২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ফিলিপসের আরেকটি অবিশ্বাস্য ক্যাচ, ৩০০তম ম্যাচে হতবাক কোহলি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচে অসাধারণ ক্যাচে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বিদায় করা গ্লেন ফিলিপস একইরকম আরেকটি ক্যাচ নিয়ে থামিয়ে দিয়েছেন ৩০০তম ম্যাচ খেলতে নামা ভিরাট কোহলিকে।

ফিলিপসের আরেকটি অবিশ্বাস্য ক্যাচ, ৩০০তম ম্যাচে হতবাক কোহলি
গ্লেন ফিলিপসের ক্যাচে আউট হলেন ভিরাট কোহলি। ছবি: ভিডিও থেকে।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Mar 2025, 04:20 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:34 PM

ভিরাট কোহলির যেন পলক পড়ছিল না। স্থির তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। চোখেমুখে ফুটে উঠছিল, তিনি বিশ্বাসই করতে পারছেন না। একটু পর মৃদু হেসে হাঁটা দিলেন ড্রেসিং রুমের পথে। টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ল, গ্যালারিতে বসে অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে মাথায় হাত দিলেন কোহলির স্ত্রী বলিউড তারকা আনুশকা শার্মা।

ক্যাচ নেওয়ার পর গ্লেন ফিলিপপের উদযাপনে মিশে থাকল নিজের ওপর প্রবল বিশ্বাসের ছাপ। যেন বোঝাতে চাইলেন, ‘এ আর এমন কী, এরকম ক্যাচ তো নিয়মিই নিয়ে থাকি!’

ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে ফিলিপসকে মজা করে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, হাতে আঠা লাগিয়ে তিনি মাঠে নামেন কি না, এমন অবিশ্বাস্য সব ক্যাচ যেভাবে নেন! নিউ জিল্যান্ডের অলরাউন্ডার সেটি হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এরকম ক্যাচ যখন তিনি এতটা ঘনঘন নেন, বিভ্রমও জেগে ওঠে।

ফিলিপসের তেমন একটি ক্যাচই তিনশতম ওয়ানডেতে কোহলিকে থামিয়ে দিয়েছে স্রেফ ১১ রানে।

দুবাইয়ে রোববার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের সপ্তম ওভারের ঘটনা সেটি। ম্যাট হেনরির ডেলিভারি ছিল স্টাম্পের বেশ বাইরে। মারার মতোই বল এবং আগের বলে বাউন্ডারি মারা কোহলি আবার ব্যাট চালিয়ে দেন সজোরে। বল ছুটে যাচ্ছিল গুলির বেগে।

কিন্তু পয়েন্টে যে দাঁড়িয়ে ফিলিপস! চোখের পলকে গোটা শরীর শূন্যে ভাসিয়ে চোখধাঁধানো ক্ষিপ্রতায় ডান দিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে বল মুঠোয় জমান তিনি। বল অনেকটা পেছনেই চলে গিয়েছিল তার। ছোবল দিয়ে সেটিকেই ক্যাচে পরিণত করেন ২৮ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। 

টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেও প্রায় একই পজিশনে অনেকটা একইরকম ক্যাচ নিয়ে ফিলিপস বিদায় করেছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। সেই ক্যাচেও হতভম্ব হয়ে ক্রিজে দাঁড়িয়ে ছিলেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান। 

শুধু এই দুটিই নয়, দুর্দান্ত সব ক্যাচ, দারুণ গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ের প্রদর্শনী তিনি নিয়মিতই মেলে ধরেন সব সংস্করণে। অথচ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুর সময়টায় তিনি ছিলেন কিপার-ব্যাটসম্যান। নিয়মিতই কিপিং করতেন তিনি। 

সেই ফিলিপস পরে কিপিং ছেড়ে শুরু করেন বোলিং। অফ স্পিনে হাত পাকিয়ে নেন। এখন এতটাই কার্যকর বোলার যে, সব সংস্করণেই নিয়মিত বোলিং করেন। স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে টেস্ট খেলছেন একের পর এক। তার ফিল্ডিং তো বিস্ময়ের খোরাক জোগায় প্রায়ই। বৃত্তের ভেতরে হোক বা সীমানায়, মাঠের যে কোনো জায়গায় তার জুড়ি মেলা ভার। অনেকের চোখেই তিনি বিশ্বের সেরা ফিল্ডার। 

এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি সেই ধারণাকেই পোক্ত করছে আরও।