মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিন ১৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৪ উইকেটে জিতেছে নিউ জিল্যান্ড।
Published : 09 Dec 2023, 08:21 AM
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৭২
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১৮০
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ১৪৪
নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ১৩৭) ৩৯.৪ ওভারে ১৩৯/৬
বৃষ্টিবিঘ্নিত মিরপুর টেস্টে তিন দিন শেষে ৩০ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে বাকি থাকা ৮ উইকেট নিয়ে শনিবার ব্যাটিংয়ে নামবে তারা। ম্যাচ জিততে ২০০ থেকে ২২০ রানের মধ্যে লক্ষ্য দেওয়ার পরিকল্পনা তাদের।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ অল আউট হয় ১৭২ রানে। জবাবে নিউ জিল্যান্ড করে ১৮০ রান। তাদের ৮ রানের লিড ছাড়িয়ে তৃতীয় দিন শেষ দিকে ২ উইকেট হারিয়ে ৩৮ রান নেয় বাংলাদেশ। জাকির হাসান ও মুমিনুল হক শুরু করবেন চতুর্থ দিনের ব্যাটিং।
বৃষ্টির কারণে প্রথম দিন খেলা হয় ১১ ওভার কম। পরে ভেসে যায় দ্বিতীয় দিনের পুরোটা। বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতায় তৃতীয় দিন সব মিলিয়ে স্রেফ ৩২.২ ওভার মাঠে গড়ায়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে)
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৭২
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৫৫/৫) ৩৭.১ ওভারে ১৮০ (মিচেল ১৮, ফিলিপস ৮৭, স্যান্টনার ১, জেমিসন ২০, সাউদি ১৪, এজাজ ০*; শরিফুল ৪-১-১৫-২, মিরাজ ১১-১-৫৩-৩, তাইজুল ১৬.১-০-৬৪-৩, নাঈম ৪-০-২১-২, মুমিনুল ২-০-১৭-০)
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৮ ওভারে ৩৮/২ (জাকির ১৬*, জয় ২, শান্ত ১৫, মুমিনুল ০*; এজাজ ৪-০-১৩-১, স্যান্টনার ২-০-১২-০, সাউদি ২-০-৮-১)
চতুর্থ দিনের শুরুটা স্পিনার দিয়ে করল নিউ জিল্যান্ড। দিনের প্রথম ওভার করলেন এজাজ প্যাটেল। তার প্রথম ডেলিভারিতেই মিলেছে টার্ন, কিছুটা নিচুও হয়েছে বল। উইকেটের সম্ভাব্য আচরণের আভাসই যেন এটি।
ম্যাচের প্রথম তিন দিন বাগড়া বাধিয়েছে বৃষ্টি। শনিবার নেই তেমন মেঘের আনাগোনা। তবে কুয়াশার কারণে খুব একটা পরিষ্কার নয় মাঠের চারপাশের পরিবেশ। সারা দিনই এমন থাকার বার্তাই মিলছে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে।
দিনের শুরুতেই পঞ্চাশ রান পূর্ণ করল বাংলাদেশ। ১১ ওভারে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৫০ রান। জাকির হাসান ২৭ ও মুমিনুল হক ১ রানে অপরাজিত।
দ্বিতীয় ওভারে টিম সাউদির বলে জোড়া চার মারেন জাকির। প্রথমটি ব্যাটের কানা ছুঁয়ে কিছুটা সৌভাগ্যবশতই পান বাউন্ডারি। এক বল পর নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে মারা স্কয়ার কাটে আসে দ্বিতীয় চার।
বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না মুমিনুল হক। এজাজ প্যাটেলের নিখুঁত টার্ন করা ডেলিভারি পুল করতে গিয়ে ব্যাটে লাগাতে পারেননি তিনি। বল প্যাডে লাগতেই আঙুল তুলতে সময় নেননি আম্পায়ার।
পরিষ্কার আউট বোঝা যাওয়ায় রিভিউও নেননি মুমিনুল। ২ চারে ১০ রান করেন তিনি।
পাঁচ নম্বরে নেমেছেন মুশফিকুর রহিম। ৩৪ রানে খেলছেন জাকির হাসান।
১৫ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৭১ রান। লিড এখন ৬৩ রানের।
টিম সাউদির জায়গায় আক্রমণে এসেই সাফল্য পেলেন মিচেল স্যান্টনার। বিদায় করে দিলেন মিডল অর্ডারে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভরসা মুশফিকুর রহিমকে।
প্রথম বলে চার মেরে বাঁহাতি স্পিনারকে স্বাগত জানিয়েছিলেন তিনি। পরের বল একটুর জন্য কানা নেয়নি।
তৃতীয় বলে ব্যাটের কানায় লেগে স্টাম্পের পাশ ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে পান ২ রান। পরের বলে আর বাঁচেননি, ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে স্লিপে।
১২ বলে এক চারে ৯ রান করেন মুশফিক।
১৮ ওভারে বাংলাদেশের রান ৪ উইকেটে ৮২। ক্রিজে জাকির হাসানের সঙ্গী শাহাদাত হোসেন।
নিউ জিল্যান্ডের স্পিনের জবাব খুঁজে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের পর ড্রেসিং রুমের পথ ধরেছেন শাহাদাত হোসেন।
মিচেল স্যান্টনারের মিডল-লেগ স্টাম্পে পিচ করে লাইন ধরে রাখা ডেলিভারি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলার চেষ্টা করেন শাহাদাত। ব্যাট ফাঁকি দিয়ে বল আঘাত করে পেছনের পায়ে।জোরাল আবেদনে সাড়া দেব আম্পায়ার।
অন্য প্রান্তে থাকা জাকির হাসানের পরামর্শে রিভিউ নেন শাহাদাত। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল আঘাত করত লেগ স্টাম্পে। তাই বহাল থাকে মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত। ৪ রান করে ফেরেন শাহাদাত।
২১ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৮৯ রান। লিড এখন ৮১ রানের।
সাত নম্বরে নেমেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। জাকির হাসান খেলছেন ৩৮ রানে।
এজাজ প্যাটেলের অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা ডেলিভারি ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে খেলতে চাইলেন জাকির হাসান। কিন্তু টার্নের সঙ্গে ভেতরে ঢোকা বলে যথাযথ জায়গায় যেতে পারলেন না। তাই ব্যাট দিয়ে না খেলে প্যাড আপ করলেন বাঁহাতি ওপেনার।
কোনো শট না খেলায় জোরাল আবেদন করে নিউ জিল্যান্ড। সাড়া দেননি আম্পায়ার। কিছুক্ষণ ভেবে রিভিউ নেন টিম সাউদি। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল গিয়ে আঘাত করত মিডল স্টাম্পে।
কিন্তু জাকির ক্রিজ ছেড়ে ৩ মিটারের বেশি বের হওয়ায় বহাল থাকে মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত। বেঁচে যান জাকির। তখন ৩৯ রানে খেলছিলেন তিনি।
প্রথম ঘণ্টায় পানি বিরতির পর প্রথম বলেই ড্রেসিং রুমের পথ ধরলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এজাজ প্যাটেলের টার্ন করে বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারি অন সাইডে উড়িয়ে মারায় চেষ্টায় তার ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে যায় আকাশে। মিড উইকেটে সহজ ক্যাচ নেন মিচেল স্যান্টনার।
৩ রান করে ফিরেছেন মিরাজ। ক্রিজে এসেছেন শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান। বাঁহাতি ওপেনার জাকির হাসান খেলছেন ৪৩ রানে।
২৪.১ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৯৭ রান।
এজাজ প্যাটেলের খানিক টেনে দেওয়া ডেলিভারিতে দারুণ কাটে চার মারলেন নাইম হাসান। বাংলাদেশের লিড ছাড়াল একশ রানের ঘর। মিচেল স্যান্টনারের করা আগের ওভারে পূর্ণ হয় দলের একশ রান।
২৭ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১০৯ রান। লিড এখন ১০১ রানের। নাঈম ৮ ও জাকির হাসান ৪৭ রানে খেলছেন।
মিচেল স্যান্টনার ও এজাজ প্যাটেলের বাঁহাতি স্পিনের সামনে লড়াই-ই করতে পারছেন না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। জাকির হাসান এক প্রান্ত আগলে রাখলেও আরেক প্রান্তে টিকতে পারছেন না কেউ।
স্যান্টনারের স্টাম্প তাক করে ডেলিভারিতে স্লিপে ধরা পড়লেন নাঈম হাসান। বাড়তি লাফানো বল তাকে চমকে দিয়ে ছোবল দেয় ব্যাটের কানায়। বাকিটা অনায়াসেই সারেন টিম সাউদি।
১৯ বলে ১ চারে ৯ রান করেন নাঈম।
তার বিদায়ের পর সেই ওভারেই সিঙ্গেল নিয়ে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন জাকির হাসান। ১৩২ মিনিটে ৭৯ বলের ইনিংসে বাঁহাতি এই ওপেনার মারেন ছয়টি চার।
৩০ ওভারে বাংলাদেশের রান ৮ উইকেটে ১১৪।
লিড দেড়শর আশেপাশে নিতে বাংলাদেশের আশা হয়ে টিকেছিলেন জাকির হাসান। তাকে বিদায় করে নিজের ৫ উইকেট পূর্ণ করলেন এজাজ প্যাটেল।
বাঁহাতি স্পিনারের মিডল স্টাম্পে করা ফুল লেংথ ডেলিভারিতে সুইপ করেছিলেন জাকির। ঠিক মতো খেলতে পারেননি ব্যাটের কানায় লেগে, গ্লাভস ছুঁয়ে ওঠে যায় সহজ ক্যাচ। লেগ স্লিপে অনায়াসেই মুঠোয় নেন ড্যারিল মিচেল।
৮৬ বলে এক ছক্কা ও ছয় চারে ৫৯ রান করেন জাকির।
৩৩ ওভারে বাংলাদেশের রান ৯ উইকেটে ১২৮। ক্রিজে তাইজুল ইসলামের সঙ্গী শরিফুল ইসলাম।
দ্রুত কিছু রানের চেষ্টায় ছিলেন তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম। দুই লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানের জুটিকে বেশিদূর যেতে দিলেন না এজাজ প্যাটেল।
বাঁহাতি স্পিনারের বলে বেরিয়ে এসে ছক্কার চেষ্টায় সফল হননি শরিফুল। তার ব্যাটের এড়িয়ে বল চলে যায় টম ব্লান্ডেলের গ্লাভসে। স্টাম্পিংয়ের সহজ সুযোগ কাজে লাগান তিনি।
৩৫ ওভারে ১৪৪ রানে থামল বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। নিউ জিল্যান্ড পেল ১৩৭ রানের লক্ষ্য। মিরপুরে এতো কম রান ডিফেন্ড করার নজির নেই একটিইও। জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হবে স্বাগতিকদের।
দ্বিতীয় দিন প্রথম সেশনেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। এদিন বাংলাদেশ ব্যাট করতে পেরেছে কেবল ১১৫ মিনিট।
২৭ ওভার খেলে ১০৬ রান যোগ করতে হারিয়েছে শেষ ৮ উইকেট।
স্বাগিতকেদর শেষ ৭ জুটির কোনোটিই যেতে পারেনি ২০ পর্যন্ত। জাকির হাসান (৫৯) ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান ছাড়াতে পারেনিন ১৫।
৫৭ রানে ৬ উইকেট নিয়ে নিউ জিল্যান্ডের সফলতম বোলার এজাজ প্যাটেল। আরেক বাঁহাতি স্পিনার মিচেল স্যান্টনার ৩ উইকেট নেন ৫১ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৭২
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১৮০
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: (আগের দিন ৩৮/২) ৩৫ ওভারে ১৪৪ (জাকির ৫৯, মুমিনুল ১০, মুশফিক ৯, শাহাদাত ৪, মিরাজ ৩, সোহান ০, নাঈম ৯, তাইজুল ১৪*, শরিফুল ৮; প্যাটেল ১৮-১-৫৭-৬, স্যান্টনার ১১-০-৫১-৩, সাউদি ৬-১-২৫-১)
মধ্যাহ্ন বিরতির পর মাঠে নেমেই সাফল্য পেল বাংলাদেশ। ডেভন কনওয়েকে ফেরালেন শরিফুল ইসলাম। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে খানিক নিচু হয়ে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে চমকে যান কনওয়ে। তার ডিফেন্স ভেদ করে বল আঘাত করে প্যাডে।
শরিফুলের আত্মবিশ্বাসী আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। পরিষ্কার আউট বুঝতে পেরে রিভিউ না নিয়েই ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন ১৫ বলে ২ রান করা কনওয়ে।
তিন নম্বরে নেমেছেন কেন উইলিয়ামসন। ২ রানে খেলছেন টম ল্যাথাম।
৫ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৫ রান। জয়ের জন্য আরও ১৩২ রান প্রয়োজন তাদের।
চলতি সিরিজে চার ইনিংসে তৃতীয়বার কেন উইলিয়ামসনকে আউট করলেন তাইজুল ইসলাম। টার্ন ও বাউন্সে পরাস্ত হয়ে স্টাম্পড হয়ে ফিরলেন নিউ জিল্যান্ডের সেরা ব্যাটসম্যান।
মিডল স্টাম্পের ওপর তাইজুলের হালকা ঝুলিয়ে দেওয়া ডেলিভারি সামনের পায়ে খেলার চেষ্টায় বলের পিচ পর্যন্ত যেতে পারেননি উইলিয়ামসন। নিখুঁত টার্নের সঙ্গে বাড়তি বাউন্সে তার ব্যাটের বাইরের কানা পরাস্ত করে বল যায় উইকেটের পেছনে।
প্রায় বুক সমান উচ্চতায় বলটি গ্লাভসবন্দী করেই স্টাম্প ভেঙে দেন নুরুল হাসান সোহান। বিদায়ঘণ্টা বাজে ১১ রান করা উইলিয়ামসনের। টেস্ট ক্যারিয়ারে কেবল দ্বিতীয়বার স্টাম্পড হলেন তিনি।
১০ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ২ উইকেটে ২৪ রান। টম ল্যাথাম অপরাজিত ১০ রানে। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান হেনরি নিকোলস।
একাদশ ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বাঁচলেন টম ল্যাথাম ও হেনরি নিকোলস। ওভারের প্রথম বলে শর্ট লেগে বেশ কঠিন ক্যাচের কাছে পৌঁছাতে পারেননি শাহাদাত হোসেন। শেষ বলে জোরে যাওয়া ক্যাচ বেরিয়ে যায় তার হাত থেকে।
প্রথম বলে মিরাজের অফ স্টাম্পের বাইরে লেংথ ডেলিভারি বাড়তি বাউন্সে ল্যাথামের ব্যাটের ভেতরের কানা ছুঁয়ে প্যাডে লেগে ক্যাচ ওঠে শর্ট স্কয়ার লেগের দিকে। বাম দিকে ঝাঁপিয়েও নাগাল পাননি শাহাদাত। ১০ রানে ছিলেন ল্যাথাম।
শেষ বলটি মিডল স্টাম্পের ওপর ফুল লেংথে করেন মিরাজ। অন সাইডে খেলার চেষ্টায় সোজা শর্ট লেগে দাঁড়ানো শাহাদাতের বরাবর মারেন নিকোলস। বেশ জোরে যাওয়া বলে প্রতিক্রিয়া দেখানোর তেমন সময় পাননি তরুণ ক্রিকেটার। তখনও রানের খাতা খোলেননি নিকোলস।
দুটি ক্যাচই ছিল বেশ কঠিন। তবে স্রেফ ১৩৬ রানের পুঁজি নিয়ে প্রতিটি সুযোগই মহা মূল্যবান বাংলাদেশের জন্য।
১৩ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৩০ রান।
টম ল্যাথামের বিপক্ষে এলিবডব্লিউর রিভিউ নিয়ে সফল হলেন না নাজমুল হোসেন শান্ত। তাইজুল ইসলামের বল যেত লেগ স্টাম্পের উপর দিয়ে।
বাঁহাতি স্পিনারের বল ডিফেন্স করার চেষ্টায় সফল হননি ল্যাথাম। আম্পায়ার জোরাল আবেদনে সাড়া না দিলে শেষ সময়ে রিভিউ নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
একটু বাড়তি বাউন্স করা বল স্টাম্পের উপর দিয়ে যাওয়ায় নষ্ট হয় একটি রিভিউ।
১৪ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ২ উইকেটে ৩৩।
বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না হেনরি নিকোলস। দারুণ এক ডেলিভারিতে তাকে এলিবডব্লিউ করে দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
অফ স্পিনারের স্টাম্প তাক করে করা ডেলিভারি ভুল লাইনে খেলার মাশুল দিলেন নিকোলস। একটু নিচু হওয়া বল প্যাডে লাগলে জোরাল আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার।
টম ল্যাথামের সঙ্গে কথা বলে শেষ মুহূর্তে রিভিউ নেন নিকোলস। কাজ হয়নি, বল লাগতো মিডল স্টাম্পের ঠিক মাঝে! ১০ বলে ৩ রান করেন নিকোলস।
সেই ওভারে শেষ তিন বলের দুটি টম ল্যাথামকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেন মিরাজ। তবে টিকে যান বাঁহাতি ওপেনার।
১৫ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ৩ উইকেটে ৩৪। ক্রিজে ল্যাথামের সঙ্গী ড্যারিল মিচেল।
অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যানদের যাওয়া-আসার মাঝে শক্ত হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন টম ল্যাথাম। তাকে ড্রেসিং রুমে ফেরত পাঠালেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
অফ স্টাম্পের বাইরে ঝুলিয়ে দেওয়া ডেলিভারি সামনের পায়ে ড্রাইভ করার চেষ্টায় ল্যাথামের ব্যাটের বাইরের কানায় লাগে। প্রথম স্লিপে সহজ ক্যাচ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
৬০ বলে ২৬ রান করে ফিরেছেন ল্যাথাম। পঞ্চাশের আগে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে নিউ জিল্যান্ড।
একই ওভারের শেষ বলে অল্পের জন্য বেঁচে যান নতুন ব্যাটসম্যান টম ব্লান্ডেল। মিরাজের অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে ভেতরে ঢোকা বলে ভুল লাইনে ডিফেন্ড করেন নিউ জিল্যান্ডের কিপার-ব্যাটসম্যান। বল আঘাত করে পেছনের প্যাডে।
জোরাল আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা করে রিভিউ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। রিপ্লেতে দেখা যায়, বলের 'ইমপ্যাক্ট' ছিল আম্পায়ার্স কল। অর্থাৎ মাঠের আম্পায়ার আউট দিলে আউট হতেন ব্লান্ডেল।
২১ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৫০ রান। জয়ের জন্য আরও ৮৭ রান প্রয়োজন তাদের।
মেহেদী হাসান মিরাজের বলে অল্পের জন্য বাঁচলেও তাইজুল ইসলামের ওভারে রক্ষা হলো না টম ব্লান্ডেলের। কট বিহাইন্ড হয়ে ড্রেসিং রুমের পথ ধরলেন নিউ জিল্যান্ডের কিপার-ব্যাটসম্যান।
তাইজুলের নিখুঁত টার্ন করা লেংথ ডেলিভারি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলার চেষ্টা করেন ব্লান্ডেল। বাড়তি বাউন্স করা বল উইকেটের পেছনে যাওয়ার মুখে ছুঁয়ে যায় ব্লান্ডেলের গ্লাভস। সমাপ্তি ঘটে ব্লান্ডেলের ২ রানের ইনিংসের।
২২ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৫১ রান। জয় থেকে এখনও ৮৬ রান দূরে তারা।
ক্রিজে দুই ব্যাটসম্যান গ্লেন ফিলিপস ও ড্যারিল মিচেল।
খালি হাতেই ফিরতে পারতেন নিউ জিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের নায়ক গ্লেন ফিলিপস। প্রথম স্লিপে তার ক্যাচ নিতে পারলেন না নাজমুল হোসেন শান্ত।
মেহেদী হাসান মিরাজের রাউন্ড দা উইকেট থেকে করা ডেলিভারি অফ স্টাম্প দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে লাগে ফিলিপসের ব্যাটের বাইরের কানায়। বেশ দ্রুত যাওয়া বলে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেননি শান্ত। বেঁচে যান ফিলিপস। তখনও রানের খাতাই খোলেননি তিনি।
২৩ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৫৪ রান। জয়ের জন্য আরও ৮৩ রান প্রয়োজন তাদের।
রিভার্স সুইপের চেষ্টায় মেহেদী হাসান মিরাজের তৃতীয় শিকার হলেন ড্যারিল মিচেল। সত্তরের আগে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপদে নিউ জিল্যান্ড।
মিরাজের অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারি রিভার্স সুইপ করেন মিচেল। বল তার গ্লাভস ছুঁয়ে জমা পড়ে প্রথম স্লিপে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে। সঙ্গে সঙ্গে সমস্বরে আবেদন করেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা।
তাতে সাড়া দেননি। কিছুক্ষণ আলোচনা করে রিভিউ নেন শান্ত। রিপ্লেতে দেখা যায়, গ্লাভস ছুঁয়ে গেছে বল। তাই বদলে যায় মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত। ২ চারে ১৯ রান করে ফেরেন ফিলিপস।
২৭ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৬৯ রান। তাদের জয়ের জন্য প্রয়োজন আরও ৬৮ রান। বাংলাদেশের বাকি ৪ উইকেট।
ক্রিজে দুই ব্যাটসম্যান গ্লেন ফিলিপস ও মিচেল স্যান্টনার।
চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে জমজমাট সমাপ্তির অপেক্ষা মিরপুর টেস্টে। চা বিরতি পর্যন্ত নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৯০ রান। জয় থেকে ৪৭ রান দূরে তারা। বাংলাদেশের চাই আর ৪ উইকেট।
দ্বিতীয় সেশনে ৮৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়েছে কিউইরা। মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছেন ৩ উইকেট। তাইজুল ইসলাম দুটি ও শরিফুল ইসলাম ধরেছেন একটি শিকার।
বাংলাদেশের জয়ের পথে বড় কাঁটা এখনও টিকে আছেন গ্লেন ফিলিপস। রানের খাতা খোলার আগেই জীবন পাওয়া ফিলিপস এখন অপরাজিত ১৭ রানে। শেষ সেশনে তার সঙ্গে নামবেন ৯ রানে খেলতে থাকা মিচেল স্যান্টনার। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটির সংগ্রহ ২১ রান।
মেহেদী হাসান মিরাজের লেগ স্টাম্পের বাইরের বল মিচেল স্যান্টনারের প্যাডে লেগে শর্ট লেগের হাতে জমা পড়তেই উদযাপনে মাতল বাংলাদেশ। কিন্তু সাড়া দিলেন না আম্পায়ার। শতভাগ নিশ্চয়তা নিয়েই যেন রিভিউ নিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
রিপ্লেতে দেখা যায়, ব্যাট ও বলের মাঝে ছিল বেশ বড় ফাঁকা। তাই বেঁচে যান স্যান্টনার। বিফলে যায় বাংলাদেশের রিভিউ। তখন ১৩ রানে ছিলেন স্যান্টনার।
এই ওভারেই একশ রান পূর্ণ করেছে নিউ জিল্যান্ড। ৩৩ ওভারে তাদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১০৩ রান। জয় থেকে আর ৩৪ রান দূরে তারা।
গ্লেন ফিলিপস অপরাজিত ২৪ রানে।
গ্লেন ফিলিপসের বিপক্ষে কট বিহাইন্ডের রিভিউ নিয়ে ব্যর্থ হলো বাংলাদেশ। তারই সঙ্গে নষ্ট হলো স্বাগতিকদের তৃতীয় ও শেষ রিভিউ।
তাইজুল ইসলামের বলে ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন ফিলিপস। ব্যাটের কানা ঘেঁষে বেরিয়ে যাওয়া বল গ্লাভসে জমিয়েই জোরাল আবেদন করে বাংলাদেশ। তাতে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
বলে ব্যাটের স্পর্শ না থাকায় নষ্ট হয় রিভিউ।
৩৫ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ৬ উইকেটে ১১০। জয়ের জন্য সফরকারীদের চাই কেবল ২৭ রান।
প্রান্ত বদল করা মেহেদী হাসান মিরাজের বলে এলিবডব্লিউ হওয়ার পর রিভিউ নিয়ে বাঁচলেন মিচেল স্যান্টনার। ইম্প্যাক্ট ছিল অফ স্টাম্পের বাইরে! সে সময় ১৯ রানে ছিলেন স্যান্টনার।
পরের বলে রান আউট হতে পারতেন তিনি। শর্ট লেগের ফিল্ডার শাহাদাত হোসেন থ্রো করতে একটু সময় নেওয়ায় দ্রুত জায়গা মতো ফিরতে পারেন স্যান্টনার।
৩৬ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ৬ উইকেটে ১১১। জয়ের জন্য কেবল ২৬ রান চাই সফরকারীদের।
৬৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া নিউ জিল্যান্ডকে টানছেন গ্লেন ফিলিপস ও মিচেল স্যান্টনার। সপ্তম উইকেটে দুই জনে উপহার দিয়েছেন পঞ্চাশ রানের জুটি, ৬২ বলে।
৩৮ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের রান ৬ উইকেটে ১২৬। জয়ের জন্য আর কেবল ১১ রান চাই সফরকারীদের।
নিদারুণ ব্যাটিং ব্যর্থতার পরও বোলাররা একটা সুযোগ তৈরি করেছিলেন। ৬৯ রানের মধ্যে তুলে নিয়েছিলেন নিউ জিল্যান্ডের ৬ উইকেট। কিন্তু পরে আর চাপ ধরে রাখতে পারেননি স্বাগতিকরা। ওয়ানডে ঘরানার ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান গ্লেন ফিলিপস ও মিচেল স্যান্টনার।
চতুর্থ ইনিংসে ১৩৯ রান তাড়ায় ৪ উইকেটে জিতেছে নিউ জিল্যান্ড। এতে বড় অবদান ফিলিপস ও স্যান্টনারের। শূন্য রানে বেঁচে যাওয়া ফিলিপস ৪৮ বলে এক ছক্কা ও চারটি চারে করেন ৪০ রান।
তার সঙ্গে ৭৭ বলে ৭০ রানের জুটি উপহার দেওয়া স্যান্টনার ৩৯ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় করেন ৩৫ রান। মূলত এই জুটির কাছেই হেরে গেছে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৭২
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১৮০
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ১৪৪
নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ১৩৭) ৩৯.৪ ওভারে ১৩৯/৬ (ল্যাথাম ২৬, কনওয়ে ২, উইলিয়ামসন ১১, নিকোলস ৩, মিচেল ১৯, ব্লান্ডেল ২, ফিলিপস ৪০*, স্যান্টনার ৩৫*; শরিফুল ৫-২-৯-১, মিরাজ ১৬.২-২-৪৭-৩, তাইজুল ১৪-২-৫৮-২, নাঈম ৩-০-১৫-০, মুমিনুল ১-০-৪-০)
ফল: নিউ জিল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: দুই ম্যাচ সিরিজ শেষ ১-১ সমতায়