ম্যাচের শুরুটা বাজে করেছিলেন জস বাটলার, তবে পরে পুষিয়ে দিয়েছেন ব্যাট হাতে ঝড় তুলে।
Published : 03 Apr 2025, 09:16 AM
বোলার মোহাম্মদ সিরাজ দু হাত উঁচিয়ে উদযাপন শুরু করেছিলেন। স্লিপ থেকে অধিনায়ক শুবমান গিলও আঙুল উঁচিয়ে ছুটতে শুরু করেছিলেন আনন্দে। কিন্তু পরমুহূর্তেই গিলের দুই হাত মাথায়। সহজ ক্যাচটি যে নিতে পারেননি কিপার! সেই কিপারের নাম জস বাটলার। ক্যাচ ছেড়ে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত তার ব্যাট থেকে এসেছে ম্যাচ জেতানো ইনিংস। গুজরাট টাইটান্সের ইংলিশ ক্রিকেটার পরে হাসিমুখে বললেন, অমন সহজ ক্যাচ ছাড়ার পর ব্যাটিংয়ে ঝড় তুলতে মরিয়া ছিলেন তিনি।
ক্যাচ ছাড়ার ওই ঘটনা ম্যাচের প্রথম ওভারেই। ম্যাচের পঞ্চম বলে সিরাজকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে মারার চেষ্টা করেন ফিল সল্ট। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে যায় পেছনে। যে কোনো কিপারের জন্য সহজতম ক্যাচ। কিন্তু বাটলারের গ্লাভসে লেগে বল পড়ে যায় মাটিতে। অভিজ্ঞ কিপারের চোখেমুখেই ফুটে উঠছিল, তিনি বেশ বিব্রত।
সেটির বড় খেসারত অবশ্য দিতে হয়নি। একটু পর সেই সিরাজই বোল্ড করেন সল্টকে। দুর্দান্ত বোলিংয়ে তিনি ফিরিয়ে দেন আরও দুই ব্যাটারকে। ঘরের মাঠে মৌসুমের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে ১৬৯ রানে আটকে রাখে গুজরাট টাইটান্স। এরপর রান তাড়ায় কাজ সহজ করে দেন সেই বাটলার।
পাঁচটি চার ও ছয় ছক্কায় ৩৯ বলে ৭৩ রানে অপরাজিত থাকেন বাটলার। গুজরাট ম্যাচ জিতে যায় ৮ উইকেটে।
ম্যাচের পর বোলারদের কৃতিত্ব দিয়ে বাটলার অকপটে বললেন ফিল্ডিংয়ের ভুলের কথা। সেখানে আঙুল তুললেন নিজের দিকেও।
“বোলাররা দুর্দান্ত কাজ করেছে। আমরা যদি আরও ভালো ফিল্ডিং করতে পারতাম, আমি নিজেও, তাহলে হয়তো আরেকটু কম লক্ষ্য থাকত আমাদের সামনে। দল হিসেবে আমরা অনেক ভালো বোলিং করেছি, তবে ফিল্ডিং বাজে করেছি। আরও কম রানের লক্ষ্য থাকা উচিত ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা ভালোভাবেই জিতেছি এবং জয়টা আমাদেরই প্রাপ্য ছিল।”
ধারাভাষ্যকার ড্যানি মরিসন নিজের মতো ঢঙয়েই বাটলারকে জিজ্ঞেস করলেন ওই ক্যাচ ছাড়ার ঘটনা নিয়ে। ইংলিশ ক্রিকেটারের মুখে ফুটে উঠল চওড়া হাসি। মজা করে উত্তর দিয়েই তিনি বললেন, কিপিংয়ের ব্যর্থতায় ব্যাটিংয়ে ভালো করতে মরিয়া ছিলেন তিনি।
“আমি জানি না, সত্যি বলতে (কীভাবে ক্যাচ পড়ে গেল)… এটুকু বলতে পারি, বেশ বিব্রত আমি। বিশেষ করে, সল্টি (ফিল সিল্ট) দারুণ বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান…। এমনও নয় যে, আগেভাগেই উদযাপনের জন্য বল ছুড়ে মারতে চেয়েছিলাম হার্শেল গিবস স্টাইলে (১৯৯৯ বিশ্বকাপে ছুড়ে মারতে গিয়েই স্টিভ ওয়াহকে জীবন দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার)… এখানে বলতে গেলে, গ্লাভসে বল নিতেই পারিনি, আমার বুকে এসে লেগেছে…। তবে সেই বিব্রতকর ব্যাপারটির জন্যই রান করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম।”
আইপিএলের আগে এবার সময়টা খুব ভালো যাচ্ছিল না বাটলারের জন্য। জাতীয় দলে নিজের পারফর্ম করতে পারছিলেন না। দলও ছিল ব্যর্থতার বলয়ে। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ব্যর্থতার পর ইংল্যান্ডের সাদা বলের নেতৃত্ব ছেড়ে দেন তিনি।
আইপিএলেও তার জন্য এবার চ্যালেঞ্জটা ছিল কঠিন। সবশেষ সাত মৌসুমে টানা খেলেছেন তিনি রাজস্থান রয়্যালসে। পারফর্মও করেছেন। গত মৌসুমে সেঞ্চুরি করেছেন দুটি। কিন্তু এবার বড় নিলামের আগে তাকে ছেড়ে দেয় দলটি। নিলাম থেকে তাকে দলে নেয় গুজরাট।
নতুন দলের হয়ে আসরের শুরুটা এবার দুর্দান্ত করেছেন বাটলার। প্রথম ম্যাচে করেছেন ৩৩ বলে ৫৪, পরের ম্যাচে ২৪ বলে ৩৯। এরপর এই ম্যাচ জেতানো ইনিংস। ৩৪ বছর বয়সী ক্রিকেটার বললেন, ক্রিকেট উপভোগের আনন্দটা আবার খুঁজে পেয়েছেন তিনি নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে।
“অনেক স্বাধীনতা নিয়ে, প্রচুর তাড়না নিয়ে খেলতে চেয়েছি। কয়েক মাস ধরে বেশ ধরেই খুব আনন্দ নিয়ে ক্রিকেট খেলতে পারিনি। এখানে তাই নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি নিজের সেরাটা দিতে।”
“আমাদের সিম বোলিং ভালো, দারুণ কিছু স্পিনার আছে, বিপজ্জনক সব ব্যাটসম্যান তো আছেই। সব দিকই পরিপূর্ণ প্রায়। আমার জন্য নতুন দল, নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি, এখানে এসে আমি রোমাঞ্চিত।”