Published : 13 Mar 2026, 08:13 AM
সিরিজের প্রথম ওয়ানডে চলার সময় সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করেছেন মোহাম্মাদ আমির। পাকিস্তানের তখন ৯ উইকেট পড়ে গেছে। টিভি থেকে সেই ছবি তুলে পোস্ট করে পাকিস্তানের পেসার লিখেছেন, “এসব হচ্ছে কী রে ভাই…।” পরে তিনি ভিডিওতে তীব্র সমালোচনা করেছেন গোটা দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি নিয়ে। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজেও প্রথম ম্যাচ হারায় পাকিস্তান দলকে ধুয়ে দিচ্ছেন সাবেক ক্রিকেটার, বিশ্লেষকদের অনেকেই।
পাকিস্তান ক্রিকেটের এই হাল বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচকই হওয়ার কথা। প্রতিপক্ষের এমন টালমাটাল অবস্থা মানে সিরিজ জয়ের দারুণ সুযোগ!
প্রথম ম্যাচে উড়ন্ত জয়ের পর এখন দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করার সুযোগ মেহেদী হাসান মিরাজের দলের সামনে। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টায় শুরু ম্যাচ।
আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের ১০ নম্বর দল হয়েও ৪ নম্বরে থাকা পাকিস্তানকে প্রথম ম্যাচে ব্যাটে-বলে যেভাবে বিধ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ, গোটা দলের আত্মবিশ্বাস অনেক উঁচুতে পৌঁছে যাওয়ার কথা। পরের দুই ম্যাচের যে কোনো একটি ম্যাচ জিততে পারলে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি র্যাঙ্কিংয়েও এক ধাপ এগোতে পারবে বাংলাদেশ।
আগামী বছরের বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পেতে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির বিকল্প নেই বাংলাদেশের। সেই অভিযানের শুরুটা ভালো করতে পারার সন্তুষ্টি সামনে পথে তাকিয়ে প্রেরণা জোগাচ্ছে মিরাজকে।
“শুরুটা আমাদের খুব ভালো হয়েছে, ম্যাচটি আমরা জিতেছি। আমাদের জন্য এটি ইতিবাচক দিক। যেহেতু এই বছর আমাদের অনেক ওয়ানডে ম্যাচ এবং র্যাঙ্কিংয়ের একটি ব্যাপার আছে, শুরুটা ভালো হওয়ায় খুব ভালো লাগছে।”
আগুন-ঝরা বোলিংয়ে ৫ উইকেট নিয়ে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক নাহিদ রানা। তবে অধিনায়ক নিজেও দারুণ বোলিং করে ৩ উইকেট শিকার করেন।
এই সিরিজের আগে সময়টা ভালো কাটছিল না তার। আলাদা করে কাজও করেছেন বোলিং নিয়ে। ভালো করতে পেরে সেই তৃপ্তিও মিশে থাকল তার কণ্ঠে।
“নিজের বোলিং নিয়ে আমি অনেক কাজ করেছি। মাঝখানে বোলিং নিয়ে একটু ভুগছিলাম। তবে কোথায় উন্নতি করতে হবে, সেটা আমি ভালো করেই জানি। সেটা নিয়ে কাজ করেছি। বিসিএলে দুটি ম্যাচ খেলেছি, ওখানেও কাজ করার চেষ্টা করেছি।”
“প্রথম ম্যাচে আমার বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ ছিল ও লাইন-লেংথ ভালো জায়গায় ছিল। উইকেট অনেক ভালো ছিল। এখানে লাইন-লেংথ ধরে রেখে বোলিং করতে না পারলে রান হয়ে যেত, উইকেটও বের করতে পারতাম না।”
প্রথম ম্যাচের দারুণ সাফল্যের পর বাংলাদেশের একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা সামান্যই।
পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের অনভিজ্ঞতা প্রথম ম্যাচে উন্মোচিত হয়ে গেছে প্রবলভাবেই। চার অভিষিক্ত ব্যাটসম্যানকে নিয়ে সাজানো ব্যাটিং লাইন আপ ধসে পড়েছে সহজেই। সেই চারজনের মধ্যে সাহিবজাদা ফারহানেও মাজ সাদাকাত শুরুটা ভালো করলেও ইনিংস খুব একটা বড় করতে পারেননি। অন্য দুজন শামিল হোসেন ও আব্দুল সামাদ তো টিকতেই পারেননি। বড় দুই ভরসা মোহাম্মাদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগাও পারেননি দলকে উদ্ধার করতে।
সমস্যা হলো, দ্বিতীয় ম্যাচের একাদশে আনার মতো তেমন কোনো ব্যাটসম্যানও তাদের স্কোয়াডে নেই। কিপার-ব্যাটার মোহাম্মাদ গাজি ঘোরি আছেন দলে। তবে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ১৭ ম্যাচ খেলে তার গড় ২০.৬০, স্ট্রাইক রেট ৭৯.৫৩। এমন একজনকে কেন দলে নেওয়া হয়েছে, সেটি নিয়েই পাকিস্তানের ক্রিকেটে প্রশ্নের শেষ নেই। তাকে একাদশে রাখার সম্ভাবনা সামান্যই। ব্যাটিং লাইন আপ তাই প্রথম ম্যাচের মতোই থাকবে হয়তো।
একটি পরিবর্তন আসতে পারে বোলিং আক্রমণে। প্রথম ম্যাচে নাহিদ রানার সাফল্য দেখে একই ধরনের গতিময় বোলার হারিস রউফকে দলে আনা হতে পারে। সেক্ষেত্রে বাদ পড়বেন মোহাম্মাদ ওয়াসিম।
পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন প্রথম ম্যাচের পরই বলেছেন, এই ম্যাচের পারফরম্যান্স নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করে পরের লড়াইয়ে উন্নতির তাড়নায় নামবেন তারা।
“পরের ম্যাচের তাকিয়ে থাকব আমরা। এই ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে গভীরভাবে ভাবব। আমরা যে এই ম্যাচে বাজে ছিলাম এবং ব্যাটিংয়ে উন্মোচিত হয়ে পড়েছি, এই ব্যাপারটিকে এড়িয়ে যাব না আমরা। শুধু তরুণরাই নয়, গোটা দলকেই এগিয়ে আসতে হবে এবং ব্যাট হাতে আরও ভালো পারফরম্যান্স মেলে ধরতে হবে। পরের দুই ম্যাচে নিশ্চিতভাবেই আমরা তা করতে চাইব।”