১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কনওয়ে-ল্যাথামের রেকর্ডময় দিনে ২৫৩ বছরের ইতিহাসে প্রথম কীর্তি

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের শুরুটা ধরা হয় ১৭৭২ সাল থেকে, ইতিহাসের এই দীর্ঘ পথচলায় এমন কীর্তি নেই আর কোনো জুটির।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Dec 2025, 01:28 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:22 PM

ডেভন কনওয়ে ২২৭ ও ১০০। টম ল্যাথাম ১৩৭ ও ১০১। দুই ইনিংসেই দুজনের শতরান বা তিন অঙ্কের কিছু সংখ্যা নয় , ক্রিকেট ইতিহাসে অনন্য কীর্তির নজির এসব। নিউ জিল্যান্ডের দুই ওপেনারের রান উৎসবে টেস্ট ক্রিকেটে তো বটেই, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেই প্রথম একটি কীর্তির জন্ম হলো মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের পিষ্ট করে দুই ইনিংসেই তিন অঙ্ক স্পর্শ করলেন কনওয়ে ও ল্যাথাম। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের শুরু ধরা হয় ১৭৭২ সাল থেকে। ইতিহাসের এই দীর্ঘ পথচলায় একই দলের দুই ওপেনারের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি এটিই প্রথম। 

দুজনের ব্যাটে রেকর্ড হয়েছে আরও একগাদা। নিউ জিল্যান্ড একরকম নিশ্চিত করে ফেলেছে, ম্যাচটি হারা হারছে না কোনোভাবেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অবশ্য দিনটা ভালোভাবে শেষ করে জিইয়ে রেখেছে ড্রয়ের আশা।

প্রথম ইনিংসে ১৫৫ রানের লিড পাওয়া কিউইরা দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ২ উইকেটে ৩০৬ রানে। ক্যারিবিয়ানদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৬২। ১৬ ওভার ব্যাটিং করে কোনো উইকেট না হারিয়ে চতুর্থ দিন শেষ করে তারা ৪৩ রান নিয়ে। 

নিউ জিল্যান্ড আরও আগে ইনিংস ঘোষণা করতে পারত কি না, সেই বিতর্ক হতে পারে। সিরিজে এগিয়ে থাকা দল পরাজয়কে সমীকরণের বাইরে রাখতেই হয়তো বেছে নিয়েছে নিরাপদ পথ। তবে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিটি ম্যাচেই তো জয় গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেসব ছাপিয়ে আপাতত কনওয়ে-ল্যাথামের কীর্তিই বেশি আলোচনায়।

প্রথম তিন দিনে দুই দলের প্রথম ইনিংসও শেষ হয়নি। ক্যারিবিয়ানরা চতুর্থ দিন শুরু করে ৬ উইকেটে ৩৮১ রান নিয়ে। খুব বেশি লম্বা হয়নি তাদের ইনিংস। এ দিন ১৫.২ ওভার ব্যাট করে তারা যোগ করতে পারে আর ৩৯ রান।

১০৯ রানে দিন শুরু করা কাভেম হজ অপরাজিত থেকে যান ১২৩ রানে। অসুস্থতার কারণে আগে ব্যাটিং করতে না পারা শেই হোপ ৯ নম্বরে নেমে আউট হয়ে যান ৪ রান করেই।

৪টি উইকেট নেন জ্যাকব ডাফি। তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৭৬ উইকেট নিয়ে এই বছর শেষ করলেন তিনি। নিউ জিল্যান্ডের হয়ে এক পঞ্জিকাবর্ষে তার চেয়ে বেশি উইকেট কেবল ১৯৮৫ সালে কিংবদন্তি রিচার্ড হ্যাডলির ৭৯ উইকেট।

ল্যাথাম ও কনওয়ে ব্যাটিংয়ে নামার পর শুরুটা করেছিলেন ধীরলয়ে। লাঞ্চের পর আগ্রাসনের শুরুটা করেন কনওয়ে। দ্রুত রান তুলে পঞ্চাশে পৌঁছে যান তিনি ৬৩ বলে। তখনও পর্যন্ত ল্যাথামের রান ৫১ বলে ১৬। পরে নিউ জিল্যান্ড অধিনায়কও রানের গতি বাড়িয়ে নেন। শতরানে তিনি কম খেলেন কনওয়ের চেয়ে।

কনওয়ের সেঞ্চুরি আসে ১৩৬ বলে। ৩২ টেস্টে তার সপ্তম সেঞ্চুরি এটি। 

একই টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি ও সেঞ্চুরির নজির টেস্ট ইতিহাসে হলো দশমবার। তবে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে এটিই প্রথম। 

জুটিতেও একটি অনন্য কীর্তি ততক্ষণে হয়ে গেছে। একই টেস্টে এক ইনিংসে তিনশ ও আরেক ইনিংসে শতরানের বন্ধন গড়া প্রথম জুটি এটিই।

নিউ জিল্যান্ডের হয়ে দুই ইনিংসেই শতরানের উদ্বোধনী জুটি আগে ছিল একবারই। সেখানেও জড়িয়ে আছে ল্যাথাম পরিবারের নাম। ১৯৯২ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুলাওয়ায়োতে এই নজির দেখিয়েছিলেন মার্ক গ্রেটব্যাচ ও রড ল্যাথাম, যিনি টম ল্যাথামের বাবা।  

সেঞ্চুরির পরই বিদায় নেন কনওয়ে। জুটি থামে ১৯২ রানে।

ততক্ষণে আরেকটি প্রথমের জন্ম হয়েই গেছে। ইতিহাসের প্রথম কোনো উদ্বোধনী জুটি এক টেস্ট স্পর্শ করল ৫০০ রান। 

দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫১৫ রান যোগ করেছেন কনওয়ে ও ল্যাথাম। আগের সর্বোচ্চ ৪১৫ ছিল গ্রায়েম স্মিথ ও নিল ম্যাকেঞ্জির ৪১৫। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে এক ইনিংসেই ওই রান করেছিলেন দুজন, যা শুরুর জুটির বিশ্বরেকর্ড।

ল্যাথামের সেঞ্চুরি আসে ১২৭ বলে। সিরিজে তার তৃতীয় আর ক্যারিয়ারের ১৬তম সেঞ্চুরি এটি। 

তিনিও বিদায় নেন শতরানের পরপর। 

ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি করা কাভেম হজ বল হাতে শিকার করেন কিউইদের দুই ওপেনারের উইকেট।

নিউ জিল্যান্ড তখনও ইনিংস ঘোষণা করেনি। কেন উইলিয়ামসন ও রাচিন রাভিন্দ্রা ৬ ওভারে ৭২ রানের জুটি গড়ার পর ইনিংস ছাড়ে তারা।

চার ছক্কায় ২৩ বলে ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন রাভিন্দ্রা, ৩৭ বলে ৪০ রানে উইলিয়ামসন। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ে দুই ওপেনারের ব্যাটে ছিল দুইরকম চিত্র। তবে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, উইকেট পড়েনি একটিও। ৭ চারে ৪৬ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত ব্র্যান্ডন কিং, ৫০ বলে ২ রানে অপরাজিত জন ক্যাম্পবেল।

দিনশেষে দুই দল মিলিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে রান এসেছে ৬৬৯। এটিও বিশ্বরেকর্ড। আগের রেকর্ড ছিল ১৯৫৬ সালে ভারত-নিউ জিল্যান্ড চেন্নাই টেস্টে ৫৭৭। 

শেষ দিনে ক্যারিবিয়ানরা চাইবে রেকর্ড যাত্রা চলতেই থাকুক, কিউইরা চাইবে রেকর্ডের দ্রুত সমাপ্তি। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৫৭৫/৮ (ডি.)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ১২৮.২ ওভারে ৪২০ (আগের দিন ৩৮১/৬) (হজ ১২৩*, ফিলিপ ১৭, হোপ ৪, সিলস ১৫, রোচ ০; ডাফি ৩৫-৮-৮৬-৪, ফোকস ২০-৪-৮২-০, রাই ২১.২-১-৮৯-২, এজাজ ৪১-৫-১১৩-৩, ফিলিপস ৮-০-২৮-০, মিচেল ৩-১-৯-১)।

নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৫৪ ওভারে ৩০২/৬ (ডি.) (ল্যাথাম ১০১, কনওয়ে ১০০, উইলিয়ামসন ৪০*, রাভিন্দ্রা ৪৬*; সিলস ৯-০-৩৬-০, ফিলিপ ৯-০-৫৭-০, গ্রেভস ৬-০-১৮-০, চেইস ১৩-০-১০৬-০, হজ ১৭-১-৮০-২)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৪৬২) ১৬ ওভারে ৪৩/০ (ক্যাম্পবেল ২*, কিং ৩৭*; ডাফি ৬-৩-১৮-০, ফোকস ৫-০-২০-০, এজাজ ৩-৩-০-০, রাই ২-১-১-০)।