Published : 15 Sep 2025, 08:50 AM
আসরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ। কিন্তু লড়াই জমলই না। ব্যাটিং ব্যর্থতায় পাকিস্তান গুটিয়ে গেল অল্প রানে। আরেকটি একপেশে ম্যাচ জিতে সুপার ফোরের দুয়ারে পৌঁছে গেল ভারত।
এশিয়া কাপের ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচটিতে টি-টোয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জয় ৭ উইকেটে।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার ৬ উইকেটে ৬৪ রানের ধ্বংসস্তূপ থেকে পাকিস্তান ১২৭ পর্যন্ত যেতে পারে শাহিন আফ্রিদির ক্যামিও ইনিংসের সুবাদে। ৪ ছক্কায় ১৬ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন এই পেসার। দলের ইনিংসে তার চেয়ে বেশি রান করতে পারেন কেবল ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান (৪৪ বলে ৪০)।
ছোট লক্ষ্য ভারত ছুঁয়ে ফেলে ১৫.৫ ওভারেই।
পাকিস্তানকে অল্পে আটকে রাখতে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন কুলদিপ ইয়াদাভ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৭ রানে ৪ উইকেট নেওয়া বাঁহাতি এই রিস্ট স্পিনার এবার ১৮ রানে শিকার ধরেন ৩টি। আবারও তিনিই পান ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি।
৫ চার ও এক ছক্কায় ৩৭ বলে অপরাজিত ৪৭ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ।
জয়-পরাজয় ছাপিয়ে আরেকটি বড় ঘটনা হলো, ম্যাচ শেষে প্রথা মেনে করমর্দন হয়নি দুই দলের। পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা করমর্দনের জন্য অপেক্ষায় থাকলেও, মাঠে নামেননি ভারতের ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফরা। টসের সময় পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগার সঙ্গে করমর্দন করেননি ভারত অধিনায়ক সুরিয়াকুমারও। পরে ছক্কায় ম্যাচের ইতি টেনে সঙ্গীকে নিয়ে সরাসরি ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটা ধরেন তিনি।
এই বছর ভারত শাসিত পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে প্রতিবেশী এই দুই দেশের সম্পর্ক খারাপ হয় আরও, যার প্রভাব পড়ে ক্রীড়াঙ্গনেও। গত মাসে সাবেকদের টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন করে ভারতীয় দল। এশিয়া কাপেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের আলোচনা জোরেশোরে শুরু হয় ভারতে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হলেও, তৈরি হলো নতুন বিতর্ক।
দুবাইয়ের উইকেটে বাউন্স ছিল অসমান। শুরুতে সুইং পেয়েছেন পেসাররা, পরে স্পিনাররা পেয়েছেন টার্ন।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। হার্দিক পান্ডিয়ার করা ম্যাচের প্রথম বলে পয়েন্টে সহজ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন সাইম আইয়ুব। পরের ওভারে জাসপ্রিত বুমরাহর শিকার মোহাম্মদ হারিস।
৬ রানে ২ উইকেট হারানো দলের হাল ধরেন সাহিবজাদা ও ফাখার জামান। তৃতীয় উইকেটে ৩৯ রানের জুটি গড়েন তারা। শেষ পর্যন্ত এটিই হয়ে থাকে সর্বোচ্চ জুটি এবং এই জুটি ভাঙার পর দ্রুত আরও কয়েকটি উইকেট হারায় পাকিস্তান। পাওয়ার প্লের পর ৩০ বলে কোনো বাউন্ডারিই মারতে পারেনি তারা।
নিজের পরপর দুই ওভারে ফাখার (১৫ বলে ১৭) ও সালমানকে ফিরিয়ে দেন বাঁহাতি স্পিনার আকসার প্যাটেল। একই ওভারে কুলদিপের পরপর দুই বলে বিদায় নেন হাসান নাওয়াজ ও মোহাম্মদ নাওয়াজ।
৬৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলা পাকিস্তানের তখন একশ হওয়া নিয়েই শঙ্কা। সাহিবজাদা দলকে আরও কিছুটা এগিয়ে নিয়ে কুলদিপের তৃতীয় শিকার হয়ে ফেরেন অষ্টাদশ ওভারে।
ওই ওভারে কুলদিপকে একটি ছক্কা মারেন আফ্রিদি। পরের ওভারে তিনি ছক্কায় ওড়ান আরেক স্পিনার ভারুন চক্রবর্তিকে।
ফাহিম আশরাফ তেমন কিছু করতে পারেননি। ২ চারে ৬ বলে ১০ রান করেন সুফিয়ান মুকিম। শেষ ওভারে পান্ডিয়াকে আফ্রিদির দুই ছক্কায় ১২৭ পর্যন্ত যেতে পারে পাকিস্তান।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় আফ্রিদির প্রথম দুই বলে চার ও ছক্কায় শুরু করেন আভিশেক শার্মা। পরের ওভারে সাইমকে দুটি চার মারার পর আউট হয়ে যান আরেক ওপেনার শুবমান গিল।
আরও তিনটি চার ও একটি ছক্কা মেরে আভিশেক (১৩ বলে ৩১) আউট হন সাইমের পরের ওভারে।
তৃতীয় উইকেটে ৫৬ রানের জুটিতে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন তিলাক ভার্মা ও সুরিয়াকুমার। তিলাককে ফিরিয়ে (৩১ বলে ৩১) তৃতীয় শিকার ধরেন সাম্প্রতিক সময়ে বোলিংয়ে বেশ ভালো করা সাইম।
শিভাম দুবেকে নিয়ে বাকিটা সারেন সুরিয়াকুমার।
প্রথম ম্যাচে আরব আমিরাতকে ৯ উইকেটে হারানোর পর এই জয়, গ্রুপ পর্বে শেষ ম্যাচে আগামী শুক্রবার ওমানের বিপক্ষে খেলবে ভারত।
আর ওমানকে ৯৩ রানে হারিয়ে আসর শুরু করা পকিস্তান পেল প্রথম হারের তেতো স্বাদ। গ্রুপের শেষ ম্যাচে বুধবার তাদের প্রতিপক্ষ আরব আমিরাত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১২৭/৯ (সাইম ০, সাহিবজাদা ৪০, হারিস ৩, ফাখার ১৭, সালমান ৩, হাসান নাওয়াজ ৫, মোহাম্মদ নাওয়াজ ০, ফাহিম ১১, আফ্রিদি ৩৩*, মুকিম ১০, আবরার ০*; পান্ডিয়া ৩-০-৩৪-১, বুমরাহ ৪-০-২৮-২, ভারুন ৪-০-২৪-১, কুলদিপ ৪-০-১৮-৩, আকসার ৪-০-১৮-২, আভিশেক ১-০-৫-০)
ভারত: ১৫.৫ ওভারে ১৩১/৩ (আভিশেক ৩১, গিল ১০, সুরিয়াকুমার ৪৭*, তিলাক ৩১*, দুবে ১০*; আফ্রিদি ২-০-২৩-০, সাইম ৪-০-৩৫-৩, আবরার ৪-০-১৬-০, মোহাম্মদ নাওয়াজ ৩-০-২৭-০, মুকিম ২.৫-০-২৯-০)
ফল: ভারত ৭ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: কুলদিপ ইয়াদাভ