নিজেকে দিয়ে মুমিনুল-তাইজুলের যন্ত্রণা বুঝেছেন মুশফিক
মুমিনুল হক ও তাইজুল ইসলামের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য ভালো খেলার বাড়তি প্রেরণা পান মুশফিকুর রহিম।
প্রশ্নটা ছিল এখনকার টেস্ট দলের আবহ নিয়ে। সেই প্রসঙ্গের শাখা-প্রশাখায় ঢুকে মুশফিকুর রহিম চলে গেলে মুমিনুল হক ও তাইজুল ইসলামের দিকে। এই দুজনের মতো তিনি এখন কেবলই টেস্ট ক্রিকেটার। বাংলাদেশের মতো দেশে এক সংস্করণের ক্রিকেটার হয়ে থাকা কতটা কঠিন, সেই উপলব্ধি এখন হচ্ছে দেশের সফলতম ব্যাটসম্যানের।
মুমিনুল ও তাইজুল অনেক বছর ধরেই কেবল টেস্ট খেলে আসছেন। অন্যান্য সংস্করণেও পা পড়েছে তাদের। তবে নানা কারণেই সেই অধ্যায় দীর্ঘ হয়নি। টেস্ট বিশেষজ্ঞের তকমা গায়ে নিয়েই বছরের পর বছর চলছে তাদের।
মুশফিক গত বছর বিদায় জানিয়েছেন ওয়ানডে ক্রিকেটকে। টি-টোয়েন্টি ছেড়েছেন আগেই। টেস্ট ক্রিকেটে চলছে তার নতুন উচ্চতায় পা রাখার পালা। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলেছেন। ১০১তম টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। এবার ১০২তম টেস্টে সিলেটে মাঠে নামবেন সিরি জয়ের আশায়।
সেই ২০০৫ সাল থেকে টেস্ট খেলছেন তিনি। গত দুই দশকের বেশি সময়ে দেশের ক্রিকেটের সবকিছু স্বাক্ষী তিনি। এখনকার দলটার আবহ ও পরিবেশ কেমন, সেটিই জানতে চাওয়া হলো সিলেট টেস্টের আগের দিন। ৩৯ বছর বয়সী ক্রিকেটার শোনালেন, ক্যারিয়ারের গোধূলি বেলায় তার ক্রিকেট দশন এখন কেমন। সেখানেই টেনে আনলেন মুমিনুল ও তাইজুলকে।
“দলের আবহ অবশ্যই খুবই ভালো। এখন তো ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। প্রতিটি দিনই এখন আশীর্বাদ এবং আমি খুবই উপভোগ করছি। আমি তো সবসময় টেস্ট ক্রিকেকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি অন্যরকম এবং আমি মনে করি, বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটের এতদূর আসার পেছনে দুজন ব্যক্তি খুবই বড় অবদান রেখেছে। মুমিনুল আর তাইজুল।”
“গত দুই-তিন বছর ধরে যেটা এটা উপলব্ধি করতে পেরেছি, যেহেতু একটা ফরম্যাট খেলছি। ওদের যন্ত্রণা আমি সহজেই অনুভব করতে পারি এখন। গত ১০-১২ বছর কোনো অভিযোগ ছাড়া দিনের পর দিন ওরা এই কাজটা করে আসছে, প্রক্রিয়াটা ধরে রেখেছে। কাজটা সহজ নয়। ওই জায়গা থেকে মনে করি, আমি যতটুকু খেলি ওই দুইজনের দিকে তাকিয়ে আমার কাছে আরও বেশি ভালো লাগে যে, আমি অবদান রাখতে পারলে ওদের হাসিটা বা ওদের ওই খুশিটা আরও দ্বিগুণ হয়ে যায়।”
এক সংস্করণের ক্রিকেটার হওয়ার ইতিবাচক দিকের কথাও অবশ্য তুলে ধরলেন তিনি।
“যেটা বললাম, ওদের (মুমিনুল-তাইজুল) ওই কষ্টটা দেখে এখন বুঝতে পারছি. তবে অন্য দিকও আছে। পরিবারকে অনেক বেশি সময় দিতে পারছি, যেটা ১৫-১৬ বছর হয়তো দিতে পারিনি। এটাও অনেক বড় একটা পাওয়া।”
এই একটি সংস্করণে কতদিন আর খেলবেন বা শেষের সম্ভাব্য কোনো সময় এখনও তার ভাবনায় নেই। আপাতত নিজের গর্বের ঝুলিতেও ভরে নিতে চান আরও কিছু জয়।
“আপাতত কোন লক্ষ্য নাই। কালকের ম্যাচও শেষ হয়ে যেতে পারে, বাকিটা ওপরওয়ালা জানে। আমি চেষ্টা করি প্রতিটা ম্যাচ…মৃত্যুর আগে শেষ কয়টা দিন বেঁচে থাকার খুব ইচ্ছা। তো বেঁচে থেকে যে কয়টা মাঠের দিন কাটাতে পারি, এই ইচ্ছাটাই আছে। এখন ছাড়ব বা কবে ছাড়ব, এটা আসলে ঠিক করিনি। তবে আশা করি, খুব ভালো সময় থাকতে ছেড়ে দেব।”
“আর যে কয়টা দিনই খেলব, চেষ্টা থাকবে যেন আরও অবদান রাখতে পারি এবং বাংলাদেশ টেস্ট দলকে আরও কিছু ভালো দারুণ জয়ের মুহূর্ত দিতে পারি, অবসরের পর সেটা নিয়ে যেন একটু হলেও গর্ব করতে পারি।”
টেস্ট ক্রিকেটে তার ২১ বছর পূর্ণ হবে আর দিন দশেক পরই। বাংলাদেশের প্রায় সব বড় জয়ের স্বাক্ষী তিনি। নিজে ৩৪ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখনকার দলই টেস্টে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সেরা দল কি না, এই প্রশ্নও করা হলো তাকে। উত্তরটা তিনি সরাসরি দেননি, তবে নিজের ভাবনাটা ঠিকই বুঝিয়ে দিয়েছেন।
“আগেও ব্যক্তিগতভাবে অনেক গ্রেট ক্রিকেটার আমাদের টেস্ট দলে খেলেছে। তবে সব মিলিয়ে ধারাবাহিকতার দিক থেকে এখনকার দল অবশ্যই যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি ধারাবাহিক। আগে টেস্টে যেরকম ফলাফল হতো.. টেস্টও খেলতামও আমরা কম। বছরে ২-৩টা খেলেছি গড়ে। এভাবে খেললে ফলাফল করাটা কঠিন। এখন যেহেতু বছরে আমরা ৮- ১০টি টেস্ট খেলি, গড়ে ৬-৭টি করে খেল, কাজটা তুলনামূলকভাবে সহজ এখন।”
মুশফিকের মতে, আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ার পর থেকে টেস্ট ক্রিকেটে প্রতি মনোযোগ, গুরুত্ব এবং টেস্ট ক্রিকেটকে ঘিরে আকর্ষণ, সবই বেড়েছে।
“অবশ্যই এখন একটা বাড়তি প্রেরণা কাজ করে সব দলের ভেতরে। কোনো দল কিন্তু এখন আর কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গেই ‘বি’ দল বা ‘সি’ দল খেলায় না। সেরা যাদেরকে পাওয়া যাচ্ছে বা সম্ভাব্য সেরা একাদশই খেলায়। এটা অবশ্যই আগের চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং, বেশি রোমাঞ্চকরও।”
