Published : 18 Jan 2026, 08:35 PM
ফ্রি হিটে বিশাল এক ছক্কা মেরেই উদযাপন প্রায় শুরু করেছিলেন হাসান ইসাখিল। তবে হেলমেট খুলতে গিয়ে মাঠের বড় পর্দায় চোখ পড়ল তার। তখনই দেখলেন, একটি রান এখনও বাকি। ভুল বুঝতে পেরে মুচকি হাসিও দেখা গেল তার মুখে। পরের বলে আর কোনো ভুল নয়। দুটি রান নিয়ে তিনি পূরণ করলেন সেঞ্চুরি। হেলমেট খুললেন, ব্যাট উঁচিয়ে ধরলেন। মুখের হাসিটা এবার অনেক চওড়া।
এই দৃশ্যটির মঞ্চায়ন হতে পারত সাত দিন আগেই। সিলেটে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে সেঞ্চুরির সুবাস পাচ্ছিলেন তিনি। সেদিন তিন অঙ্ক ছুঁতে পারলে তা হতো রূপকথার মতো। বিপিএলে সেটিই ছিল তার অভিষেক ম্যাচ। তবে শুধু সে কারণেই নয়, বাবা মোহাম্মাদ নাবির সঙ্গে দারুণ একটি জুটি গড়েছিলেন তিনি। সেঞ্চুরিটি হতে পারত বাবাকে স্বাক্ষী রেখেই।
কিন্ত সেদিন হতাশায় পুড়তে হয়েছিল তাকে। বাবা আউট হওয়ার একটু পর ছেলেও বিদায় নেন ৯২ রান করে।
সেদিন ম্যাচের পর ইসাখিল বলেছিলেন, সেঞ্চুরি না পেয়ে আক্ষেপ নেই তার, দলের জয়েই তিনি খুশি। আক্ষেপ না থাকলেও আকাঙ্ক্ষা নিশ্চয়ই ছিল সেঞ্চুরির। বিপিএলে তৃতীয় ম্যাচেই উপহার দিলেন শতরান।
জাতীয় দলে খেলতে তার বাবা চলে গেছেন বিপিএল ছেড়ে। বাবার সামনে সেঞ্চুরিটি হলো না। তার পরও ১৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানের জন্য দিনটি স্মরণীয়ই। বিশ ওভারের ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি বলে কথা!
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রোববার রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ইনিংস শুরু করতে নেমে গোটা ২০ ওভার খেলে ১০৭ রানে অপরাজিত থাকেন ইসাখিল।
তার ৭২ বলের ইনিংসে বাউন্ডারি চারটি, ছক্কা ১১টি!
এবারের বিপিএলে এই প্রথম কোনো ব্যাটসম্যান এক ম্যাচে ছয়টির বেশি ছক্কা মারলেন।
এই আসরের প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর এই ২৯তম ম্যাচে এসে আরেকটি সেঞ্চুরির দেখা পেল এই টুর্নামেন্ট।
সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন তিনি ৭০ বলে। এই সময়ের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যা আদর্শ কিছু নয়। তবে নোয়াখালী দলের যা অবস্থা, তাতে একজন ব্যাটসম্যানের এমন লম্বা ইনিংস খেলার বিকল্প ছিল না।
তার শুরুটা ছিল মন্থর। তৃতীয় ওভারে নাহিদ রানাকে ছক্কা ও চার মারলেও পাওয়ার প্লেতে ২৫ বল খেলে রান করেন মাত্র ২০। দশম ওভার যখন চলে, এক পর্যায়ে তার রান ছিল ৩৫ বলে ২৩।
ফিফটি করতে ৫০ বল লাগে তার। তবে পরের সময়টায় ঠিকই জ্বলে উঠে পরের পঞ্চাশ করেন মাত্র ২০ বলে। এর মধ্যে ছক্কাই ছিল ছয়টি।
এক পর্যায়ে সেঞ্চুরিটাকে তার জন্য মনে হচ্ছিল দূরের পথ। ইনিংসের যখন তিন ওভার বাকি, তার রান তখন মোটে ৬৭।
অষ্টাদশ ওভারে তিনি ছক্কা মারেন নাহিদ রানাকে, পরের ওভারে ছক্কা ও চার ফাহিম আশরাফকে। শেষ ওভার শুরু করেন তিনি ৮৭ রান নিয়ে।
প্রথম বলেই দারুণ শটে ছক্কায় উড়িয়ে দেন আকিফ জাভেদকে। সেটি ছিল ‘নো’ বলও। পরের বলে ফ্রি হিটে বল গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে পাঠিয়ে দেন তিনি পুল শটে।
সেঞ্চুরি পেরিয়ে তিনি ছক্কা মারেন আরেকটি। শেষ বলে চার মেরে ইনিংস শেষ করেন হায়দার আলি। ওই ওভার থেকে আসে ২৮ রান।
হায়দার আলির সঙ্গে ৭৪ বলে ১৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তিনি। সেখানে হায়দারের রান ৩২ বলে ৪২, ইসাখিলের ৪২ বলে ৮৬।
নোয়াখালী ২০ ওভারে তোলে ২ উইকেটে ১৭৩ রান।
আফগানিস্তানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে চারটি ম্যাচ খেলে দুটি সেঞ্চুরি করেছেন ইসাখিল, লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে পাঁচ ম্যাচে সেঞ্চুরি ও ফিফটি একটি করে। এবার টি-টোয়েন্টিতেও তিন অঙ্কের স্বাদ পেয়ে গেলেন।
এই সংস্করণে ৩৩ ম্যাচে এই সেঞ্চুরির পাশাপাশি সাতটি ফিফটি তার আছে।