অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ
Published : 06 Feb 2026, 05:31 PM
ম্যাচের একাদশ ওভারে ফিফটি, ২০তম ওভারে সেঞ্চুরি। কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কের ঠিকানায় পা রাখার পরও থামাথামির নাম নেই বৈভাব সুরিয়াভানশির। নিজের ইনিংসকে আরও এগিয়ে নিলেন ভারতীয় ওপেনার। চার-ছক্কার বৃষ্টি ঝরিয়ে নাম লেখালেন রেকর্ডের বেশ কয়েকটি পাতায়।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে শুক্রবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঝড় তোলেন সুরিয়াভানশি। হারারেতে এদিন ১৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের ৮০ বলের ইনিংসটি সাজানো ১৫টি করে চার ও ছক্কায়।
যুব বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে এনিয়ে ষষ্ঠবার দেখা গেল সেঞ্চুরি। তবে ফাইনালে দেড়শ ছোঁয়া ইনিংস এটিই প্রথম। শিরোপার লড়াইয়ের মঞ্চে আগের সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডটি ছিল সুরিয়াভানশিরই পূর্বসূরি উন্মুখ চাঁদের। ২০১২ আসরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ১১১ রান করেন তিনি।
সুরিয়াভানশির ইনিংসে ১৫০ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। যুব ওয়ানডেতে যা রেকর্ড। ২০১৮ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার হাসিথা বোয়াগোদার ১৯১ রানের ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে এসেছিল ১২৪ রান (২৮ চার ও ২ ছক্কা)।
সুরিয়াভানশি এদিন ১৫টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। যুব ওয়ানডেতে যা এক ইনিংসে সর্বোচ্চ। তিনি ভেঙেছেন নিজেরই ১৪ ছক্কার আগের রেকর্ড।
এনিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সুরিয়াভানশির ছক্কা হলো ৩০টি। এটিও রেকর্ড। এক আসর তো বটেই, পুরো প্রতিযোগিতার ইতিহাসেও তার চেয়ে বেশি ছক্কা নেই কারো। ২০২২ আসরে ১৮টি ছক্কা মেরেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। আর ২০১৬ ও ২০১৮ আসর মিলিয়ে ১৮ ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন নিউ জিল্যান্ডের ফিন অ্যালেন।
যুব ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি সুরিয়াভানশির সর্বোচ্চ ইনিংস। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের এই সংস্করণে এনিয়ে চতুর্থবার সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তিনি। ভারতীয়দের মধ্যে তার চেয়ে বেশি শতক আছে কেবল চাঁদের, পাঁচটি।
ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে চার মেরে রানের খাতা খোলেন সুরিয়াভানশি। নবম ওভারে জেমস মিন্টোকে এক ছক্কা ও তিনটি চার মারেন তিনি। ফারহান আহমেদকে ছক্কার পর সিঙ্গল নিয়ে ৩২ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি।
পঞ্চদশ ওভারে ফারহানকেই দুটি ছক্কায় ওড়ান সুরিয়াভানশি। ইংলিশ অফ স্পিনারের পরের ওভারে তাণ্ডব চালান তিনি। তিনটি ছক্কার সঙ্গে মারেন একটি চার।
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রান বাড়াতে থাকা সুরিয়াভানশি কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কে পা রাখেন ৫৫ বলে। এই সংস্করণে ৫২ বলেও সেঞ্চুরি আছে ভারতীয় এই বিস্ময় বালকের।
রালফি অ্যালবার্টের করা ২২তম ওভারে তিনটি চারের সঙ্গে দুটি ছক্কা মারেন সুরিয়াভানশি। পরের ওভারে সেবাস্টিয়ান মর্গ্যানকে ছক্কায় উড়িয়ে ৭১ বলে স্পর্শ করেন দেড়শ, পরের ডেলিভারিতেই আবার মারেন চার।
মর্গ্যানের পরের ওভারে দুটি করে ছক্কা ও চার হাঁকান ১৪ বছর বয়সী সুরিয়াভানশি। ২৬তম ওভারে বাজে তার বিদায়ঘন্টা। মানি লামসডেনকে স্লগ সুইপ করে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন তিনি।
সুরিয়াভানশির সেঞ্চুরি ও বাকিদের অবদানে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৪১১ রান করেছে ভারত। যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে চারশ রান তো দূরের কথা, তিনশ রানও এর আগে করতে পারেনি কোনো দল। ২০২৪ আসরে ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ২৫৩ ছিল আগের সর্বোচ্চ।