১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্র্যাডম্যান-ওয়ার্নদের সঙ্গী এবার ক্লার্ক

মাত্র ষষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে এই সম্মান পেলেন ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাবেক এই ব্যাটার।

ব্র্যাডম্যান-ওয়ার্নদের সঙ্গী এবার ক্লার্ক
২০২৩ সালে বেলিন্ডা ক্লার্কের ভাস্কর্য উন্মোচন করা হয় সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। ছবি: ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Aug 2025, 11:55 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:11 PM

ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান কে? প্রশ্নটি শুনলে অনেকেই ধন্দে পড়ে যান, কেউ কেউ বলেন সাচিন টেন্ডুলকারের নাম। আদতে ছেলে-মেয়ে মিলিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটকে প্রথম দ্বিশতক উপহার দিয়েছিলেন বেলিন্ডা ক্লার্ক। সেটিই অবশ্য তার একমাত্র পরিচয় নয়। মাঠে ভেতরে গড়েছেন আরও অনেক কীর্তি, মাঠের বাইরে ছাপ রেখে চলেছেন এখনও। রাঙিয়ে চলার পথ ধরে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক এবার পেলেন কিংবদন্তির আনুষ্ঠানিক এক স্বীকৃতি।

স্পোর্ট অস্ট্রেলিয়া ‘হল অব ফেম’-এ আগেই জায়গা পেয়েছিলেন ক্লার্ক। এবার তাকে উন্নীত করা হলো ‘লেজেন্ড’ মর্যাদায়। 

অস্ট্রেলিয়ার সব খেলার গ্রেটরা জায়গা পান এই হল অব ফেম-এ। সেই গ্রেটদের ভেতরেও যারা নিজেদের আলাদা করে তোলেন নানা কীর্তিতে, তাদের সম্মানিত করা হয় ‘লেজেন্ড’ খেতাবে।

এখনও পর্যন্ত ৫৩ জন ক্রীড়াবিদ এই স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ষষ্ঠ ক্রিকেটার ক্লার্ক। শুরুটা হয়েছিল সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান স্যার ডন ব্র্যাডম্যানকে দিয়ে। পরে এই তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার বলে বিবেচিত কিথ মিলার, অস্ট্রেলিয়ার সেরা অধিনায়কদের একজন ও কিংবদন্তি ধারাভাষ্যকার রিচি বেনো, পেস বোলিং গ্রেট ডেনিস লিলি ও লেগ স্পিনের জাদুকর শেন ওয়ার্ন।

মেয়েদের ক্রিকেটে ক্লার্ক সর্বকালের সেরা ব্যাটার ও অধিনায়কদের একজন। ১১৮ ওয়ানডে খেলে ৪৭.৪৯ গড়ে তার রান ৪ হাজার ৮৪৪, ১৮ টেস্টে রান ৪৫.৯৫ গড়ে ৯১৯। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছেন ১৯৯১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত। 

মাত্র ২৩ বছর বয়সে জাতীয় দলের নেতৃত্ব পান তিনি। তার অধিনায়কত্বে ১০১ ওয়ানডের ৮৩টিই জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। অধিনায়ক হিসেবে দুইবার উঁচিয়ে ধরেছেন বিশ্বকাপ ট্রফি। ১৯৯৭ বিশ্বকাপে ডেনমার্কের বিপক্ষে খেলেছিলেন ১৫৫ বলে ২২৯ রানের সেই বিখ্যাত ইনিংসটি।

খেলা ছাড়ার পর প্রশাসক হিসেবেও তিনি আপন আলোয় উজ্জ্বল। বিশেষ করে নারী ক্রিকেটের অগ্রযাত্রায় তার ভূমিকা অসামান্য। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার উইমেন’স উইংয়ের প্রধান নির্বাহী ও নানা ভূমিকায়কাজ করেছেন ১৫ বছর। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট প্রশাসনে নানা ভূমিকা পালন করার পাশাপাশি আইসিসি উইমেন’স কমিটিতেও তিনি রেখেছেন অবদান। 

২০১১ সালে স্পোর্ট অস্ট্রেলিয়ার হল অব ফেম-এ জায়গা পান ক্লার্ক। ওই বছর তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় আইসিসি হল অব ফেম-এও। 

এবার এই স্বীকৃতি পেয়ে ৫৪ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেটার উচ্ছ্বসিত ও অভিভূত। 

“স্পোর্ট অস্ট্রেলিয়ার হল অব ফেম-এ কিংবদন্তির মর্যাদা পাওয়াটা অবিশ্বাস্য সম্মানের। বিস্ময়, কৃতজ্ঞতা ও গর্বের মিশ্র অনুভূতি হচ্ছে আমার। আমি খেলেছি একটি দলীয় খেলা এবং সবচেয়ে বড় সত্যি হলো, পুরো দলের সহায়তা ও নিবেদন ছাড়া এখানে কোনো কিছুই অর্জন করা যায় না। আশা করি, আমার সতীর্থরা, কোচরা, সাপোর্ট স্টাফরা এবং প্রশাসক যারা ছিলেন, সবাই নিজেদেরকে আমার এই স্বীকৃতির অংশ মনে করবেন।”

“পেশাদারিত্বের দিক থেকে খেলাটা এখন যে জায়গায় যাচ্ছে, তাতেও আমি গর্বিত। ন্যায্যতার যে স্বপ্ন আমরা দেখেছি সবসময়, সেই পথ এখন গতিময় এবং অনেক পথের যদিও এখনও বাকি, ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আশাবাদী।”

২০২৩ সালে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের আঙিনায় ক্লার্কের একটি ভাস্কর্য উন্মোচন করা হয়েছিল। বিশ্ব ক্রিকেটেই প্রথম নারী ক্রিকেটার তিনি, যাকে সম্মান জানানো হয়েছে ভাস্কর্য গড়ে।