Published : 07 Dec 2025, 09:14 PM
ম্যাচে উত্তেজনা বলতে তখন কিছু ছিল না। নিরুত্তাপ আবহে হঠাৎই উত্তেজনা ছড়ায় ইংলিশ পেসার জফ্রা আর্চারের সঙ্গে স্টিভেন স্মিথের কথার লড়াই। দুজনের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় নিয়ে ম্যাচ শেষে অবশ্য কথা বাড়াতে চাইলেন না অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। বললেন, মাঠের বিষয় সেখানেই রেখে দিতে চান তিনি।
ব্রিজবেন টেস্টের চতুর্থ দিন ৮ উইকেটের জয়ে অ্যাশেজ সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। স্রেফ ৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৪১ রানে মার্নাস লাবুশেনের বিদায়ের পর চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন স্মিথ। আর্চারের মুখোমুখি প্রথম বলে ১৪৬ কিলোমিটার গতির শর্ট ডেলিভারি স্কয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারি মারেন তিনি। আরও গতিময় পরের বল আপার কাট করার চেষ্টায় ব্যাটে লাগাতে ব্যর্থ হন এই তারকা।
ঠিক সেই মুহূর্তে তার খুব কাছে গিয়ে আর্চার বলেন, “যখন রান করার কোনো তাড়া নেই, তখন কেন শট খেলবে?”, স্মিথ পাল্টা জবাব দেন, “যখন কিছুই হচ্ছে না তখন (তুমি) জোরে বল করো, চ্যাম্পিয়ন।”
আর্চারের পরের বলটি ছিল আরেকটি বাউন্সার, এবার হুক করে কিপার জেমি স্মিথের মাথার ওপর দিয়ে চার মারেন স্মিথ। তখন দুজনের মধ্যে আবার কথা কাটাকাটি হয়। পরের বল আরেকটি হুক শটে ছক্কা মারেন ৩৬ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। পরের ওভারে আরেক পেসার গাস অ্যাটকিনসনকে ছক্কায় উড়িয়ে ম্যাচের ইতি টেনে দেন তিনি।
৯ বলে অপরাজিত ২৩ রানের ইনিংস খেলা স্মিথ ম্যাচ শেষে চ্যানেল ৭-এ সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে আলাপে বলেন, ম্যাচে সুযোগ পেলেও কিছুই করতে পারেনি ইংল্যান্ড।
“জফ্রা অবশেষে প্রাণ ফিরে পেল, সিরিজের ছয় দিন পর, যখন দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ শেষ, তখন সে বকবক করতে শুরু করল। অনেক দেরি করে ফেলেছো চ্যাম্প... অনেক দেরি করে ফেলেছো তোমরা, চার দিন ধরে সুযোগ পেয়েছো। তুমি যথেষ্ট ভালো করতে পারোনি। অনেক দেরি হয়ে গেছে।”
২০১৯ সালের অ্যাশেজে লর্ডসে আর্চার তার অভিষেক টেস্টে প্রথম স্পেলে আগুনে বোলিংয়ে আঘাত করেছিলেন স্মিথের হেলমেটে। কনকাশনের কারণে সিরিজের পরের টেস্ট থেকে ছিটকে যান অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান। তবে পরবর্তীতে টেস্টে দুজনের মুখোমুখি লড়াইয়ে আধিপত্য স্মিথেরই। স্মিথের বিপক্ষে ৩৩.২ ওভার বোলিং করে এখনও তাকে আউট করতে পারেননি আর্চার।
ব্রিজবেনের কথার লড়াই প্রসঙ্গে আর্চারের সঙ্গে তার অতীতের ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে স্মিথ উত্তর দেন, “তার সঙ্গে আমার কী অতীত আছে?” ছয় বছর আগে লর্ডসে হেলমেটে আঘাতের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হলে তিনি হেসে বলেন, “সে শুধু ভালো গতিতে বল করছিল, আমি খুব একটা নিশ্চিত নই যে, সে কী বলেছিল, আমি কী বলেছিলাম তাও মনে নেই। এটা আসলে আপনাদেরও বিষয় নয়, তাই আমরা বিষয়টি সেখানেই ছেড়ে দেব।”