অভিষেকে নজর কাড়লেন ইংল্যান্ডের ‘নতুন জফ্রা আর্চার’
‘নতুন জফ্রা আর্চার’ বলে পরিচিতি পেয়ে যাওয়া তরুণ পেসার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকেই উপহার দিলেন দুর্দান্ত প্রথম স্পেল।
চোট জর্জরিত ক্যারিয়ারে সম্ভাবনার পূর্ণতা দেওয়ার পথে ছুটতেই পারছেন না জফ্রা আর্চার। দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে এখন তিনি আরেক দফা ফেরার লড়াইয়ে আছেন। এর মধ্যেই দৃশ্যপটে আবির্ভাব হয়ে গেল আরেক আর্চারের। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকেই সাড়া জাগালেন চে সিমন্স, বেশ আগে থেকেই ইংলিশ ক্রিকেটে যার পরিচিতি ‘নতুন জফ্রা আর্চার’ হিসেবে।
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে এসেক্সের বিপক্ষে চেমসফোর্ডে শনিবার ১৫ বলের মধ্যে তিন উইকেট শিকার করেন সিমন্স। ২০ বছর বয়সী পেসারের প্রথম স্পেল ছিল ৬-২-১০-৩!
বোলিংয়ের ধরনে মিল তো আছেই, আর্চারের সঙ্গে সিমন্সকে মেলানোর বড় কারণ তার জীবনের পথচলাও। আর্চারের মতোই বারবাডোজে জন্ম ও বেড়ে ওঠা সিমন্সের। বারবাডোজের অনূর্ধ্ব-১৫ দলেও তিনি খেলেছেন। ফ্র্যাঙ্কলিন স্টিভেনসন একাডেমির হয়ে এক ম্যাচে স্রেফ ৫.৩ ওভারে প্রতিপক্ষের ১০ উইকেটের সবকটিই শিকার করে আলোচনার জন্ম দেন।
ইংলিশ ক্রিকেটে সিমন্স প্রথম খবরের শিরোনামে উঠে আসেন ২০২০ সালে, যখন তাকে চুক্তিবদ্ধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে ওয়ারউইকশায়ার। কাউন্টি দলটির সেই সময়ের ক্রীড়া পরিচালক পল ফারব্রেসকে সিমন্সের প্রতিভার কথা জানান ওটিস গিবসন। গিবসন তখন বাংলাদেশের বোলিং কোচ। বারবাডোজের সাবেক এই ক্রিকেটার জানতেন সিমন্সের কথা।
গিবসনই ব্যবস্থা করে দেন ওয়ারউইকশায়ারের দ্বিতীয় একাদশে সিমন্সকে ট্রায়াল দেওয়ার। সেই সময়ের ১৭ বছর বয়সী ফাস্ট বোলার ট্রায়ালে মুগ্ধতা ছড়ানোর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তাকে চুক্তিবদ্ধ করার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে স্কলারশিপের ব্যবস্থাও করে ওয়ারউইকশায়ার।
বাবার সূত্রে ব্রিটিশ পাসপোর্ট তার ছিল আগে থেকেই। আর্চারের মতোই আরও একটি পেস প্রতিভা হারায় ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট। মসৃণ অ্যাকশনের গতিময় পেসার এখন ইংল্যান্ডর ভবিষ্যৎ!
বাংলাদেশ ছেড়ে গিবসন ওয়ারউইকশায়ারের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর তার তত্ত্বাবধানেই চলতে থাকে সিমন্সের পথচলা। এবার অভিষেকও হয়ে গেল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এবং ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের।
