লর্ডসেও পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে সিরিজ জয় ইংল্যান্ডের
বড় রান তাড়ায় সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৯৭ রানে আউট হলেন সাউদ শাকিল, প্রায় দুই বছর পর টেস্ট সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড।
ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ হয়ে যায় পাকিস্তানের রান তাড়ার শুরুতেই। বিপর্যয়ের মুখে উইকেটে গিয়ে দারুণ ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগালেন সাউদ শাকিল। কিন্তু তিন রানের জন্য ছুঁতে পারলেন না কাঙ্ক্ষিত মাইলফলক। বোলারদের চমৎকার পারফরম্যান্সে আরেকটি বড় জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড।
লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ডের জয় ১৯৪ রানে। চার দিনে দ্বিতীয় টেস্ট জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে জো রুটের দল এগিয়ে গেল ২-০ ব্যবধানে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর এই প্রথম একাধিক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড।
এই সফর জুড়েই পাকিস্তানের ব্যাটিং শোচনীয়। এবারও খুব একটা উন্নতি হয়নি। ৩৮৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় সিরিজে টানা চতুর্থবার দুইশর নিচে আটকে যায় সফরকারীরা। আগের তিন ইনিংসে ১৭১, ১৩৫, ১১০ রান করা দলটি এবার থামে ১৯৪ রানে।
প্রথম দিন ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পাওয়া ওপেনার ইমাম-উল-হাক দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিংয়ে নামেননি।
সিরিজে আগের তিন ইনিংসে ৫, ১৪ ও ১৬ রান করা শাকিল এবার ১২২ বলে করেন ৯৭। ১৩ চার ও দুই ছক্কায় গড়া বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ইনিংসটি।
ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ স্কোর এটি। ২০১০ সালে লর্ডসেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সালমান বাটের ৯২ ছিল আগের সর্বোচ্চ।
প্রথম ইনিংসে ১১ রানে ৪ উইকেট নেওয়া অলি রবিনসন এবার ২৪ রানে নেন ৪টি। টানা দ্বিতীয় টেস্টে ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ তিনিই।
সিরিজে দুই ম্যাচে ৩২ বছর বয়সী এই পেসারের উইকেট হলো ১৬টি।
আগের দিনের ৭ উইকেটে ১৭৭ রানের সঙ্গে ৩১ রান যোগ করে রোববার ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ২০৮ রানে। প্রথম ইনিংসের ১৮০ রানের লিড মিলিয়ে পাকিস্তানকে বড় লক্ষ্য দিতে পারে তারা।
পরপর দুই ওভারে ড্যান লরেন্স (৫৪) ও রবিনসনকে আউট করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন মোহাম্মাদ আব্বাস। লর্ডসে নিজের আগের তিন ইনিংসে চারটি করে উইকেট নেওয়ার পর অবশেষে অনার্স বোর্ডে নাম লেখাতে পারলেন ৩৬ বছর বয়সী পেসার। ক্রিকেট তীর্থে ম্যাচে ৯ উইকেট নেওয়া পাকিস্তানের প্রথম পেসার তিনি।
লর্ডসে ৩৪২ রানের বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি কোনো দল। ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ স্কোর ২০১০ সালে এই মাঠেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৮৯।
রেকর্ড গড়ার চ্যালেঞ্জে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ে বাবর আজমের দল। ১৪ রানের মধ্যে তারা হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট।
এ দিনও উইকেটে ছিল যথেষ্ট মুভমেন্ট, সেটা দারুণভাবে কাজে লাগান রবিনসন। একই ওভারে আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ শাফিককে বিদায় করে দেন তিনি। ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হন আওয়াইস। আরেকটি চমৎকার ডেলিভারিতে বোল্ড হন শাফিক।
জফ্রা আর্চার ভয়ঙ্কর এক বাউন্সারে বিদায় করেন বাবরকে। হাতের চোটের কারণে প্রথম টেস্টে খেলতে না পারা পাকিস্তান অধিনায়ক ফেরার ম্যাচে কোনো ইনিংসেই দুই অঙ্কে যেতে পারলেন না।
এরপরই পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন শাকিল। ইংলিশ পেসারদের তোপ সামলে শান মাসুদকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন তিনি। লাঞ্চ বিরতির আগে আর কোনো উইকেট হারায়নি পাকিস্তান।
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে শাকিল ফিফটি করেন ৫৫ বলে। মাঝে বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায় কিছুক্ষণের জন্য।
মাসুদকে এলবিডব্লিউ করে ৯৭ রানের জুটি ভাঙেন রবিনসন। তার পরের ওভারে বাজে শট খেলে উইকেট বিলিয়ে দেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।
টেল-এন্ডারদের নিয়ে সেঞ্চুরির জন্য ছুটতে থাকেন শাকিল। শর্ট বল ভালোভাবেই খেলছিলেন তিনি। জশ টাংয়ের পাঁচ বলের মধ্যে দুই ছক্কা ও এক চারে পৌঁছে যান ৯৬ রানে। পরের ওভারে নেন একটি রান। কিন্তু টাংয়ের পরের ওভারে শর্ট বলেই সীমানায় ধরা পড়েন তিনি।
টাং পরের দুই ওভারে আরও দুটি উইকেট নিয়ে ইতি টেনে দেন ম্যাচের।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হবে তৃতীয় টেস্ট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৯০
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ১১০
ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৫৪.২ ওভারে ২০৮ (আগের দিন ১৭৭/৭ (লরেন্স ৫৪, রবিনসন ৮, আর্চার ২*, টাং ১২; আব্বাস ২২-৩-৫৭-৫, শাহজাদ ১৪-৩-৫৬-২, আলি ১৬.২-১-৭০-২, উসমান ২-০-১৭-০)
পাকিস্তান ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৩৮৯) ৫০.৫ ওভারে ১৯৪ (মাসুদ ২৬, আওয়াইস ৬, শাফিক ০, বাবর ৬, শাকিল ৯৭, রিজওয়ান ১, উসমান ১৬, শাহজাদ ৯, আব্বাস ১৩*, আলি ৮*; রবিনসন ১৪-৫-২৪-৪, আর্চার ১৫-১-৭৩-২, টাং ৮.৫-১-৪৬-৩, অ্যাটকিনসন ১১-২-৪১-০, লরেন্স ২-২-০-০)
ফল: ইংল্যান্ড ১৯৪ রানে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-০তে এগিয়ে ইংল্যান্ড
ম্যান অব দা ম্যাচ: অলি রবিনসন
