Published : 13 May 2026, 01:39 PM
মিরপুর টেস্টের শেষ সেশনের খেলা যখন চলছে, সিলেট টেস্টের দল ঘোষণা করা হয় তখনই। সেখানে আছে ইবাদত হোসেন চৌধুরির নাম। মিরপুরে নাটকীয় শেষ সেশনে যিনি ছিলেন প্রায় অদৃশ্য হয়ে। ম্যাচজুড়েই আসলে তেমন কোনো অবদান রাখতে পারেননি এই পেসার। তবু কেন তাকে পরের টেস্টের স্কোয়াডে রাখা হলো, কেন সুযোগ পেলেন না আরেক পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদ, উত্তর পাওয়া গেল প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের কাছ থেকে।
মিরপুরে বাংলাদেশের পাঁচ বোলারের মধ্যে ইবাদতই কেবল গোটা ম্যাচে উইকেটের দেখা পাননি। বেশ খরুচেও ছিলেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ১২ ওভারে রান দেন ৫৪। দ্বিতীয় ইনিংসে তো তাকে দুই ওভারের বেশি বোলিং করানোর প্রয়োজনই মনে করেননি অধিনায়ক।
শুধু উইকেট পাননি বলেই নয়, ইবাদতের বলে ধার ও বৈচিত্রও দেখা যায়নি খুব একটা। কিছুটা একঘেষে ও একমুখি বোলিংকরে গেছেন, স্কিলের ছাপ খুব একটা দেখা যায়নি। ব্যাটসম্যানদের চাপ সরিয়ে দিয়েছেন বারবার আলগা ডেলিভারি করে।
এই টেস্টের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের ম্যাচে পূর্বাঞ্চলের হয়ে সিলেটে দুই ইনিংসেই চারটি করে উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু টেস্ট ম্যাচে বয়ে আনতে পারেননি সেই পারফরম্যান্স।
তবে এই পারফরম্যান্সকে অস্বাভাবিক মনে করছেন না হাবিবুল। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে প্রধান নির্বাচক বললেন, ইবাদতকে সেরা রূপে ফিরে পেতেই আশাবাদী তারা।
“এরকম হতে পারে, একটা ম্যাচ খারাপ হতে পারে। ইবাদতের এই ম্যাচ ভালো যায়নি। তবে সেটা যে কারও হতে পারত। নাহিদ রানা প্রথম ইনিংসে অতটা ভালো করেনি। আমরা চেয়েছি, প্রক্রিয়াটা ধরে রাখতে। একটি ম্যাচ দেখেই বাদ দিতে চাই না।”
“একটা ভালো ব্যাপার নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, ইবাদতের গতি কিন্তু ফিরেছে। এখন ছন্দটা ফেরার অপেক্ষা। এজন্য ওকে দলে রেখে দেওয়াটা ভালো মনে হয়েছে আমাদের।”
এসিএলের চোটে লম্বা সময় মাঠের বাইরে থাকার পর ফিরে এখনও পর্যন্ত আগের চেহারা ফিরে পাননি ইবাদত। ফেরার পর তিন টেস্ট খেলে তার প্রাপ্তি কেবল ১ উইকেট। তার গতিও বেশ কমে গিয়েছিল। তবে মিরপুরে উইকেট না পেলেও ১৪০ কিলোমিটার গতি ছাড়িয়েছেন নিয়মিতই।

কিন্তু শুধু ওই গতি যে যথেষ্ট নয়, সেটা তো মিরপুরেই ফুটে উঠেছে। খালেদের প্রসঙ্গও তাই উঠে আসছে। মূলত টেস্ট ক্রিকেটের জন্যই তাকে সারা বছর তৈরি রাখা হয়। কিন্তু এই সিরিজে তাকে কোনো ম্যাচেই স্কোয়াডে রাখা হলো না। তার প্রতি কি অন্যায় হচ্ছে?
প্রধান নির্বাচক শোনালেন বাস্তবতার কথা। পাশাপাশি পেস বোলিং নিয়ে মধুর সমস্যার দিকটিও তুলে ধরলেন তিনি।
“আমি বলব না অন্যায়, বরং আপাতত একটু ব্যাড লাক বলা যায়। খালেদ সব ঠিকঠাকই করছে এবং সামনে খেলবেও। এখন ওকে স্কোয়াডে রাখলেও আসলে খেলার সুযোগ হয়তো পেত না। খেলার সম্ভাবনা কমই থাকত।”
“আমাদের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ পেসার কিন্তু এখন বাইরে আছে। হাসান মাহমুদ যখন ফিরবে, তখন কি হবে? হয়তো একজনকে বাদ দিতে হবে। এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখিই তো আমরা হতে চাই। এই যে আমরা আলোচনা করছি এগুলো নিয়ে, এতেই ফুটে ওঠে আমাদের পেস বোলিং শক্তি এখন কতটা সমৃদ্ধ।”
মিরপুরে বাংলাদেশ তিনজন ডানহাতি পেসার নিয়ে খেলেছে। শরিফুল ইসলাম স্কোয়াডে থাকলেও বাঁহাতি পেসের বৈচিত্র কাজে লাগানো হয়নি। সেটির কারণও জানা গেল।
নির্বাচকরা এখন শুধু স্কোয়াড বাছাই করেন না, একাদশ নির্বাচনেও ভূমিকা রাখেন। হাবিবুল বললেন, শরিফুলের শারীরিক ধকল কমাতে ও তাকে চনমনে রাখতেই এই টেস্টে খেলানো হয়নি।
“শরিফুলের ব্যাপারটি ছিল পুরোপুরি ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের অংশ। গত কয়েক মাসে অনেক ক্রিকেট খেলেছে ও। খুব ভালো ফর্মে আছে, ছন্দে আছে। কিন্তু সব ম্যাচে খেলালে ধার হারিয়ে ফেলবে। টানা খেলতে থাকলে, ভালো খেলতে থাকলে অনেক সময় বোঝা যায় না শরীরের ওপর ধকল কতটা যাচ্ছে। এখানেই ম্যানেজ করাটা গুরুত্বপূর্ণ।”
“টেস্টে ফেরানোর আগে এই সময়ে ওর বিশ্রাম খুবই জরুরি ছিল। আশা করি, যখন নামবে মাঠে, একদম তরতাজা হয়ে ক্ষুরধার বোলিং করতে পারবে।”
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সিলেট টেস্টে শরিফুল ফিরছেন। কিন্তু পেস আক্রমণ নিয়ে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নিতে হবে দলকে। দেড় বছর পর টেস্টে ফেরা তাসকিন আহমেদকে কি খেলানো হবে টানা দুটি টেস্ট? নাহিদ রানাকে কি বিশ্রাম দেওয়া হবে?
হাবিবুল জানালেন, এখনও পর্যন্ত সেসব আলোচনা গভীরভাবে হয়নি। তবে কিছুটা আভাস তিনি দিয়ে রাখলেন।
“আমাদের ধারণা ছিল, তাসকিন ও রানাকে হয়তো একটি করে টেস্ট খেলাতে পারব। তবে খুব বেশি বোলিং করতে হয়নি দুজনের কাউকে। এজন্য আশা করি, দুজনই ভালো অবস্থায় থাকবে সিলেট টেস্টের জন্যও।”