Published : 24 Aug 2025, 07:00 PM
দেশের মাটিতে আগের চারটি ওয়ানডের সবকটিতে দুইশর নিচে অলআউট হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই তারাই এবার ৫০ ওভারে ৪৩১ রান করল স্রেফ ২ উইকেট হারিয়ে! সেঞ্চুরি উপহার দিলেন তাদের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের সবাই। রেকর্ড বইয়ের অনেক পাতায় আঁচর কাটল এই ইনিংস।
ম্যাকাইয়ে রোববার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেয়ে চারশ ছাড়ানো পুঁজি গড়ে অস্ট্রেলিয়া। সেঞ্চুরি করেন ট্রাভিস হেড (১০৩ বলে ১৪২), মিচেল মার্শ (১০৬ বলে ১০০) ও ক্যামেরন গ্রিন (৫৫ বলে ১১৮*)।
তিন সেঞ্চুরি
ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ইনিংসে তিন ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরির পঞ্চম ঘটনা এটি, অস্ট্রেলিয়ার প্রথম।
এই পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই আছে দক্ষিণ আফ্রিকার নাম। তবে তাদের বিপক্ষে এমন কিছু দেখা গেল এবারই প্রথম।
প্রথমবার এমন কিছুর নজির গড়ে প্রোটিয়ারাই। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে জোহানেসবার্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন তাদের প্রথম তিন ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা (১৫৩*), রাইলি রুশো (১২৮) ও এবি ডি ভিলিয়ার্স (১৪৯)। ওই ম্যাচে ওয়ানডেতে দ্রুততম ৩১ বলে সেঞ্চুরির বিশ্ব রেকর্ড গড়েন ডি ভিলিয়ার্স।
একই বছরের অক্টোবরে ওয়াংখেড়েতে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক (১০৯), ফাফ দু প্লেসি (১৩৩) ও ডি ভিলিয়ার্স (১১৯)। ২০২২ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এই স্বাদ পান ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট (১২২), দাভিদ মালান (১২৫) ও জস বাটলার (১৬২*)। ২০২৩ বিশ্বকাপে দিল্লিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডি কক (১০০), রাসি ফন ডার ডাসেন (১০৮) ও এইডেন মার্করাম (১০৬)।
জুটির আড়াইশ
উদ্বোধনী জুটিতে হেড ও মার্শ যোগ করেন ২০৫ বলে ২৫০ রান। এই সংস্করণে অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম আড়াইশ ছোঁয়া উদ্বোধনী জুটি এটি। আগের চারটির সবকটিতে ছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার, হেড ছিলেন দুটিতে, মার্শ একটিতে, অন্যটিতে অ্যারন ফিঞ্চ। ২০১৭ সালে অ্যাডিলেইডে পাকিস্তানের বিপক্ষে হেড ও ওয়ার্নার জুটির ২৮৪ রান প্রথম উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কোনো দলের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি এটিই। ২০০৩ সালে ওভালে ভিক্রাম সোলাঙ্কি ও মার্কাস ট্রেসকোথিক জুটির ২০৬ রান ছিল আগের সর্বোচ্চ।
যে কোনো উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হেড ও মার্শের চেয়ে বড় জুটি আছে আর দুটি, আর দুটিই পাকিস্তানের। ২০০২ সালে তখনকার পোর্ট এলিজাবেথে আব্দুল রাজ্জাজ ও সেলিম এলাহির দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ২৫৭ রান। গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজে করাচিতে রান তাড়ায় মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা চতুর্থ উইকেট জুটিতে যোগ করেন ২৬০।
ঝড়ের বেগে সেঞ্চুরি
তিন নম্বরে নেমে গ্রিন সেঞ্চুরি করেন স্রেফ ৪৭ বলে। ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি এটি। ২০২৩ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৪০ বলে সেঞ্চুরি করে চূড়ায় আছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।
বিশ্ব রেকর্ডের তালিকায় গ্রিন আছেন যৌথভাবে ১১তম স্থানে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড এখন তারই। ২০০৭ বিশ্বকাপে ৬৬ বলে সেঞ্চুরি করে আগের রেকর্ডটি ছিল অস্ট্রেলিয়ারই ম্যাথু হেইডেনের।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরিয়ানও এখন গ্রিন। ২০১৫ সালে সিডনিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাক্সওয়েলের ৫১ বলের সেঞ্চুরি ছিল আগের দ্রুততম।
ছক্কার ঝড়
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে ছক্কা হয়েছে মোট ১৮টি, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডেতে কোনো দলের যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালে কিম্বার্লিতে ইংল্যান্ডের ১৯ ছক্কা এখানে সর্বোচ্চ।
চারশর ঠিকানা
ওয়ানডেতে তৃতীয়বারের মতো এক ইনিংসে চারশ রানের মাইলফলক স্পর্শ করল অস্ট্রেলিয়া। এই ম্যাচের চেয়ে বড় ইনিংস তাদের আছে একটি, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে যে ম্যাচে ৪৩৪ রান করেও হেরে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।
২ বা এর কম উইকেট হারিয়ে কোনো দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস অস্ট্রেলিয়ার এবারেরটি। ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২ উইকেটে ৪৩৯ রান করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
তিন সেঞ্চুরির পর কনোলির রেকর্ড গড়া বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিশাল জয়