Published : 30 Aug 2026, 08:50 PM
জিডি ট্রফিতে অনূর্ধ্ব-২৩ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলা চলছিল মিরপুরে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটারদের এই লড়াইয়ের সময় শের-ই-বাংলায় দেখা গেল দেশের ক্রিকেটের বড় তারকাদের। উত্তরসূরীদের লড়াইয়ে তারা চোখ রাখলেন বটে, তবে হোম অব ক্রিকেটে এ দিন তাদের আনাগোনার মূল উদ্দেশ্য নিজের খেলার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা। সামনের বিপিএল নিয়ে বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল ক্রিকেটারদের সংগঠন।
বিপিএল নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে আলোচনার পর রোববার ক্রিকেটারদের সঙ্গেও বসলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। আলোচনার ফলাফলে সন্তুষ্টির কথাই জানাল ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। প্রয়োজনীয় সংস্কার করে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য বোর্ডকে সময় দিতে রাজি ক্রিকেটাররা। তবে অন্য কোনো টুর্নামেন্ট বা আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার কোনো পথ বের করার অনুরোধও জানিয়ে এসেছেন তারা।
তামিম ছাড়াও বিসিবির হয়ে বৈঠকে ছিলেন বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা, ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল খসরু, নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবুসহ কয়েকজন পরিচালক।
কোয়াবের হয়ে এই সভায় উপস্থিত ছিলেন পেশাদার ক্রিকেটারদের সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ, সাইফ হাসান, নাসির হোসেন, মার্শাল আইয়ুব, এনামুল হক, ইয়াসির আলি চৌধুরি, ফজলে মাহমুদ রাব্বিসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার।
বৈঠক শেষে সংগঠনটির প্রতিনিধি হয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন নাসির হোসেন। তার পাশে ছিলেন ইয়াসির, ফজলে রাব্বি, মার্শালসহ কয়েকজন ক্রিকেটার। সেখানে তিনি জানান বিসিবির সঙ্গে ক্রিকেটারদের কী ধরনের আলোচনা হয়েছে।
বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পরই তামিম বলেছিলেন, খুব ভালোভাবে করতে না পারলে এবার তারা বিপিএল আয়োজন করবেন না। সেই ধারাবাহিকতায় কদিন আগে তিনি একরকম নিশ্চিত করে দেন, এই মৌসুমে টুর্নামেন্টটি হচ্ছে না। গত দুই আসরে বিপুল আর্থিক ক্ষতির কথা খোলাসা করেন বিসিবি প্রধান, পাশাপাশি বিপিএল নিয়ে বরাবরের দুর্নাম-বিতর্ক তো ছিলই। উপযুক্ত কাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনা ছাড়া এই টুর্নামেন্ট চালিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতি নন দেশের সাবেক এই অধিনায়ক।
এই সিদ্ধান্তে ইতোমধ্যে তিন ফ্রাঞ্চাইজির কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছে বোর্ড। বিপিএলের স্বার্থে এক বছর অপেক্ষা করতে রাজি তারা। বোর্ডের যুক্তিতে ক্রিকেটারদেরও সন্তুষ্টির কথা জানাল কোয়াব। তবে আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার আলোচনার কথা জানালেন নাসির।
“ক্রিকেট বোর্ড সবসময় খেলোয়াড়দের পাশে ছিল এবং এখনও আছে। আমরা মূলত বিপিএল নিয়ে কথা বলেছি, কেন এবার বিপিএল হচ্ছে না। বোর্ড সুন্দরভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে। বিপিএল না হলে খেলোয়াড়রা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই বিপিএলের জায়গায় কী করলে খেলোয়াড়দের জন্য ভালো হয় এবং ক্রিকেট বোর্ড কী করতে পারে, সেসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
“বোর্ড আমাদের সঙ্গে যেভাবে কথা বলেছে, তাতে এটা মোটামুটি নিশ্চিত এবার বিপিএল হচ্ছে না। তবে, খেলোয়াড়রা কীভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে, তা নিয়েই আলোচনা চলছে।”
সাধারণত প্রতি বছর ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বিপিএল আয়োজনের সময় বরাদ্দ রাখা হয়। ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক এই টুর্নামেন্ট আয়োজিত না হলে এই সময়ে অন্য কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে বলে আশা রাখছে কোয়াব।
“আমরা তো বিভিন্ন সংস্করণের খেলায় ব্যস্ত থাকবই (ওই সময়টায়)। তবে বিপিএলের জন্য নির্ধারিত দেড় মাসে যদি অন্য কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করা যায়, তবে খুব ভালো হয়। এমন টুর্নামেন্ট হবে কি না, তা এখনও চূড়ান্ত নয়। পরবর্তী সভায় বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।”
এই টুর্নামেন্টের দাবি শুধু ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য নয়। বরং এখান থেকে ক্রিকেটাররা যেন আর্থিকভাবে লাভবান হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখার আহবান ছিল ক্রিকেটারদের সংগঠনটির পক্ষ থেকে।
এ জন্য বিসিবি ও কোয়াব দুই পক্ষই পরস্পরকে নিজেদের প্রস্তাব দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়, তা জানা যেতে পারে দুই পক্ষের পরবর্তী সভায়।
“তারা (বিসিবি) কিছু প্রস্তাব দিয়েছে, আবার আমাদের পক্ষ থেকেও কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। আমরা পরবর্তীতে আবারও বসব এবং আলোচনা করব।”
“আমরা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারিনি। হয়তো আরও দু-একবার বসতে হবে। তবে যতটুকু আলোচনা হয়েছে, খেলোয়াড়রা তাতে মোটামুটি সন্তুষ্ট। খুব ভালো একটি আলোচনা হয়েছে। আশা করি পরবর্তী সভায় সুন্দর সমাধান আসবে।”
বিপিএল ছাড়াও অন্যান্য বিষয় নিয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনা করেছে বিসিবি। এর মধ্যে একটি ছিল সুনির্দিষ্ট বর্ষপঞ্জি। কোয়াবের প্রতিনিধি হয়ে নাসির জানান, এমন উদ্যোগের অপেক্ষায় আছেন তারাও।
“একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার থাকলে ক্রিকেটারদের জন্য অনেক সুবিধা হয়। কোন মাসে কী খেলা বা টুর্নামেন্ট থাকবে, তা আগে থেকেই জানা যাবে। এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে সব খেলোয়াড়ই স্বাগত জানাবে।”
“ক্রিকেট বোর্ড কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। যতটুকু বুঝলাম, খেলোয়াড়দের ভবিষ্যত এবং আগামী ৫–১০ বছর পর খেলোয়াড়রা কোথায় থাকবে, বোর্ড সেদিকেই বেশি জোর দিচ্ছে। আমাদের কাছে যে প্রস্তাব এসেছে, তা খারাপ মনে হয়নি।”