স্ত্রীর ক্যান্সার বদলে দিয়েছে কিউই পেসারের ক্রিকেট-ভাবনা
ব্লেয়ার টিকনারের উপলব্ধি, ক্রিকেট তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও সবকিছু নয়।
ক্রিকেট নিয়ে আর আগের মতো চাপ অনুভব করেন না ব্লেয়ার টিকনার। হাসিমুখে খেলাটাকে স্রেফ উপভোগ করে যাওয়াই এখন তার লক্ষ্য। নিউ জিল্যান্ডের পেসার বলেছেন, তার স্ত্রীর ক্যান্সারের চিকিৎসার কঠিন সময়টা বদলে দিয়েছে জীবন ও ক্রিকেট নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি।
লিউকেমিয়া ধরা পড়ার পর, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে আট মাস চিকিৎসা নিতে হয় টিকনারের স্ত্রী সারাহকে। ওই বছরের বড়দিনের আগের দিন হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন তিনি। এরপর থেকে ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তার।
ভারতের বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজের দলে আছেন ৩৩ বছর বয়সি টিকনার। হেরে যাওয়া প্রথম ওয়ানডেতে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে নেমে ৩৪ রান করলেও, নিজের মূল কাজটা ঠিকভাবে করতে পারেননি তিনি। ধরতে পারেননি একটি শিকারও।
দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে টিকনার বলেন, জীবনের কঠিন সময়টা বদলে দিয়েছে তার ভাবনার জগৎ। এখন কেবল মাঠে আনন্দ নিয়ে খেলে যেতে চান তিনি।
“আমার জীবনটা বলা যায় উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। সারাহ ও আমার পরিবারের সবাই মিলে কঠিন সময়টা পার করতে পেরেছি, এটা সত্যিই দারুণ ব্যাপার। এখন আমি শুধু ক্রিকেট উপভোগ করার চেষ্টা করছি। সম্ভবত আগের চেয়ে নিজেকে এখন আরেকটু বেশি খুঁজে পেয়েছি।
“ক্যারিয়ারে বিভিন্ন পর্যায় পার করেছি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অনেক চাপ অনুভব করতাম। এরপর সারাহর ক্যান্সারের চিকিৎসার সময়টা এলো, যা ছিল খুব কঠিন। এখন মনে হচ্ছে ক্যারিয়ারের শেষ ভাগে চলে এসেছি। তাই শুধু আনন্দ নিয়ে খেলতে চাই। নিজের মতো থাকার চেষ্টা করছি।”
টিকনার উপলব্ধি করছেন, ক্রিকেট তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও সবকিছু নয়।
“মুখে হাসি নিয়ে খেলতে চেষ্টা করি। ক্রিকেটের বাইরেও যে অনেক কিছু আছে, সেটা স্পষ্ট। ক্রিকেট আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। কিন্তু আমি জানি, দিনশেষে আমার মেয়ে ও স্ত্রীর কাছে ফিরে যাব। আর এতে আমি খুবই খুশি ও নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। তাই হ্যাঁ, ক্রিকেটের স্থান এর চেয়ে সামান্য পেছনে।”
