Published : 24 Aug 2025, 09:51 PM
ম্যাচের প্রথমভাগে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালালেন ট্রাভিস হেড ও ক্যামেরন গ্রিন। দুজনের সঙ্গে মিচেল মার্শও করলেন সেঞ্চুরি। তাদের ব্যাটে যে উইকেটে রান উৎসব করল অস্ট্রেলিয়া, সেখানেই পরে মুখ থুবড়ে পড়ল দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং। কুপার কনোলির স্পিনে প্রোটিয়াদের গুঁড়িয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল অস্ট্রেলিয়া।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষটিতে অস্ট্রেলিয়ার জয় ২৭৬ রানে। ম্যাকাইয়ে রোববার ২ উইকেটে ৪৩১ রানের পুঁজি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৪.৫ ওভারে ১৫৫ রানে গুটিয়ে দেয় স্বাগতিকরা।
এই সংস্করণে রানের হিসাবে নিজেদের সবচেয়ে বড় হারের তেতো স্বাদ পেল দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্ট্রেলিয়া পেল তাদের দ্বিতীয় বড় জয়।
এতদিন দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় হার ছিল ২০২৩ বিশ্বকাপে, ভারতের বিপক্ষে ইডেন গার্ডেন্সে ২৪৩ রানে। একই আসরে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৩০৯ রানে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া, যা তাদের সবচেয়ে বড় জয়।
এবারের জয়ের নায়ক কয়েকজন। ১৭ চার ও ৫ ছক্কায় ১০৩ বলে ১৪২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা ট্রাভিস হেড। তার সঙ্গে আড়াইশ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ১০৬ বলে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ১০০ রান করেন অধিনায়ক মার্শ।
তিন নম্বরে নেমে ৪৭ বলের সেঞ্চুরিতে গ্রিন ৫৫ বলে ১১৮ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন ৮ ছক্কা ও ৬ চারে।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে অল্পে গুটিয়ে দিতে ৬ ওভারে স্রেফ ২২ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি স্পিনার কনোলি। তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের আগের চার ম্যাচের দুটিতে বোলিং করে উইকেট ছিল স্রেফ একটি।
২২ বছর ২ দিন বয়সে এই ম্যাচ খেলতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন কনোলি। ১৯৮৭ সালে লাহোরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২২ বছর ২০৪ দিন বয়সে ৫ উইকেট নিয়ে আগের রেকর্ডটি ছিল ক্রেইগ ম্যাকডারমটের।
ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ান স্পিনার হিসেবে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডও এখন কনোলির। তিনি ছাড়িয়ে গেলেন ২০০৫ সালে মেলবোর্নে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩২ রানে ৫ উইকেট নেওয়া ব্র্যাড হগকে।
এই সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচসহ ঘরের মাঠে আগের চার ওয়ানডের সবকটিতে দুইশর নিচে অলআউট হওয়া অস্ট্রেলিয়া এ দিন ছিল ভিন্ন রূপে। ম্যাচের প্রথম বলে চার মেরে শুরু করেন হেড। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পঞ্চাশে পা রাখেন তিনি স্রেফ ৩২ বলে। জুটির রান শতরান স্পর্শ করে ৭৩ বলে। সবশেষ ২৪ ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম শতরানের উদ্বোধনী জুটি এটি।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার আগের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি (২০০২ সালে ম্যাথু হেইডেন ও অ্যাডাম গিলক্রিস্টের ১৭০) ছাড়িয়ে ছুটতে থাকে হেড ও মার্শের জুটি। হেড সপ্তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৮০ বলে।
হেডের মতো আগ্রাসী ছিলেন না মার্শ। ৫০ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর তিন অঙ্কে পা রাখেন তিনি ১০৫ বলে। তার আগেই হেডের দুর্দান্ত ইনিংস থামে স্পিনার কেশাভ মহারাজের বলে ক্যাচ দিয়ে।
শুরুর জুটিতে আসে ২০৫ বলে ২৫০ রান। ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম আড়াইশ ছোঁয়া উদ্বোধনী জুটি এটি, আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যে কোনো দলের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি।
মার্শ চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পরের ওভারেই বিদায় নেন ক্যাচ দিয়ে। গ্রিন শুরুতে খুব একটা আগ্রাসী ছিলেন না। প্রথম ২৭ বলে তার রান ছিল ৪৩। এরপরই কিউনা মাফাকার টানা তিন বলে দুই ছক্কা ও একটি চারে ডানা মেলে দেন তিনি। স্পিনার সেনুরান মুথুসামিকে মারেন পরপর তিনটি ছক্কা।
এই অলরাউন্ডার প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৪৭ বলে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওয়ানডেতে তার চেয়ে কম বলে সেঞ্চুরি আছে কেবল গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের, ২০২৩ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৪০ বলে।
একই ওয়ানডে ইনিংসে তিন ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরির পঞ্চম নজির এটি। আগের চারটির তিনটিতে করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা, একটিতে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা।
এই সংস্করণে অস্ট্রেলিয়া পেল তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। ২০০৬ সালে তাদের সর্বোচ্চ স্কোর ৪৩৪ টপকে জিতে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেটির পুনরাবৃত্তি দূরে থাক, এবার দাঁড়াতেই পারল না প্রোটিয়ারা।
প্রথম দুই ম্যাচে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলা ম্যাথু ব্রিটস্কির পাশাপাশি দ্বিতীয়টিতে পাঁচ উইকেট নেওয়া লুঙ্গি এনগিডিকে এ দিন বিশ্রাম দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারে এইডেন মার্করামকে হারায় সফরকারীরা। চতুর্থ ওভারে বিদায় নেন আরেক ওপেনার রায়ান রিকেলটন। অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ও ট্রিস্টান স্টাবসও টিকতে পারেননি। ৫০ রানে ৪ উইকেট হারায় তারা পাওয়ার প্লের মধ্যেই।
পাল্টা আক্রমণে পঞ্চম উইকেটে ৩২ বলে ৫৭ রানের জুটি গড়েন টনি ডি জোর্জি ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। এই জুটি ভাঙার পর আবার নিয়মিত উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
চতুর্দশ ওভারে প্রথম বল হাতে পেয়ে ডি জর্জিকে (৩০ বলে ৩৩) ফিরিয়ে শিকার ধরা শুরু করেন কনোলি। ছয় ওভারের টানা স্পেলে পরে একে একে ব্রেভিস (২৮ বলে ৪৯), ভিয়ান মুল্ডার, কর্বিন বশ ও মহারাজকে আউট করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। মাফাকাকে ফিরিয়ে ম্যাচের ইতি টেনে দেন লেগ স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ৪৩১/২ (হেড ১৪২, মার্শ ১০০, গ্রিন ১১৮, কেয়ারি ৫০*; মাফাকা ৬-০-৭৩-০, মুল্ডার ৭-০-৯৩-০, মহারাজ ১০-০-৫৭-১, মার্করাম ৮-০-৬০-০, বশ ১০-০-৬৮-০, মুথুসামি ৯-০-৭৫-১)
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২৪.৫ ওভারে ১৫৫ (মার্করাম ২, রিকেলটন ১১, বাভুমা ১৯, ডি জোর্জি ৩৩, স্টাবস ১, ব্রেভিস ৪৯, মুল্ডার ৫, বশ ১৭, মহারাজ ২, মুথুসামি ৯* মাফাকা ০; বার্টলেট ৬-০-৪৫-২, অ্যাবট ৪-০-২৭-২, এলিস ৪-০-২৫-০, জ্যাম্পা ৪.৫-১-৩১-১, কনোলি ৬-০-২২-৫)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ২৭৬ রানে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা
ম্যান অব দা ম্যাচ: ট্রাভিস হেড
ম্যান অব দা সিরিজ: কেশাভ মহারাজ
১৪২, ১০০, ১১৮: প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার যত রেকর্ড