১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ক্রিকেটাররা কেন বঞ্চিত হবে বিশ্বকাপ খেলা থেকে?’ প্রশ্ন কোয়াব সভাপতির

‘ক্রিকেট বোর্ড কীভাবে আলোচনা করে ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপে খেলার ব্যবস্থা করবে, সেটা সম্পূর্ণ ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্ব”, বলছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সিলেট থেকে

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Feb 2026, 06:41 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:32 PM

মাইক্রোফোনের সামনে মোহাম্মদ মিঠুন। তার দুই পাশে বেশ কজন ক্রিকেটার, যাদের মধ্যে বিশ্বকাপ দলের সহ-অধিনায়ক ও স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটাররাও আছেন। এখানে তাদের পরিচয়, সবাই ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর প্রতিনিধি। সংগঠনের সভাপতি মিঠুনের স্পষ্ট উচ্চারণ, বাংলাদেশ দলকে বিশ্বকাপে দেখতে চান তারা এবং তাদের মতে, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিসিবির।

বিপিএল খেলতে দেশের ক্রিকেটারদের বড় অংশই এখন সিলেটে। সেখানেই একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার বিশ্বকাপ নিয়ে নিজেদের ভাবনায় জানায় ক্রিকেটারদের সংগঠন। মিঠুনের সঙ্গে সেখানে ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলের সহ-অধিনায়ক সাইফ হাসান, বিশ্বকাপ দলে থাকা শামীম হোসেন, সাইফ উদ্দিন, পারভেজ হোসেন ইমন, অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম, ইরফান শুক্কুর, সাব্বির রহমানরা।

তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যে নিয়ে প্রতিবাদ জানানো ও নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। তবে নানা প্রশ্নের স্রোতে উঠে আসে বিশ্বকাপ প্রসঙ্গও। আগামী মাসের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে না যেতে বিসিবির অনড় অবস্থান নিয়েও জিজ্ঞেস করা হয় কোয়াব সভাপতির অভিমত।

মিঠুন স্পষ্ট করেই জানালেন, ক্রিকেটাররা খেলতে চান বিশ্বকাপে। রাজনীতির সঙ্গে ক্রিকেটকে না মিলিয়ে সুরাহার আহবান জানালেন তিনি বিসিবির প্রতি।

“আমরা প্রথমে বলতে চাই যে, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং এই দায়িত্বটা সম্পূর্ণ ক্রিকেট বোর্ডের। আমি চাই বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে খেলুক। বিশ্বকাপ কেন খেলবে না? এত বড় একটা ইভেন্ট কেন মিস করবে বাংলাদেশের ক্রিকেটারা? আলোচনা করার দায়িত্ব কিন্তু ক্রিকেট বোর্ডের। ক্রিকেট বোর্ড কীভাবে আলোচনা করে এই ক্রিকেটারদের খেলার ব্যবস্থা করবে, সেটা সম্পূর্ণ দায়িত্ব ক্রিকেট বোর্ডের।”

“আমি বিশ্বাস করি যে, খেলা বন্ধ হতে পারে না। ক্রিকেটাররা কেন বঞ্চিত হবে বিশ্বকাপ খেলা থেকে? রাজনৈতিক যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, সেটা রাজনীতির জায়গায় রেখে দেন। খেলাটাকে আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা রাজনীতির সাথে মেলাবেন না। রাজনীতিকে আলাদা রাখেন, ক্রিকেটটাকে আলাদা রাখেন।”

কোয়াব সভাপতির মতে, ক্রিকেটকে নষ্ট করে দেওয়ার আয়োজন চলছে, যা তারা হতে দেবেন না। 

“আমরা অনেকদিন ধরে খেয়াল করছি, এই ক্রিকেটকে রাজনীতির মধ্যে জড়িয়ে একটা নোংরামি শুরু হয়ে গেছে। আমাদের ক্রিকেট সুরক্ষিত করার দায়িত্ব আমাদের। আমরা কোনভাবেই এই ক্রিকেটকে নষ্ট হতে দিতে পারি না। শুধু এখনকার জন্য না, ভবিষ্যতে যারা ক্রিকেট খেলবে, তাদের জন্যও একটা স্বচ্ছ রাস্তা আমরা তৈরি করতে চাই। যেখানে কোন ধরনের বাধা থাকবে না, ক্রিকেটাররা শুধু খেলার দিকে মনোযোগ দেবে, অন্য কোনো বিষয় এখানে প্রভাব ফেলবে না।”

তামিমকে নিয়ে আলোচনার জের ধরে সেখানে উঠে আসে মুস্তাফিজুর রহমানের প্রসঙ্গও। তামিমের ঘটনায় কোয়াব ও ক্রিকেটাররা প্রতিবাদে মুখর হলেও মুস্তাফিজ আইপিএল থেকে বাদ পড়ায় কোয়াব ও ক্রিকেটাররা সোচ্চার হননি কেন, এই প্রশ্ন উঠল। 

মিঠুন জানালেন, মুস্তাফিজের ব্যাপারটি নিয়ে ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তারা এবং চুক্তির কিছু অর্থ আদায় করতে আইনি সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল সেখান থেকে। তবে মুস্তাফিজ নিজেই চাননি এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে।”