Published : 30 May 2025, 11:12 AM
সপ্তম বাংলাদেশি হিসেবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্ট জয়ের নতুন রেকর্ড গড়ায় ইকরামুল হাসান শাকিলকে সংবর্ধনা দিয়েছে ‘সি টু সামিট’ জয়ের প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রাণ।
সেখানে অভিযানের দুঃসহ দিনগুলোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শাকিল বলেন, “অনিশ্চয়তার দীর্ঘ পথ, খুম্বু আইসফল, লোৎস ফেস, সাউথ কল, হিলারি স্টেপ- প্রতিটি জায়গা যেন একেকটা মানসিক যুদ্ধক্ষেত্র, সাথে মৃত্যুর চোখরাঙানি।
“অক্সিজেনশূন্য উচ্চতায় কৃত্রিম অক্সিজেন মাস্কবদ্ধ মুখে প্রতিবারই মনে হয়েছে, আর পেরে উঠব না। কিন্তু হৃদয়ে থাকা বাংলাদশের নাম আর ‘সি টু সামিট’ অভিযানের অঙ্গীকার আমাকে এগিয়ে যেতে বাধ্য করেছে।"
নেপালের স্থানীয় সময় গত ১৯ মে ভোরে শাকিল চূড়ায় পৌঁছান বলে তার ফেইসবুক পেইজে জানানো হয়েছিল। এর আগ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের ইনানি সমুদ্র সৈকত থেকে পায়ে হেঁটে সামিট জয়ের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করেন তিনি।
কক্সবাজার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে পায়ে হেঁটে ৮৪ দিনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহন করেন শাকিল।
এই বাংলাদেশি ৯০ দিনের মধ্যে সামিট জয়ের লক্ষ্য ঠিক করলেও তা ৮৪ দিনেই সম্পন্ন করেছেন। তাতে অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যাকার্টনির রেকর্ড ভাঙার স্বপ্নও পূরণ হয়েছে শাকিলের। ম্যাকার্টনি ১৯৯০ সালে তিন মাসের বেশি সময় নিয়ে ভারতের গঙ্গা সাগর থেকে পদযাত্রা করে এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছিলেন।
বৃহস্পতিবার নেপাল থেকে দেশে ফেরার পরপরই প্রাণের পক্ষ থেকে সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে শাকিলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রাণ জানিয়েছে, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এভারেস্ট জয়ের সফলতার পেছনে লুকিয়ে থাকা গল্পগুলো তুলে ধরেন শাকিল।
এ ধরনের অভিযানে অর্থায়নে গুরুত্বারোপ করে শাকিল বলেন, “আমাদর দেশে প্রচলিত খেলাধুলার বাইরে এভারেস্ট জয়ের মতো বিষয়গুলাতে প্রয়াজনীয় অর্থায়ন পাওয়া সবসময় দুঃসাধ্য। অনেক তরুণ আছেন, যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের হয়ে অর্জন আনতে চান। তবে অর্থায়নের অভাবে আর হয়ে উঠে না। প্রধান পৃষ্ঠপোষকের সমর্থন ছাড়া এত বড় অভিযান সম্পন্ন করা আমার পক্ষে হয়ত সম্ভব হত না। এজন্য প্রাণের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
শাকিল পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও মাউন্টেইনিয়ারিং ক্লাবের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
প্রাণ গ্রপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা বলেন, “আমরা শাকিলের বিশ্বরেকর্ড গড়ার অদম্য ইছা পূরণ করতে এবং দেশের হয়ে এমন অর্জনের অংশীদার হতে চেয়েছিলাম। বাংলাদেশের পতাকা পৃথিবীর সর্বোচ্চ বিন্দুর উপর উড়ছে, আর সেখান প্রাণ জড়িয়ে রয়েছে এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই।"
শাকিলর ‘সি টু সামিট’ অভিযানের আয়োজক বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্র্যাকিং ক্লাব (বিএমটিসি)। স্ন্যাকস পার্টনার প্রাণের ‘মিস্টার নুডলস'।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পরিব্রাজক ও বিএমটিসির সদস্য অনু তারেক এবং মিস্টার নুডলসের মহাব্যবস্থাপক তোষণ পাল উপস্থিত ছিলেন।