Published : 25 Dec 2025, 02:42 PM
তখনও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের অনুশীলন শুরু হয়নি ঠিকমতো। সকালে সিলেট আন্তজার্তিক স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে প্রবেশ করেই হান্নান সরকারের সঙ্গে আলাপচারিতায় ব্যস্ত দেখা গেল নাজমুল হোসেন শান্তকে। বিপিএল শুরুর আগে শেষ দিনের প্রস্তুতি, সামনে অভিযান আর নানা পরিকল্পনা নিয়েই হয়তো ছক কষছিলেন রাজশাহীর কোচ ও অধিনায়ক।
শিরোপায় চোখ রেখেই নিশ্চয় আসর শুরু করবে রাজশাহী। তবে দলীয় সেই লক্ষ্যের পাশাপাশি একটি ব্যক্তিগত তাড়নাও থাকবে শান্তর। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। এবার বিশ্বকাপের মাস দেড়েক আগে তিনি জাতীয় দল থেকে অনেক দূরে। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে দিতে চান বিপিএল দিয়ে।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার রেকর্ড খুবই বিবর্ণ। ৫০ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন, মানে বেশ অভিজ্ঞই বলা চলে। কিন্তু ২২.৯৫ গড়ে রান করেছেন মাত্র ৯৮৭। স্ট্রাইক রেট মোটে ১০৯.০৬। তার টি-টোয়েন্টি সামর্থ্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে নানা সময়েই।
বিপিএলে অবশ্য সাফল্যের গল্প তার আছে। ২০২৩ বিপিএলে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ৫১৬ রান এসেছিল তার ব্যাট থেকে। পরের আসরে অবশ্য ভালো করতে পারেননি। গত আসরে খেলতেই পেরেছেন স্রেফ ৫টি ম্যাচ।
এবার ফিট থাকলে অনেক ম্যাচ যে খেলবেন, তা নিশ্চিত। রাজশাহীর অধিনায়ক যে তিনিই! নেতা হিসেবে ট্রফিতে চোখ তো আছেই। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে ২৭ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান শোনালেন, বিশ্বকাপে চোখ রেখে বিপিএলে নামবেন তিনি।

“ব্যক্তিগত লক্ষ্যের চেয়ে আমার কাছে রাজশাহী দলটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ্য এটাই থাকবে যে, কীভাবে দলকে সেরাটা দিয়ে সাহায্য করতে পারি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এই টুর্নামেন্টটা সবার জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালো পারফর্ম করলে নির্বাচকদের নজরে আসার একটা সুযোগ থাকে।”
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবশেষ ১৯ ইনিংসে ফিফটির দেখা পাননি তিনি। নেতৃত্ব হারানোর পাশাপাশি দলে জায়গাও হারিয়েছেন। এই বছর স্রেফ একটি ম্যাচে সুযোগ পেয়েছেন, গত মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে শারজাহতে আউট হন ২৭ রানে।
খুব ভালো ভালো করতে পারেননি গত জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টিতেও। এক ম্যাচে ৬৫ রানের ইনিংস খেললেও, অন্য তিন ইনিংস মিলিয়ে করেছেন ২৭ রান। বিশ্বকাপের বিবেচনায় আসতে হলে তাই অতিমানবীয় কিছুই করতে হবে তাকে।
তিনি অবশ্য ব্যাটিংয়ের ধরন বা খুব গভীরে না গিয়ে মন দিচ্ছেন শুধু রান তোলায়।
“রান করাটাই আসল লক্ষ্য। কন্ডিশন এবং পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আমি আমার অ্যাপ্রোচ ঠিক করি। কখনও স্ট্রাইক রেট বাড়িয়ে খেলতে হয়, কখনও ইনিংস গড়তে হয়। অনুশীলন সেভাবেই করেছি, যাতে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করতে পারি।”
সিলেটে শুক্রবার সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে শান্তর রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। মাঠে যেমন মেহেদী হাসান মিরাজদের সামলানো চ্যালেঞ্জ থাকবে, তেমনি গ্যালারির দর্শকেরাও থাকবেন প্রতিপক্ষ। শান্ত অবশ্য এই চ্যালেঞ্জকে আলিঙ্গন করেই নিচ্ছেন।
“আমি খুবই রোমাঞ্চিত। উৎসব আছে কী নেই, সেটা খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের খেয়াল থাকে না। আমাদের মূল লক্ষ্য থাকে প্রস্তুতি ঠিকমতো হচ্ছে কী না এবং টুর্নামেন্টটা শুরু হচ্ছে কী না। কাল (শুক্রবার) থেকে খেলা শুরু হচ্ছে এবং একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমি মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছি বলে খুবই রোমাঞ্চিত।”
“দর্শকদের সমর্থনের বিপরীতে খেলাটা চাপের চেয়ে বরং আনন্দের ও উত্তেজনার। আমাদের খেলোয়াড়রা এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। দুই দলই খুব ব্যাল্যান্সড। কালকে যারা ভালো খেলবে, তারাই জিতবে।”