১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দলে না থাকলেও তাসকিন আছেন টেইটের নজরে

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকা তাসকিন আহমেদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ শন টেইট।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম থেকে

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Dec 2025, 07:20 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:14 PM

বাংলাদেশ যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শেষ সিরিজটি খেলছে, তাসকিন আহমেদ তখন ক্রিকেটেরই এক অন্য ভুবনে। মাত্রই আবু ধাবি টি-টেন অভিযান শেষ হলো তার। এবার আইএল টি-টোয়েন্টির পথে ছোটার শুরু। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিতে শারজাহ ওয়ারিয়র্সে খেলবেন তিনি। দলে যোগ দেওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে তাকে স্বাগতও জানিয়েছে দলটি।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেও তাকে দেখা যায়নি, খেলছেন না চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজেও। বোর্ড থেকে ছুটি পেয়েই আপাতত জাতীয় দল থেকে দূরে আছেন অভিজ্ঞ পেসার। তবে দূরে থাকলেও তার সঙ্গে দূরত্ব নেই শন টেইটের। পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের সঙ্গে নিয়মিতই কথা বলে যাচ্ছেন বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ।

এই সিরিজে না খেলেও এ বছর এখনও পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সফলতম পেসার তাসকিন। ১৩ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন তিনি ২৪ উইকেট। সব ঠিকঠাক থাকলে সামনের বিশ্বকাপেও তাকে দেখা যাবে।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে টেইট জানালেন, তাসকিনের ওপর নজর রাখছেন তিনি। 

“তাসকিনের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ হয় আমার। টি-টেন টুর্নামেন্টে ওর বোলিং দেখেছি। এটাই তো আমার কাজ। ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো। অনেক দিন ধরে চিনি ওকে। আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক ক্রিকেটার ও। অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ও ভালো এক নেতা। ওর সঙ্গে কথা বলতে আমার ভালো লাগে। নিয়মিতই যোগাযোগ হয়।”

তাসকিনের সঙ্গে টেইটের সম্পর্কের শুরুটা অনেক আগের। ২০১২-১৩ বিপিএলে দুজন একসঙ্গে খেলেছেন চিটাগং কিংসে। সেই আসর থেকেই দেশের ক্রিকেটে তাসকিনের সত্যিকার অর্থে নজর কাড়া। সময়ের পরিক্রমায় তিনি এখন দেশের সেরা পেসারদের একজন। দলের ভেতর তাকে নেতৃত্বস্থানীয় হিসেবেও দেখেন টেইট।

“ও এই দলের মধ্যে একজন নেতা হয়ে উঠেছে। শুধু ফাস্ট বোলারদের নয়, সবাই ওকে নেতার দৃষ্টিতেই দেখে। ওর সঙ্গে কাজ করতে উপভোগ করি আমি। ওর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা অনেক বছর আগে। এখন বাংলাদেশ দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার ও। ওর মতো একজনকে স্কোয়াডে পাওয়া দারুণ।”

একটা সময় ছিল, তাসকিনের মানের কেউ দলে না থাকলে হাহাকার পড়ে যেত। সেসব দিন এখন অতীত। তাসকিন ছাড়াও আরও কয়েক পেসার আছেন স্কোয়াডের বাইরে, যারা অনায়াসেই জাতীয় দলে খেলার মতো। পেস বোলিংয়ে এত বেশি বিকল্প থাকা দলের জন্য দারুণ বলে মনে করেন বোলিং কোচ।।

“ক্রিকেটার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে যখন অনেক বিকল্প থাকে, সবসময়ই তা ভালো। এটা আমি আগেও বলেছি, বাংলাদেশের ক্রিকেটে সম্ভবত এই প্রথম এতগুলো উঁচু মানের ফাস্ট বোলার থেকে বেছে নেওয়া সুযোগ আছে এবং দারুণ ইতিবাচক তা। প্রতিটি ফাস্ট বোলারই জানে, আরেকজন আশেপাশেই আসে। সামগ্রিক মানটাও তাতে বাড়ে এবং আশা করি, পারফরম্যান্সও উঁচুতে তুলে নেবে।”

“আমাদেরকে যদি স্রেফ দুজন ফাস্ট বোলার থেকে বেছে নিতে হতো, ব্যাপারটি ভিন্ন হতো। কিন্তু আমাদের অনেক বিকল্প আছে। এখানে তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক।”

এই সিরিজের পর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্রিকেট ব্যস্ত থাকবে বিপিএলে। বিশ্বকাপের আগে লম্বা টুর্নামেন্টে পেসারদের চোট-শঙ্কাও থাকবে কিছু। তবে পেস বোলিং কোচ দেখছেন ইতিবাচক দিকটিই। 

 “চোট নিয়ে আমি শঙ্কিত নই। এটা তো আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। বিপিএলের ভালো ব্যাপার হলো, ক্রিকেটাররা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট খেলবে। বিশ্বকাপের যা খুব ভালো ব্যাপার। চোট তো যে কোনো সময় যে কারও হতে পারে।”