আগুনে বোলিংয়ে ১০ ওভারে স্রেফ ১৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন শরিফুল ইসলাম।
Published : 04 Mar 2025, 02:25 PM
প্রথম বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট এনামুল হক। তিন বল পর একইভাবে আউট সালমান হোসেন। শরিফুল ইসলামের পরের ওভারে সুইং বোলিংয়ের জবাব দিতে ব্যর্থ আমিনুল ইসলাম, শেখ পারভেজ রহমান। তিন ওভারের মধ্যে ড্রেসিং রুমে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের ব্যাটিংয়ের অর্ধেক।
তানজিম হাসানও উইকেট শিকারে যোগ দিলে ইনিংসের ২২ বলের মধ্যে মাত্র ৪ রানে পড়ে যায় গাজী গ্রুপের ৬ উইকেট। এমন বাজে শুরুর পর বিব্রতকর রেকর্ডের শঙ্কায় পড়ে তারা। শেষ পর্যন্ত সেই তোতো স্বাদ না পেলেও লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের সহজ জয় ঠেকাতে পারেনি এনামুলের নেতৃত্বাধীন দল।
বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে গাজী গ্রুপকে ১০ উইকেটে হারিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে যাত্রা শুরু করল তারকায় ঠাসা রূপগঞ্জ। ৯৪ রানের লক্ষ্য ছুঁতে মাত্র ১৩.৫ ওভার লাগে দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসানের।
নতুন বলে গাজী গ্রুপের ব্যাটিং লন্ডভন্ড করে দেওয়া শরিফুল মাত্র ১৪ রানে নেন ৪ উইকেট। তার ১০ ওভারে মেডেন ছিল তিনটি। বাঁহাতি পেসারের এই পেসারের ৬০ বলের মধ্যে ৫০টি থেকে কোনো রান নিতে পারেনি গাজী গ্রুপ।
টস জিতে গাজী গ্রুপকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন রূপগঞ্জ অধিনায়ক আকবর আলি। প্রথম বলেই শরিফুলের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে পরাস্ত এনামুল। বল আকবরের গ্লাভসে জমা পড়তেই আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার।
সিদ্ধান্তে হতবাক এনামুল বেশ কিছুক্ষণ ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকেন। রিপ্লেতেও শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার উপায় ছিল না আদৌ ব্যাটে লেগেছে কিনা বল।
ওভারের পঞ্চম বলে বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারিতে কিপারের কাছেই ধরা পড়েন সালমান।
পরের ওভারে ফের শরিফুলের ভেতরে ঢোকানো ডেলিভারি। এবার তিন বলের মধ্যে বোল্ড আমিনুল ও পারভেজ। স্টাম্প এলোমেলো হওয়ার পর আমিনুল যেন বুঝতেই পারেননি কীভাবে ভেতরে ঢুকল বল।
মাঝে সৌম্য সরকারের সরাসরি থ্রোয়ে রানআউট হন সাদিকুর রহমান। শামসুর রহমানকে বোল্ড করেন তানজিম।
গাজী গ্রুপের প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের কেউই ২ রানের বেশি করতে পারেননি। রানের খাতাই খুলতে পারেননি তিনজন।
প্রথম দুই ওভারে ৪ উইকেট নেওয়ার পর আর ভাগ্য পাশে পাননি শরিফুল। তার নবম ওভারে মিড অন ও লং অনের মাঝামাঝিতে ক্যাচ দেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। কিছুটা পিছিয়ে কাছাকাছি গেলেও ক্যাচ নিতে পারেননি সাইফ।
সুযোগ এলেও ৫ উইকেট না পাওয়ায় আক্ষেপ রাখছেন না শরিফুল। ইনিংস বিরতিতে টি স্পোর্টসে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, শুরুতেই বুঝতে পেরেছিলেন দিনটি তার।
"যখন প্রথম ওভারে ২ উইকেট পেলাম, সৌম্য (সরকার) দাদা বলেছিলেন, 'এরকম দিন সবার আসে না। তোমার দিন, তুমি কাজে লাগাও।' সবাই এরকম কথা বলছিলেন। চেষ্টা করেছি তাদের কথামতো বোলিং করার।"
গত বছরের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে থাকলেও আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে জায়গা পাননি শরিফুল। প্রিমিয়ার লিগে ভালো করে দলে ফেরার পথ সুগম করার লক্ষ্য তার।
"অবশ্যই (সামনে ভালো করে ফেরার তাড়না আছে)। শুরুটা যেহেতু ভালো হয়েছে, চেষ্টা করব শেষ পর্যন্ত যেন ফিট থেকে আরও ভালো কিছু ম্যাচ উপহার দিতে পারি।"
শরিফুলের শুরুর তোপের পর গাজী গ্রুপের ব্যাটিংয়ে হানা দেন তানভির ইসলাম। বাঁহাতি স্পিনে ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি।
৯ নম্বরে নেমে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন সাকলিন। এছাড়া তোফায়েল আহমেদ ২৬ ও ওয়াসি সিদ্দিকি ১৮ রান করলে কোনোমতে একশর কাছে যায় গাজী গ্রুপ।
ছোট লক্ষ্যে শুরুতেই ঝড় তোলেন তানজিদ। পাওয়ার প্লেতে ৭৩ রান করে ফেলে রূপগঞ্জ। ৭ চারের সঙ্গে ২টি ছক্কা মেরে ৩২ বলে ফিফটি করেন বাঁহাতি ওপেনার।
শেষ পর্যন্ত ৪৬ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন তানজিদ। আরেক ওপেনার সাইফ করেন ৩৮ বলে ২৭ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স: ৩৮.৫ ওভারে ৯৩ (এনামুল ০, সাদিকুর ১, সালমান ২, শামসুর ১, আমিনুল ০, পারভেজ ০, তোফায়েল ২৪, ওয়াসি ১৮, সাকলাইন ২৬, হাশিম ৪, মুকিদুল ৬*; শরিফুল ১০-৩-১৪-৪, তানজিম ৮-২-২৫-১, সৌম্য ৩-১-৫-০, তানভির ১০-১-২৩-৩, মেহেদি ৭-১-২১-০, সাইফ ০.৫-০-১-১)
লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ: ১৩.৫ ওভারে ৯৭/০ (সাইফ ২৭*, তানজিম ৬৫*; মুকিদুল ২-০-১৬-০, পারভেজ ৪-০-৩১-০, সাকলাইন ৩-০-১৬-০, ওয়াসি ২-০-১৭-০, তোফায়েল ২-০-১০-০, হাশিম ০.৫-০-৫-০)
ফল: লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ১০ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: শরিফুল ইসলাম