে পাকিস্তান
ম্যান অব দা ম্যাচ: সাহিবজাদা ফারহান
