Published : 05 Sep 2026, 10:28 PM
কারাবন্দি ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান ব্রায়ান লারা। পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ককে প্রাপ্য মর্যাদা ও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। এরপর ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যে অভিযোগগুলো তিনি ও তার দল অস্বীকার করে আসছে।
গত কয়েক সপ্তাহে ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। তার যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে গত মাসে ২১ জন সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দেন। চিঠিতে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউ জিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়কেরা স্বাক্ষর করেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক একই দাবিতে পাকিস্তান সরকারকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। তবে দেশটির সরকারের কাছ থেকে সেটির কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তারই ধারাবাহিকতায় এই নতুন চিঠি দেওয়া হয়।
সাবেক অধিনায়কদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন লারা। ক্যারিবিয়ান তারকা সেখানে লেখেন, পাকিস্তানের জন্য একসময় যিনি ছিলেন ‘আশার প্রতীক’, সেই ইমরানকে এখন কেন ‘উপযুক্ত চিকিৎসাসেবা’ দেওয়া হচ্ছে না, বুঝতে পারছেন না তিনি।
“ইমরান খান ও আমার মাঠে কয়েকবারই দেখা হয়েছে, তবে তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা তখন থেকেই এবং সেটা দীর্ঘস্থায়ী। আমি বুঝতে পারছি না, খেলোয়াড়ি জীবনের সেরা সময়ে যিনি নিজের দেশের জন্য আশা, গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক ছিলেন, সেই তিনি এখন কীভাবে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন যেখানে তাকে যথাযথ যত্ন নেওয়া হচ্ছে না এবং প্রাপ্য সহানুভূতি ও মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে না।
“আমার সাবেক অধিনায়ক সতীর্থদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি এবং আহ্বান জানাচ্ছি, তাকে যেন যথাযথ ও স্বাধীন চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় ও একজন মানুষের প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়। এটা রাজনীতি নয়। আমাদের খেলার একজন কিংবদন্তির প্রতি এটা ন্যূনতম মানবিকতা।”
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে রাজধানী ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে ভর্তি করানোর নির্দেশ দেয়। কিন্তু তাকে সরকারি হাসপাতাল পিআইএমএসে নেওয়া হয়। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
কারাগারে ইমরানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা কিংবা তাকে পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সেসব প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান সরকার। গত মাসে এক বিবৃতিতে দেশটির সরকার জানায়, ২০২৩ সালের আগস্টে বন্দী হওয়ার পর থেকে ইমরানের পরিবার, আইনজীবী ও চিকিৎসকেরা তার সঙ্গে ৯০০ বারের বেশি সাক্ষাৎ করেছেন।
পাকিস্তানের হয়ে ৮৮ টেস্ট ও ১৭৫ ওয়ানডে খেলেছেন ইমরান। পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে তিনি অবিসংবাদিত। তার নেতৃত্বে ১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে পাকিস্তান।