১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মার্শ ও ম্যাক্সওয়েলের ঝড়ে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে জিতে সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার

পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ এক বল বাকি থাকতে ২ উইকেটে জিতল অস্ট্রেলিয়া।

মার্শ ও ম্যাক্সওয়েলের ঝড়ে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে জিতে সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার
চাপের মুখে দারুণ ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ছবি: ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Aug 2025, 08:29 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:35 PM

শেষ ওভারে পরপর দুই বলে নেই কোনো রান। জয়ের সমীকরণ চার বলে ৪ থেকে দাঁড়াল দুই বলে ৪। লুঙ্গি এনগিডির ফুল টস রিভার্স স্কুপে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে হুঙ্কার ছাড়লেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। চাপের মুখে দুর্দান্ত ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়াকে রোমাঞ্চকর জয় এনে দিলেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। 

কেয়ার্নসের ক্যাজেলিস স্টেডিয়ামে প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচের উপলক্ষ ২ উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয়ে রাঙাল স্বাগতিকরা। তিন ম্যাচের সিরিজ মিচেল মার্শের দল জিতল ২-১ ব্যবধানে।

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে শনিবার দক্ষিণ আফ্রিকার ১৭২ রান এক বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

এই সংস্করণে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয় এটি। ২০০৯ সালে ব্রিজবেনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ও ২০২২ বিশ্বকাপে পার্থে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জয় ছিল আগের রেকর্ড।  

আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ডেওয়াল্ড ব্রেভিস তাণ্ডব চালান এদিনও। তার ২২ বলের ফিফটিতে ১১ ওভারে ৩ উইকেটে ১০৮ রানের শক্ত অবস্থানে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর ঘুরে দাঁড়িয়ে লক্ষ্যটা নাগালে রাখে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা।

টানা তিনটি দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল অস্ট্রেলিয়া। ছবি: অস্ট্রেলিয়া মেন’স ক্রিকেট টিম ফেইসবুক

টানা তিনটি দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল অস্ট্রেলিয়া

রান তাড়ায় ঝড়ো ফিফটিতে সুর বেঁধে দেন অধিনায়ক মার্শ। তবে মাঝে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ছয় নম্বরে নেমে ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৩৬ বলে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন ম্যাক্সওয়েল। ম্যাচের সেরা তিনিই।

প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ ছিলেন যে দুজন, সেই মার্শ ও ম্যাক্সওয়েল জ্বলে উঠলেন দলের খুব প্রয়োজনের সময়ে।

লক্ষ্য তাড়ায় উড়ন্ত শুরু পায় অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ৬ ওভারে কাগিসো রাবাদা ও সেনুরান মুথুসামিকে দুটি করে এবং এনগিডিকে একটি ছক্কা মারেন মার্শ। অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ তখন বিনা উইকেটে ৬৪।

পরের ওভারে ট্রাভিস হেডের (১৮ বলে ১৯) বিদায়ে ভাঙে ৬৬ রানের শুরুর জুটি। জশ ইংলিস ফেরেন প্রথম বলে। মার্শ ফিফটি করেন ৩৫ বলে। কিন্তু কিউনা মাফাকার একই ওভারে মার্শের পর আউট হয়ে যান ক্যামেরন গ্রিনও।

৫ ছক্কা ও ৩ চারে ৩৭ বলে ৫৪ রান করেন মার্শ। বিনা উইকেটে ৬৬ থেকে দ্রুতই অস্ট্রেলিয়ার স্কোর হয়ে যায় ৪ উইকেটে ৮৮। এরপর ব্যাটিংয়ে নামেন ম্যাক্সওয়েল।

স্কোর একশ পার হওয়ার পর রাবাদার একই ওভারে বিদায় নেন টিম ডেভিড ও অ্যারন হার্ডি। চতুর্দশ ওভারে ১২২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।

তবে দারুণ ব্যাটিংয়ে ম্যাক্সওয়েল ৩০ বলে ফিফটি ছুঁয়ে সহজ করে ফেলেন সমীকরণ। এক বছরের বেশি সময় পর এই সংস্করণে পঞ্চাশ ছুঁতে পারলেন তিনি।

শেষ দুই ওভারে দরকার যখন ১২, তখন আবার নাটকীয়তা। ১৯তম ওভারে পরপর দুই বলে বেন ডোয়ার্শিস ও ন্যাথান এলিসকে ফিরিয়ে দেন কর্বিন বশ। এই ওভারে প্রথম বলে লেগ বাই থেকে ২ রানের পর বাকি পাঁচ বলে আর কোনো রান দেননি তিনি।

শেষ ওভারে এনগিডির প্রথম বলে ২ রান নেওয়ার পর বাউন্ডারি মারেন ম্যাক্সওয়েল। পরের দুই বলে কোনো রান নেননি তিনি। পঞ্চম বলে চমৎকার শটে চার মেরে ইতি টানেন ম্যাচের।

আরেকটি ঝড়ো ইনিংস খেললেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। ছবি: ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা ফেইসবুক

আরেকটি ঝড়ো ইনিংস খেললেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস

রোমাঞ্চ-উত্তেজনায় শেষ হওয়া ম্যাচের শুরুটা ছিল আবেগের। এদিনই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমানো অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক ও কোচ বব সিম্পসনের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় ম্যাচ শুরুর আগে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা মাঠে নামেন কালো আর্মব্যান্ড পরে।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারে অধিনায়ক এইডেন মার্করামকে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তিন নম্বরে নেমে পাঁচটি চার মেরে শুরুটা ভালো করেন লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াস। পঞ্চম ওভারে প্রথমবার বোলিংয়ে এসে তরুণ ব্যাটসম্যানকে (১৫ বলে ২৩) থামান একাদশে ফেরা এলিস।

১৩ বলে ১৩ রান করে বিদায় নেন রায়ান রিকেলটন। সাত ওভারের মধ্যে ৪৯ রানে প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

তবে দারুণ ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন ব্রেভিস। প্রথম ৫ বলে ২ রানের পর বেন ডোয়ার্শিসকে ছক্কায় উড়িয়ে ডানা মেলে দেন আগের ম্যাচে ৮ ছক্কায় ৫৬ বলে অপরাজিত ১২৫ রানের ইনিংস খেলা তরুণ ব্যাটসম্যান। 

দশম ওভারে তিনি ঝড় বইয়ে দেন হার্ডির ওপর দিয়ে। টানা তিনটি ছক্কা মারেন বলের দিকে না তাকিয়ে (নো লুক শট)। প্রথমটিতে ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে স্টেডিয়ামের ছাদে পড়ে বল চলে যায় বাইরে। আনতে হয় আরেকটি বল। পরের দুই বলও লং অন ও লং অফের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান তিনি। একটি ওয়াইড ডেলিভারির পর আরেকটি ছক্কা মারেন ডিপ পয়েন্টের ওপর দিয়ে।

আগের ম্যাচে ২৫ বলে ফিফটি ছোঁয়ার পর এবার তার ফিফটি ২২ বলে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সংস্করণে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দ্রুততম ফিফটির প্রথম দুটিই তার।  

দ্বাদশ ওভারে ব্রেভিসের ঝড় থামান এলিস। এই বছরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে (ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে) সবচেয়ে বেশি ছক্কা ব্রেভিসের (৮৫টি)। ৭৭টি ছক্কা মেরে দুইয়ে পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান।

ব্রেভিসকে ফিরিয়েই ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু অস্ট্রেলিয়ার। ২৩ বলে ২৫ রান করে ফেরেন ট্রিস্টান স্টাবস। টিকতে পারেননি বশ।

রাসি ফন ডার ডাসেনের ৩ চারে ২৬ বলে অপরাজিত ৩৮ রানের সুবাদে ১৭২ পর্যন্ত যেতে পারে সফরকারীরা। পরে বোলিংয়ে তারা লড়াই জমিয়ে তুললেও জয়ের জন্য যথেষ্ট হলো না তা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৭২/৭ (মার্করাম ১, রিকেলটন ১৩, প্রিটোরিয়াস ২৪, ব্রেভিস ৫৩, স্টাবস ২৫, ফন ডার ডাসেন ৩৮*, বশ ১, মুথুসামি ৯, রাবাদা ৪*; হেইজেলউড ৪-০-৩০-২, হার্ডি ২-০-৩৩-০, ডোয়ার্শিস ৪-০-৩৭-০, এলিস ৪-০-৩১-৩, জ্যাম্পা ৪-০-২৪-২, ম্যাক্সওয়েল ২-০-১৫-০)

অস্ট্রেলিয়া: ১৯.৫ ওভারে ১৭৩/৮ (মার্শ ৫৪, হেড ১৯, ইংলিস ০, গ্রিন ৯, ডেভিড ১৭, ম্যাক্সওয়েল ৬২*, হার্ডি ১, ডোয়ার্শিস ১, এলিস ০, জ্যাম্পা ০*; রাবাদা ৪-০-৩২-২, মার্করাম ২-০-৬-১, এনগিডি ৩.৫-০-৩৪-০, মাফাকা ৩-০-৩৬-২, মুথুসামি ৩-০-৩৪-০, ৩-০-৩৫-১, বশ ৪-১-২৬-৩)

ফল: অস্ট্রেলিয়া ২ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জয়ী অস্ট্রেলিয়া

ম্যান অব দা ম্যাচ: গ্লেন ম্যাক্সওয়েল 

ম্যান অব দা সিরিজ: টিম ডেভিড